ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুবেলকে বিদায়ি সম্মাননা দেবে বিসিবি বাংলাদেশে নীতির অনিশ্চয়তা আমাদের ভয়ের কারণ: ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত চবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠাবে না ইরান যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় আট শিশু নিহত এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে হাতুড়ির টোকায় বর্তমান স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠন কঠিন স্কুলপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে পাকিস্তানে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূ হত্যায় স্বামী গ্রেপ্তার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী তোফাজ্জল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আলাকপুর গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে। সোমবার রাতে তোফাজ্জল হক নিজ বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বাজাখা গ্রামের ইব্রাহীম মিয়া মেয়ে নাছরিন আক্তারের সাথে একই ইউনিয়নের পাশের গ্রাম আলাকপুর গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে সৌদি প্রবাসী তোফাজ্জল হকের বিয়ে হয়। দুই বছর পরপর চারবার আসে দেশে। বিয়ে পর এ দম্পতির একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

বর্তমানে ছেলেটির বয়স পাঁচ বছর। চলতি বছরে আগস্টে দেশে চলে আসে সে। এরপর থেকেই নিহতের বাবার বাড়ি থেকে স্ত্রী নাছরিন আক্তারকে টাকা আনতে চাপ দিতে থাকে। ১২ নভেম্বর স্ত্রীকে টাকার জন্য মারধর করতে থাকে স্বামী। স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে নাছরিন আক্তার বাবা ইব্রাহীমকে রাতে খবর দিলে মেয়ের বাড়িতে যান বাবা।

পরে বাবার সামনেই মেয়েকে নির্যাতন করতে থাকে স্বামী। বাবা বাধা দিলে তা না শুনে মেয়ের উপর অত্যাচর চালায়। একপর্যায়ে নির্যাতনে স্ত্রী গুরুত্বর আহত হলে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় বাবা চিকিৎসার জন্য আশুগঞ্জ নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সকালে ছেলের পরিবারের লোকজন বিষয়টি আপস মীমাংসার কথা বলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গৃহবধূকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। এবং লাশ দ্রুত দাফন করে ফেলেন। পরে নিহত গৃহবধু নাছরিনের পিতা ইব্রাহীম বাদী হয়ে আদালতে গৃহবধূর স্বামী তোফাজ্জল হককে প্রধান আসামি ও স্বামীর বাবা, মা, বোন ও বোনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন আদালতে।

আদালতের মামলা পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের ধরতে নির্দেশ দেন। সোমবার রাতে স্বামী তোফাজ্জল হক বাড়িতে আসলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।

নিহতের পিতা ইব্রাহীম মিয়া জানান, আমার মেয়েকে যৌতুকে জন্য নির্যাতন করে হত্যা করেছে স্বামীও তার পরিবারের লোকজন। তারা জোরপূর্বক লাশ নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে ফেলে। আমার মেয়ের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীর হোসেন জানান, আদালতের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নাছরিন আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী তোফাজ্জল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রুবেলকে বিদায়ি সম্মাননা দেবে বিসিবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূ হত্যায় স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১২:০০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী তোফাজ্জল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আলাকপুর গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে। সোমবার রাতে তোফাজ্জল হক নিজ বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বাজাখা গ্রামের ইব্রাহীম মিয়া মেয়ে নাছরিন আক্তারের সাথে একই ইউনিয়নের পাশের গ্রাম আলাকপুর গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে সৌদি প্রবাসী তোফাজ্জল হকের বিয়ে হয়। দুই বছর পরপর চারবার আসে দেশে। বিয়ে পর এ দম্পতির একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

বর্তমানে ছেলেটির বয়স পাঁচ বছর। চলতি বছরে আগস্টে দেশে চলে আসে সে। এরপর থেকেই নিহতের বাবার বাড়ি থেকে স্ত্রী নাছরিন আক্তারকে টাকা আনতে চাপ দিতে থাকে। ১২ নভেম্বর স্ত্রীকে টাকার জন্য মারধর করতে থাকে স্বামী। স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে নাছরিন আক্তার বাবা ইব্রাহীমকে রাতে খবর দিলে মেয়ের বাড়িতে যান বাবা।

পরে বাবার সামনেই মেয়েকে নির্যাতন করতে থাকে স্বামী। বাবা বাধা দিলে তা না শুনে মেয়ের উপর অত্যাচর চালায়। একপর্যায়ে নির্যাতনে স্ত্রী গুরুত্বর আহত হলে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় বাবা চিকিৎসার জন্য আশুগঞ্জ নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সকালে ছেলের পরিবারের লোকজন বিষয়টি আপস মীমাংসার কথা বলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গৃহবধূকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। এবং লাশ দ্রুত দাফন করে ফেলেন। পরে নিহত গৃহবধু নাছরিনের পিতা ইব্রাহীম বাদী হয়ে আদালতে গৃহবধূর স্বামী তোফাজ্জল হককে প্রধান আসামি ও স্বামীর বাবা, মা, বোন ও বোনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন আদালতে।

আদালতের মামলা পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের ধরতে নির্দেশ দেন। সোমবার রাতে স্বামী তোফাজ্জল হক বাড়িতে আসলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।

নিহতের পিতা ইব্রাহীম মিয়া জানান, আমার মেয়েকে যৌতুকে জন্য নির্যাতন করে হত্যা করেছে স্বামীও তার পরিবারের লোকজন। তারা জোরপূর্বক লাশ নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে ফেলে। আমার মেয়ের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীর হোসেন জানান, আদালতের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নাছরিন আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী তোফাজ্জল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।