অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
মিসরে উত্তরাঞ্চলের সিনাই প্রদেশে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে গুলি ও বোমা হামলায় ২৩৫ জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
২০১৩ সালের পর দেশটিতে এটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও জঘন্য হাত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এ হামলার জন্য কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার না করলেও বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে বোঝা যায়, ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং এর সহযোগী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এই আত্মঘাতী হামলাটি চালিয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি সরকার তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
ভয়াবহ এমন হামলার পর বিশ্বব্যাপী প্রশ্ন উঠেছে মসজিদে কেন হামলা? সিনাইয়ের আল আরিশের কাছে বির আল আবিদ শহরে আল রাউদা মসজিদে যে হামলাটি হয়েছে সেখানে সুফিবাদ অনুসারীরা জমায়েত হতেন। তারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করতেন। আর সেটি সহ্য করতে পারেনি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো।
প্রসঙ্গত, সুফিবাদ হচ্ছে একটি আরবি শব্দ। আত্মা সম্পর্কিত আলোচনা এর মুখ্য বিষয়। ইসলামি আধ্যাত্মিক ও আত্মদর্শনের মাধ্যমে স্রষ্ট্রার নৈকট্য লাভের চেষ্টাই হচ্ছে সুফিবাদ। সুফিবাদে বিশ্বাসী বেশির ভাগ মানুষ সুন্নি মুসল্লি। তবে কিছু শিয়া মুসল্লিও রয়েছেন। সুফি দর্শন বা সুফিবাদ দর্শনকে আইএস এবং এর সহযোগী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর মতাদর্শে ফারাক রয়েছে। এ দর্শনে অনুসারীদের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো ‘ধর্মদ্রোহী’ বা ‘কাফের’ হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের কার্যক্রম কোনোভাবে মেনে নিতে পারে না মৌলবাদী, কট্টরপন্থী বা জঙ্গি সংগঠনগুলো। জঙ্গিরা মনে করে, সুন্নিদের মধ্যে যারা মৌলবাদী তারাই বৈধ। তাই সুন্নিদের মধ্য থেকে যারা সুফি ভাব ধারা অনুসারী হয়েছেন, তারা জঙ্গিদের হামার লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত হয়েছেন। এমন মতাদর্শের পার্থক্যের কারণেই সিনাইয়ে মসজিদে হামলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে প্রত্যন্ত এলাকায় এক সুফি সাধুর মাজারে জঙ্গি হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ওই মাজারে সুফিবাদী সাধুর কবর ঘিরে প্রার্থনারত ছিলেন সুফিরা। এটা ‘মুশরিকদের’ কাজ বলে ব্যাখ্যা করে জঙ্গিরা। সুফি অনুসারীদের লক্ষ্য করে ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি সরকারের শাসন ও প্রশাসনের প্রতিবাদে এই হামলাটি করা হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। সেনা নেতৃত্বাধীন সিসি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ রয়েছে জঙ্গিদের। ২০১৩ সালের জুলাইয়ের সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পতনের পর সিনাইয়ে ধর্মভিত্তিক জঙ্গিরা হামলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তখন থেকে দেশটিতে আইএস ও আইএসপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন হামলায় শত-শত পুলিশ, সেনা সদস্য, বেসামরিক লোক নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























