অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকা থেকে গোপন সংবাদে কোতোয়ালি পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেসরকারি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অলিলা গ্লাসের চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ পণ্য সামগ্রীসহ প্রতিষ্ঠানের দুই অসৎ কর্মকর্তাকে আটক করেছে।
শুক্রবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ মাঠে নামে। দীর্ঘদিন যাবৎ কোম্পানির সামগ্রী (গ্লাস) শহরস্থ গেরদা ইউনিয়নের মামুদপুর এলাকার ডিপো থেকে উধাও হয়ে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ফরিদপুর শাখায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছিল। গোপন তথ্যে প্রতিষ্ঠানরে মালিক জানতে পারেন তারই অফিসের দুই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকার গ্লাস ওয়্যার পণ্য গোপনে সরিয়ে ফেলে বাইরে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। তারই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের এই অভিযান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, অলিলা গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড ফরিদপুর ডিপো থেকে দীর্যদিন ধরে ডিপোর দুই কর্মকর্তা অসৎ উপায়ে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে লাভবান হয়ে আসছিল। বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটি ফরিদপুর জেলায় বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসান গুনে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ তদন্ত করে দেখেন যে, এই শাখায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অফিসিয়াল বোর্ড মিটিংয়ের পর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন।
তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজার (ডিস্ট্রিবিউশন) এ.কে.এম ফকরুল ইসলাম ৫ জানুয়ারি ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ ৬ জানুয়ারি তদন্ত সাপেক্ষে শহরের আলিপুর এলাকা থেকে কোম্পানির খোয়া যাওয়া বিপুল পরিমাণ পণ্য সামগ্রীসহ ফরিদপুর শাখার ডিপো ইনচার্জ মো. সাহাবুল হক ও রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামানকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার মামুদপুর এলাকার অলিলা গ্লাসের ডিপো থেকে বেশ কিছুদিন যাবৎ কোম্পানির মালামাল চুরি করে বিক্রি করে আসছিল ডিপো ইনচার্জ মাদারীপুর জেলার চিরাইপাড়া গ্রামের মো. সাহাবুল হক ও কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার চুয়াডাঙ্গা জেলার কুতুবপুর গ্রামের মো. কামরুজ্জামান।
সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি বুধবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে মামুদপুরের ডিপো হতে ওই দুই অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে দুইটি পিকআপ ভর্তি গ্লাস ওয়্যার পণ্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়। বিষয়টি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হলে তাৎক্ষণিক ঢাকা হতে অডিট টিম ফরিদপুর এসে সত্যতা নিশ্চিত করে এবং থানায় অভিযোগ করেন।
কোম্পানির পক্ষ হতে শক্রবার ৫ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ বিষয়টি তৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে। শনিবার সকালে অভিযুক্তদের বাসা হতে প্রায় ৫০ কাটুন কাচের জিনিসপত্র উদ্ধার করে। পরে অভিযুক্ত মো. সাহাবুল হক ও কামরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুর রহমান বলেন, অলিলা গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ হতে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করলে প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। আটকদের স্বীকারক্তি অনুযয়ী তাদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























