ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বগুড়ায় মৃত্যুকূপের সন্ধান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রায় ৪০ ফিট খননের পর বগুড়ার মৃত্যুকূপ থেকে মিলেছে মানুষের কংকাল সহ নানা ধরনের আলামত। গত ১৪ ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুৃদ্ধের দলিল পত্রে উল্লেখিত বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের এসডিও বাংলোর ভরাট হয়ে যাওয়া কূপটি খননের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। ৬ জানুয়ারি বিকেলে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী। খনন কাজের তৃতীয় দফায় মিলেছে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের গাড়-গোর, কাপড়, মাথার চুল, বন্ধনিসহ ইলেক্ট্রিক তার।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তররা বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন একাধিক মানুষের এসব হাড়ের ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যাবে বয়স, মৃত্যুর সময়সহ অন্যান্য বিষয়গুলো। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে পাওয়া যায় এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।

সেখানে প্রত্যদর্শী তৎকালীন রেলওয়ের কর্মচারি দাশিন জামাদারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় রেলওয়ের এই এসডিও বাংলোটি ছিলো পাকিস্তানিদের টর্চার সেল। বর্বর নিপীড়ন চালিয়ে সেই সেলে প্রতিদিন খুন করা হতো অসংখ্য মানুষকে। এরপর তাদের মরদেহ ফেলা হতো বাংলোর ভেতরে থাকা ওই কূপ ও বাংলোর আশপাশে। কমপক্ষে ৫০০ মানুষকে হত্যার পর কূপটিতে ফেলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে।

জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী জানান , বগুড়া পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ৪০ ফিটের পর পানি চলে আসায় আর সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। আর তাই ফরেনসিক রিপোর্টের পর তিনি মুক্তিযদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতা চাইবেন এবং বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে খনন কাজ অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডাঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সামির হোসেন মিশু, পৌর মেয়র এ্যাড. মাহবুবুর রহমানসহ আরো অনেকে।

স্থানীয় যুবক আকবর আহমেদের গবেষনার সূত্র ধরে ৪৬ বছর আলোচনার বাইরে থাকা এবিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ায় মৃত্যুকূপের সন্ধান

আপডেট সময় ১১:১৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রায় ৪০ ফিট খননের পর বগুড়ার মৃত্যুকূপ থেকে মিলেছে মানুষের কংকাল সহ নানা ধরনের আলামত। গত ১৪ ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুৃদ্ধের দলিল পত্রে উল্লেখিত বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের এসডিও বাংলোর ভরাট হয়ে যাওয়া কূপটি খননের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। ৬ জানুয়ারি বিকেলে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী। খনন কাজের তৃতীয় দফায় মিলেছে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের গাড়-গোর, কাপড়, মাথার চুল, বন্ধনিসহ ইলেক্ট্রিক তার।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তররা বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন একাধিক মানুষের এসব হাড়ের ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যাবে বয়স, মৃত্যুর সময়সহ অন্যান্য বিষয়গুলো। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খন্ডে পাওয়া যায় এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।

সেখানে প্রত্যদর্শী তৎকালীন রেলওয়ের কর্মচারি দাশিন জামাদারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় রেলওয়ের এই এসডিও বাংলোটি ছিলো পাকিস্তানিদের টর্চার সেল। বর্বর নিপীড়ন চালিয়ে সেই সেলে প্রতিদিন খুন করা হতো অসংখ্য মানুষকে। এরপর তাদের মরদেহ ফেলা হতো বাংলোর ভেতরে থাকা ওই কূপ ও বাংলোর আশপাশে। কমপক্ষে ৫০০ মানুষকে হত্যার পর কূপটিতে ফেলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে।

জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী জানান , বগুড়া পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ৪০ ফিটের পর পানি চলে আসায় আর সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। আর তাই ফরেনসিক রিপোর্টের পর তিনি মুক্তিযদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতা চাইবেন এবং বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে খনন কাজ অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডাঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সামির হোসেন মিশু, পৌর মেয়র এ্যাড. মাহবুবুর রহমানসহ আরো অনেকে।

স্থানীয় যুবক আকবর আহমেদের গবেষনার সূত্র ধরে ৪৬ বছর আলোচনার বাইরে থাকা এবিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের।