আকাশ আইসিটি ডেস্ক:
সভ্যতার প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে মানুষ পরিবেশের সাথে বৈরিতা করতেও দ্বিধা করেনি। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর অপরিকল্পিত নগরায়ন আর শিল্পায়নের ফলে দূষিত হচ্ছে পৃথিবীর পরিবেশ। বায়ুমণ্ডলে বাড়ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফার-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইড। প্রতি মূহুর্তে দূষিত হচ্ছে পৃথিবীর বাতাস।
পৃথিবীর দূষণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য গত অক্টোবরেই বিশেষ একটি স্যাটেলাইটের যাত্রা শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির যৌথ উগ্যোগে নির্মিত স্যান্টিনেল ৫পি নামের স্যাটেলাইটটিতে ধরা পড়েছে দূষণের ভয়াবহ এক চিত্র। বিশেষভাবে নির্মিত এই স্যাটেলাইটটি প্রতিদিন পুরো পৃথিবীর চিত্র ধারণ করে বিশ্লেষণ করছে। মূলত যেসব অঞ্চলে ক্ষতিকর গ্যাস এবং ধূলিকণা বেশি নির্গত হয় সেসব অঞ্চলের ওপর জোর দেয় স্যাটেলাইটটি। এয়ারবাসের তৈরি করা বিশেষ এই স্যাটেলাইটটি ১৩ অক্টোবর ৮২৪ কিলোমিটার উচ্চতার একটি অরবিটে উেক্ষপণ করে রাশিয়ার একটি রকেট।
এই অভিযানে যুক্ত বিজ্ঞানীরা প্রথম যে চিত্রটি প্রকাশ করেছে সেটি ইউরোপের। সেখানে পারমানবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং ট্রাফিক ঘেরা শহরগুলোতে নির্গত নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের বলয়ের ভয়াবহ এক চিত্র ফুটে উঠেছে। শিল্প কারখানা আর গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং নাইট্রোজেনের কুণ্ডলিতে ছেঁয়ে গেছে বায়ুমণ্ডল।
নেদারল্যান্ডসের কিছু অঞ্চল, জার্মানির পশ্চিমাঞ্চল, ইতালির পো ভ্যালি এবং স্পেনের কিছু অংশে দূষণের স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। হলুদ-বাদামী রঙের নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের চিত্র থেকে দূষণের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোর দূষণের চিত্রও প্রকাশ করেছে গবেষণা দলটি।
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের আগুঙ আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে সালফার নির্গত হওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। বিজ্ঞানীরা জানান, প্রথম মাসের প্রাপ্ত তথ্য নিয়েই বেশ উচ্ছ্বসিত তারা। দূষণ সম্পর্কে গবেষণার ক্ষেত্রে রীতিমতো যুগান্তকারী পরির্তনের আশা করছেন তারা।-বিবিসি
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























