অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়ার জের ধরে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে গাজায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এসময় ইসরায়েলি সেনাদের টিয়ারশেল-গুলিতে আহত হয়েছে আরও দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা ওল্ড সিটির প্রবেশ পথে জড়ো হতে শুরু করে। এসময় তারা ‘জেরুজালেম আমোদের রাজধানী’, ‘ফাঁকা বুলি চাই না’, ‘পাথর আর কালাশনিকভ চাই’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। ফিলিস্তিনিরা সেনাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করলে তাদের হটাতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে ইসরায়েলি সৈন্যরা। এসময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ওল্ড সিটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
জেরুজালেম ছাড়াও পশ্চিম তীরের হেবরন, বেথেলহেম, নেবুলাস, তুলকার্ম, কালকিলিয়া ও জেরিকো শহরে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এএফপি আরও জানায়, সংঘর্ষে গাজায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট জানায়, রাবার বুলেট এবং টিয়ারশেলের আঘাতে অন্তত ২১৭ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন সাতজন। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা জানায়, আহদের মধ্যে ৫০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে গাজায় বিক্ষোভ চলাকালে হামাস নেতা ফাতি হাম্মাদ বলেন, ‘দূতাবাস যে-ই জেরুজালেমে স্থানান্তর করুক না কেন সে ফিলিস্তিনের শক্রুতে পরিণত হবে এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর লক্ষ্যবস্তু হবে। আমরা জেরুজালেম এবং সব ফিলিস্তিনির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইন্তিফাদা ঘোষণা করছি।’
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে থেকেই জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছিলেন ফিলিস্তিনিরা।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব মতামতকে অগ্রাহ্য করে গত ৬ ডিসেম্বর বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কিত জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বুধবার হোয়াইট হাউজে এক ভাষণে মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইহুদি- তিন ধর্মের মানুষের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত শহর জেরুজালেমকে একতরফাভাবে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন।
এ ঘোষণার আগেই ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র এবং কয়েকজন আরব নেতা সাবধান করে দেন যে, এই সিদ্ধান্ত ওই এলাকার জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বব্যাপী।
অপরদিকে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সংগঠন হামাস ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘নরকের দুয়ার খুলে দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রের শান্তি প্রক্রিয়া মৃত্যু ঘটেছে এবং অতি শ্রীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির আগুন জ্বলে উঠবে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ০৮ ডিসেম্বর শুক্রবার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এ ছাড়া শনিবার এ বিষয়ে বৈঠকে বসবে আরব বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন আরব লীগ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















