ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূ হত্যায় স্বামী গ্রেপ্তার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী তোফাজ্জল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আলাকপুর গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে। সোমবার রাতে তোফাজ্জল হক নিজ বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বাজাখা গ্রামের ইব্রাহীম মিয়া মেয়ে নাছরিন আক্তারের সাথে একই ইউনিয়নের পাশের গ্রাম আলাকপুর গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে সৌদি প্রবাসী তোফাজ্জল হকের বিয়ে হয়। দুই বছর পরপর চারবার আসে দেশে। বিয়ে পর এ দম্পতির একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

বর্তমানে ছেলেটির বয়স পাঁচ বছর। চলতি বছরে আগস্টে দেশে চলে আসে সে। এরপর থেকেই নিহতের বাবার বাড়ি থেকে স্ত্রী নাছরিন আক্তারকে টাকা আনতে চাপ দিতে থাকে। ১২ নভেম্বর স্ত্রীকে টাকার জন্য মারধর করতে থাকে স্বামী। স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে নাছরিন আক্তার বাবা ইব্রাহীমকে রাতে খবর দিলে মেয়ের বাড়িতে যান বাবা।

পরে বাবার সামনেই মেয়েকে নির্যাতন করতে থাকে স্বামী। বাবা বাধা দিলে তা না শুনে মেয়ের উপর অত্যাচর চালায়। একপর্যায়ে নির্যাতনে স্ত্রী গুরুত্বর আহত হলে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় বাবা চিকিৎসার জন্য আশুগঞ্জ নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সকালে ছেলের পরিবারের লোকজন বিষয়টি আপস মীমাংসার কথা বলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গৃহবধূকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। এবং লাশ দ্রুত দাফন করে ফেলেন। পরে নিহত গৃহবধু নাছরিনের পিতা ইব্রাহীম বাদী হয়ে আদালতে গৃহবধূর স্বামী তোফাজ্জল হককে প্রধান আসামি ও স্বামীর বাবা, মা, বোন ও বোনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন আদালতে।

আদালতের মামলা পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের ধরতে নির্দেশ দেন। সোমবার রাতে স্বামী তোফাজ্জল হক বাড়িতে আসলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।

নিহতের পিতা ইব্রাহীম মিয়া জানান, আমার মেয়েকে যৌতুকে জন্য নির্যাতন করে হত্যা করেছে স্বামীও তার পরিবারের লোকজন। তারা জোরপূর্বক লাশ নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে ফেলে। আমার মেয়ের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীর হোসেন জানান, আদালতের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নাছরিন আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী তোফাজ্জল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূ হত্যায় স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১২:০০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী তোফাজ্জল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আলাকপুর গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে। সোমবার রাতে তোফাজ্জল হক নিজ বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বাজাখা গ্রামের ইব্রাহীম মিয়া মেয়ে নাছরিন আক্তারের সাথে একই ইউনিয়নের পাশের গ্রাম আলাকপুর গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে সৌদি প্রবাসী তোফাজ্জল হকের বিয়ে হয়। দুই বছর পরপর চারবার আসে দেশে। বিয়ে পর এ দম্পতির একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

বর্তমানে ছেলেটির বয়স পাঁচ বছর। চলতি বছরে আগস্টে দেশে চলে আসে সে। এরপর থেকেই নিহতের বাবার বাড়ি থেকে স্ত্রী নাছরিন আক্তারকে টাকা আনতে চাপ দিতে থাকে। ১২ নভেম্বর স্ত্রীকে টাকার জন্য মারধর করতে থাকে স্বামী। স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে নাছরিন আক্তার বাবা ইব্রাহীমকে রাতে খবর দিলে মেয়ের বাড়িতে যান বাবা।

পরে বাবার সামনেই মেয়েকে নির্যাতন করতে থাকে স্বামী। বাবা বাধা দিলে তা না শুনে মেয়ের উপর অত্যাচর চালায়। একপর্যায়ে নির্যাতনে স্ত্রী গুরুত্বর আহত হলে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় বাবা চিকিৎসার জন্য আশুগঞ্জ নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সকালে ছেলের পরিবারের লোকজন বিষয়টি আপস মীমাংসার কথা বলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গৃহবধূকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। এবং লাশ দ্রুত দাফন করে ফেলেন। পরে নিহত গৃহবধু নাছরিনের পিতা ইব্রাহীম বাদী হয়ে আদালতে গৃহবধূর স্বামী তোফাজ্জল হককে প্রধান আসামি ও স্বামীর বাবা, মা, বোন ও বোনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন আদালতে।

আদালতের মামলা পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের ধরতে নির্দেশ দেন। সোমবার রাতে স্বামী তোফাজ্জল হক বাড়িতে আসলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।

নিহতের পিতা ইব্রাহীম মিয়া জানান, আমার মেয়েকে যৌতুকে জন্য নির্যাতন করে হত্যা করেছে স্বামীও তার পরিবারের লোকজন। তারা জোরপূর্বক লাশ নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে ফেলে। আমার মেয়ের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীর হোসেন জানান, আদালতের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নাছরিন আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী তোফাজ্জল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।