ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশ গড়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : মঈন খান মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল

অপহরণের পাঁচ দিন পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে যৌননির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পাঁচ দিন পর উদ্ধার করে রবিবার ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই ছাত্রীর পারিবার বলছে, ওই ছাত্রীর বাব-মা দু’জনই ঢাকায় থাকেন। ওই মেয়ের বাবা ঢাকায় গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর মা ওখানেই বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। মেয়েটি মেলান্দহের শ্যামপুরে তার নানাবাড়িতে থাকে। স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সে নবম শ্রেণিতে পড়ে।

জানা গেছে, মেয়েটি ২২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নানাবাড়ি থেকে স্থানীয় নয়ানগর এলাকায় কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে বের হয়। পথে নয়ানগর বাজারের অদূরে তেঁতুলতলা এলাকা থেকে মোজাম্মেল হোসেন ও তার দুই সহযোগী তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। মেয়ের অপহরণের খবর পেয়ে ওই রাতেই তার বাবা-মা দুজনই ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৩ নভেম্বর মেলান্দহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মেয়েটির বাবা জানান, রবিবার সকালে মেলান্দহের দুরমুঠ রেলওয়ে স্টেশন মসজিদের কাছেই রাস্তায় অসুস্থ মেয়েটিকে স্থানীয় লোকজন তাকে মোবাইল ফোনে খবর দেয়। তিনি সেখান থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে মেলান্দহ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্যাতিত মেয়েটি জানিয়েছে, ঘটনার দিন অপহরণের সময় দুর্বৃত্তরা তার মুখে রুমাল চেপে ধরার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে একটি ঘরে আটক রেখে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। কিছুটা জ্ঞান ফিরে এলেই দুধ-বিস্কুট ও জুসের সাথে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ায়। আবার সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এভাবে টানা চারদিন ধরে তার উপর নির্যাতন চালায় দুর্বৃত্তরা।

মেলান্দহ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসা ডা. রিফাত আনোয়ার শিশির বলেন, মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে অপহরণকারী মোজাম্মেল হোসেনকে আসামি করে তার মেয়ে অপহরণের পর ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মেলান্দহ থানায় রবিবার বিকালে একটি মামলা করেছেন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজাহারুল করিম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপহরণকারী মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশ গড়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : মঈন খান

অপহরণের পাঁচ দিন পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার

আপডেট সময় ১১:৪৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে যৌননির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পাঁচ দিন পর উদ্ধার করে রবিবার ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই ছাত্রীর পারিবার বলছে, ওই ছাত্রীর বাব-মা দু’জনই ঢাকায় থাকেন। ওই মেয়ের বাবা ঢাকায় গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর মা ওখানেই বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। মেয়েটি মেলান্দহের শ্যামপুরে তার নানাবাড়িতে থাকে। স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সে নবম শ্রেণিতে পড়ে।

জানা গেছে, মেয়েটি ২২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নানাবাড়ি থেকে স্থানীয় নয়ানগর এলাকায় কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে বের হয়। পথে নয়ানগর বাজারের অদূরে তেঁতুলতলা এলাকা থেকে মোজাম্মেল হোসেন ও তার দুই সহযোগী তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। মেয়ের অপহরণের খবর পেয়ে ওই রাতেই তার বাবা-মা দুজনই ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৩ নভেম্বর মেলান্দহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মেয়েটির বাবা জানান, রবিবার সকালে মেলান্দহের দুরমুঠ রেলওয়ে স্টেশন মসজিদের কাছেই রাস্তায় অসুস্থ মেয়েটিকে স্থানীয় লোকজন তাকে মোবাইল ফোনে খবর দেয়। তিনি সেখান থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে মেলান্দহ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্যাতিত মেয়েটি জানিয়েছে, ঘটনার দিন অপহরণের সময় দুর্বৃত্তরা তার মুখে রুমাল চেপে ধরার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে একটি ঘরে আটক রেখে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। কিছুটা জ্ঞান ফিরে এলেই দুধ-বিস্কুট ও জুসের সাথে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ায়। আবার সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এভাবে টানা চারদিন ধরে তার উপর নির্যাতন চালায় দুর্বৃত্তরা।

মেলান্দহ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসা ডা. রিফাত আনোয়ার শিশির বলেন, মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে অপহরণকারী মোজাম্মেল হোসেনকে আসামি করে তার মেয়ে অপহরণের পর ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মেলান্দহ থানায় রবিবার বিকালে একটি মামলা করেছেন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজাহারুল করিম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপহরণকারী মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।