ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শহরের নাম সান্তা ক্লজ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

লাল টুসটুসে তার গাল আর ধবধবে সাদা লম্বা দাড়ি। পরনে পা থেকে মাথা পর্যন্ত লাল রঙের স্যুট। বিশাল বপু জুড়ে কালো রঙের বেল্ট। ক্রিসমাসের মৌসুম এলেই পশ্চিমা বিশ্বে সান্তা ক্লজের এমন প্রতিকৃতি দেখা যায় প্রায় সবখানে।

বিবিসির জানায়, পশ্চিমা লোক কাহিনিতে ক্রিসমাসে সান্তা ক্লজ সবার জন্য উপহার নিয়ে আসেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে রয়েছে এমন এক শহর যার নাম ‘সান্তা ক্লজ টাউন’। সেখানে বছরে অন্তত ২০ হাজার চিঠি আসে সান্তা ক্লজের নামে।

কেমন সে শহর?

সান্তা ক্লজ শহরে যেন সারা বছরই ক্রিসমাস। শহরের সীমানা যেখানে শুরু সেখানে সান্তা ক্লজের বিশাল আকারের একটি ভাস্কর্য। একই রকম ভাস্কর্য রয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে।

এখানকার মূল রাস্তার নাম ক্রিসমাস বুলোভার্ড। ক্রিসামসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লোক কাহিনিতে যেসব চরিত্র রয়েছে সেগুলোর নামে রয়েছে শহরের আরও অনেক কিছু। যেমন রুডলফ লেন, ক্রিসমাস লেক।

শহরের সান্তা ক্লজ যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা প্যাট কুক বলছেন, সান্তা ক্লজের নামে শহরটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার চিঠি আসে। প্রেরকের কাছে সেগুলোর উত্তরও পৌঁছে যায়।

নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্যাট কুক ও তার শ’দুয়েক স্বেচ্ছাসেবী এসব চিঠির জবাব দেন।

পশ্চিমা লোক কাহিনিতে ক্রিসমাসে সান্তা ক্লজ সবার জন্য উপহার নিয়ে আসেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। সেই উপহার পেতে হলে সারাবছর দুষ্টুমি থেকে দূরে থাকতে হবে।

‘যেমন ধরুন সারা বছর ভালো হয়ে চলার জন্য আমরা ধন্যবাদ দেই। স্কুলে ভালো করে পড়াশোনা করার জন্য, অথবা ভাইবোনের সঙ্গে ঝগড়া না করার উপদেশ দেই। ছোট শিশুদের যেসব উপদেশ বাণী দেয়া হয়, সেগুলো আর কি। ওদেরকে একটু জানানো যে সান্টা তাদের চিঠিটি পড়েছেন’- বলছেন প্যাট কুক।

চিঠির উত্তর লেখার দায়িত্ব যেমন স্বেচ্ছাসেবীরাই নিয়ে থাকেন, তেমনি এর খরচও চলে মূলত দানের অর্থে। শহরের বাসিন্দা মোটে দু’হাজার। কিন্তু শহরটিতে সারা বছর জুড়ে বেড়াতে আসেন অনেক লোক। ছয়ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে মিসিসিপি থেকে এসেছেন আর্মস্ট্রং পরিবার।

‘ক্রিসমাসে কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায় সে নিয়ে আমরা গবেষণা করছিলাম। আমরা ক্রিসমাসে কোথাও না কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করি। ফেইসবুকে হঠাৎ একটা আর্টিকেল দেখলাম যেখানে লেখা ছিল পরিবার নিয়ে ক্রিসমাসে বেড়াতে যাওয়ার সেরা দশটি জায়গা কোনগুলো। এভাবেই বুদ্ধিটা পেলাম। ঐ তালিকায় যে স্থানগুলোর নাম ছিল তার মধ্যে এই শহরটিই আমাদের সবচাইতে কাছে।’

কিভাবে নাম হল সান্তা ক্লজ শহরের?

১৮৫৫ সাল পর্যন্ত শহরটির নাম ছিল সান্তা ফি। সেসময় শহরটিতে একটি নতুন পোস্ট অফিস চালু করতে গিয়ে জানা গেলো আরও এক শহরের নাম সান্তা ফে। চিঠি পাওয়ার ঝামেলা এড়ানোর জন্য তখন নাম না বদলে আর উপায় ছিল না।

তবে শহরের বাসিন্দারা সান্তা ক্লজ নামটি ঠিক কিভাবে বেছে নিলেন, সেই গল্পের কতটুকু বাস্তব আর কতটুক আসলেই গল্প – সেটি এত দিন পর নিশ্চিত জানা যায় না। এখানে আসা বহু চিঠির খামে শুধু সান্তা ক্লজের নামটাই লেখা থাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ডলারের দামে নতুন রেকর্ড

শহরের নাম সান্তা ক্লজ

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

লাল টুসটুসে তার গাল আর ধবধবে সাদা লম্বা দাড়ি। পরনে পা থেকে মাথা পর্যন্ত লাল রঙের স্যুট। বিশাল বপু জুড়ে কালো রঙের বেল্ট। ক্রিসমাসের মৌসুম এলেই পশ্চিমা বিশ্বে সান্তা ক্লজের এমন প্রতিকৃতি দেখা যায় প্রায় সবখানে।

বিবিসির জানায়, পশ্চিমা লোক কাহিনিতে ক্রিসমাসে সান্তা ক্লজ সবার জন্য উপহার নিয়ে আসেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে রয়েছে এমন এক শহর যার নাম ‘সান্তা ক্লজ টাউন’। সেখানে বছরে অন্তত ২০ হাজার চিঠি আসে সান্তা ক্লজের নামে।

কেমন সে শহর?

সান্তা ক্লজ শহরে যেন সারা বছরই ক্রিসমাস। শহরের সীমানা যেখানে শুরু সেখানে সান্তা ক্লজের বিশাল আকারের একটি ভাস্কর্য। একই রকম ভাস্কর্য রয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে।

এখানকার মূল রাস্তার নাম ক্রিসমাস বুলোভার্ড। ক্রিসামসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লোক কাহিনিতে যেসব চরিত্র রয়েছে সেগুলোর নামে রয়েছে শহরের আরও অনেক কিছু। যেমন রুডলফ লেন, ক্রিসমাস লেক।

শহরের সান্তা ক্লজ যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা প্যাট কুক বলছেন, সান্তা ক্লজের নামে শহরটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার চিঠি আসে। প্রেরকের কাছে সেগুলোর উত্তরও পৌঁছে যায়।

নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্যাট কুক ও তার শ’দুয়েক স্বেচ্ছাসেবী এসব চিঠির জবাব দেন।

পশ্চিমা লোক কাহিনিতে ক্রিসমাসে সান্তা ক্লজ সবার জন্য উপহার নিয়ে আসেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। সেই উপহার পেতে হলে সারাবছর দুষ্টুমি থেকে দূরে থাকতে হবে।

‘যেমন ধরুন সারা বছর ভালো হয়ে চলার জন্য আমরা ধন্যবাদ দেই। স্কুলে ভালো করে পড়াশোনা করার জন্য, অথবা ভাইবোনের সঙ্গে ঝগড়া না করার উপদেশ দেই। ছোট শিশুদের যেসব উপদেশ বাণী দেয়া হয়, সেগুলো আর কি। ওদেরকে একটু জানানো যে সান্টা তাদের চিঠিটি পড়েছেন’- বলছেন প্যাট কুক।

চিঠির উত্তর লেখার দায়িত্ব যেমন স্বেচ্ছাসেবীরাই নিয়ে থাকেন, তেমনি এর খরচও চলে মূলত দানের অর্থে। শহরের বাসিন্দা মোটে দু’হাজার। কিন্তু শহরটিতে সারা বছর জুড়ে বেড়াতে আসেন অনেক লোক। ছয়ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে মিসিসিপি থেকে এসেছেন আর্মস্ট্রং পরিবার।

‘ক্রিসমাসে কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায় সে নিয়ে আমরা গবেষণা করছিলাম। আমরা ক্রিসমাসে কোথাও না কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করি। ফেইসবুকে হঠাৎ একটা আর্টিকেল দেখলাম যেখানে লেখা ছিল পরিবার নিয়ে ক্রিসমাসে বেড়াতে যাওয়ার সেরা দশটি জায়গা কোনগুলো। এভাবেই বুদ্ধিটা পেলাম। ঐ তালিকায় যে স্থানগুলোর নাম ছিল তার মধ্যে এই শহরটিই আমাদের সবচাইতে কাছে।’

কিভাবে নাম হল সান্তা ক্লজ শহরের?

১৮৫৫ সাল পর্যন্ত শহরটির নাম ছিল সান্তা ফি। সেসময় শহরটিতে একটি নতুন পোস্ট অফিস চালু করতে গিয়ে জানা গেলো আরও এক শহরের নাম সান্তা ফে। চিঠি পাওয়ার ঝামেলা এড়ানোর জন্য তখন নাম না বদলে আর উপায় ছিল না।

তবে শহরের বাসিন্দারা সান্তা ক্লজ নামটি ঠিক কিভাবে বেছে নিলেন, সেই গল্পের কতটুকু বাস্তব আর কতটুক আসলেই গল্প – সেটি এত দিন পর নিশ্চিত জানা যায় না। এখানে আসা বহু চিঠির খামে শুধু সান্তা ক্লজের নামটাই লেখা থাকে।