অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলা ছাত্র তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। শুরুতে লিখিত অভিযোগে বিষয়টি উল্লেখ করলেও এখন তিনি বলছেন, এমন ঘটনা ঘটেনি। তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা এবং মানসিক নিপীড়ন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রথম বর্ষে (৪৬তম আবর্তন) পড়েন ওই ছাত্র। রবিবার প্রক্টর বারবর দেয়া লিখিত আবেদনে তিনি তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তবে আজকের দেয়া চিঠিতে সেই অভিযোগ বাদ দিয়ে মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনা, অশ্লীল কথাবার্তা এবং মারধরের কথা উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনায় নাম আসা ১৩ শিক্ষার্থীকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কারণদর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগের সভাপতি এম এম ময়েজ উদ্দিন। এ ঘটনাটি গত ২২ নভেম্বর ঘটলেও রবিবার প্রক্টর বরাবরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ওই ছাত্র। সেখানে তিনি তাকে ও তার দুই বন্ধুর উপর ‘অমানুষিক’ নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। আপত্তিজনকভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাতাহাতি এবং বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তার মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের কথা বলা হয় ওই চিঠিতে।
কিন্তু গতকালের অভিযোগ থেকে সরে এসে আজকে তিনি জানিয়েছেন, তাকে মারধর ও মানসিকভাবে হেনস্তা (র্যাগিং) করা হয়েছিল। কোন প্রকার যৌন নির্যাতন নয়। তাহলে কেন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছিল? এখানে কারো কোনো প্ররোচনা ছিল কিনা? জানতে চাইলে অভিযোগকারী ছাত্র এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চান না বলে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে অভিযোগকারী ছাত্রকে কোন নির্যাতন করা হয়নি, বরং সেই ছাত্রীদের উত্যক্ত করেছে-এমন অভিযোগ তুলে আজ বিকালে প্রক্টর বরাবর পাল্টা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার দাবি করেছেন তৃতীয় বর্ষের তিন ছাত্রী ও তার বন্ধুরা।
যারা ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন তাদের দুইজন বলেন, ওই ছাত্র প্রায়ই মাদকাসক্ত থাকে। তাই তিনি অসংলগ্ন আচরণ করতেন। গত ২২ নভেম্বর তিনি ছাত্রীদের সাথেও এরকম আচরণ করতে থাকেন। এ কারণে তাকে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাদের সঙ্গেও অস্বাভাবিক আচরণ করেন তিনি।
এই পর্যায়ে তাকে ধমকাধমকি ও গালমন্দ করার এক পর্যায়ে অভিযোগকারী ছাত্র অজ্ঞান হয়ে পড়ার কথা বলেন দুই ছাত্র। এই অবস্থায় প্রথমে চোখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় এবং মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় একই ব্যাচের তিন ছাত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আর তাদের বিরুদ্ধেই ওই ছাত্র অভিযোগ আনে বলে জানিয়েছেন এই দুই ছাত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তপন কুমার সাহা দৈনিক আকাশকে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ওই ছাত্রের সাথে আমার কথা হয়েছে। সে মারধরের কথা বলেছে, কিন্তু যৌন নিপীড়নের কথা বলেনি। বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তারাই এটা সমাধান করবে।
চারুকলা বিভাগের সভাপতি এম এম ময়েজউদ্দীন বলেন, ওই ছাত্রের অভিযোগে যৌন নিপীড়নের কোন কথা বলা নেই। শুধু মারধর, শারীরিক-মানসিক লাঞ্ছনার কথা বলা আছে। বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তদন্ত করার জন্য।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























