ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরানযুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস ১০৭ বছরের পুরোনো মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চাকরি পুনর্বহাল চেয়ে মতিঝিলে ৬ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মীদের অবস্থান ‘যেকোনো মুহূর্তে’ আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে: ইরান বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও তুরস্ক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’ চূড়ান্ত, পরে আলোচনা: ইরান হাম ও জ্বালানি নিয়ে লুকোচুরি করছে সরকার: জামায়াত আমির সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের যুবক নিহত

পার্বত্য চুক্তির ২ দশক: রাঙামাটিতে আনন্দ-বিক্ষোভ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির দুই দশক পূর্তিতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা করেছে। এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অন্যদিকে একই সময়ে জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে সকালে শহরের রাজবাড়ি জিমনেসিয়াম চত্বরে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ পরবর্তী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সমাবেশ থেকে চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। জনসংহতির গণসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

জনসংহতি সমিতির জেলা শাখার সভাপতি সুবর্ণ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথি ঊষাতন তালুকদার ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতাত্ত্বিক বিভাগের অধ্যাপক হোসাইন কবির, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা, যুব সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন মারমা ও মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুপ্রভা চাকমা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক নীলোৎপল খীসা।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তিতে সরকারিভাবে সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শান্তির পায়রা উড়িয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরসভা প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সদস্য দীপংকর তালুকদার। সমাবেশ শেষে চুক্তির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশাল কেক কাটা হয়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফারুক, সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন- জেলা পরিষদ সদস্য মুছা মাতব্বর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ৭২ ধারার মধ্যে ৪৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ধারাগুলো বাস্তবায়নাধীন। পুরোপুরি বাস্তবায়নে সময়ের দরকার। তা সহনশীলতার সঙ্গে অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র যত দিন উদ্ধার করা হবে না, তত দিন পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে অশান্তি চলতেই থাকবে। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি চিংহ্লামং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পার্বত্য চুক্তির ২ দশক: রাঙামাটিতে আনন্দ-বিক্ষোভ

আপডেট সময় ১০:০৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির দুই দশক পূর্তিতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা করেছে। এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অন্যদিকে একই সময়ে জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে সকালে শহরের রাজবাড়ি জিমনেসিয়াম চত্বরে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ পরবর্তী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সমাবেশ থেকে চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। জনসংহতির গণসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

জনসংহতি সমিতির জেলা শাখার সভাপতি সুবর্ণ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথি ঊষাতন তালুকদার ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতাত্ত্বিক বিভাগের অধ্যাপক হোসাইন কবির, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা, যুব সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন মারমা ও মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুপ্রভা চাকমা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক নীলোৎপল খীসা।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তিতে সরকারিভাবে সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শান্তির পায়রা উড়িয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরসভা প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সদস্য দীপংকর তালুকদার। সমাবেশ শেষে চুক্তির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশাল কেক কাটা হয়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফারুক, সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন- জেলা পরিষদ সদস্য মুছা মাতব্বর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ৭২ ধারার মধ্যে ৪৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ধারাগুলো বাস্তবায়নাধীন। পুরোপুরি বাস্তবায়নে সময়ের দরকার। তা সহনশীলতার সঙ্গে অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র যত দিন উদ্ধার করা হবে না, তত দিন পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে অশান্তি চলতেই থাকবে। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি চিংহ্লামং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।