ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আত্মসমর্পণ করলেন জাহের আলভী আ.লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না: মীর শাহে আলম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি পাকিস্তানিদের জন্য গর্বের: আতাউল্লাহ তারার সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের জুবাইদা রহমান রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন : মঈন খান বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা জামায়াতের সেই এমপির বাবা এখনো বেঁচে আছেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাঁঠাল দিয়ে সিঙ্গারা-সমুচা-কাবাব, ফল হবে দেশের শক্তিশালী রপ্তানি পণ্য: কৃষিমন্ত্রী যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান

টাকার জন্য মৃতদেহ আটকাতে পারবে না হাসপাতাল: হাইকোর্ট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ না করতে পারলেও মৃত ব্যক্তির লাশ ক্লিনিক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জিম্মি করে রাখতে পারবে না বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিব, ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সারাদেশের সব হাসপাতালে ও ক্লিনিককে জানাতে বলেছে আদালত।

এছাড়া গরিব রোগীদের অপরিশোধিত সব বিল পরিশোধের জন্য স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে তহবিল গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আঞ্জুমান মুফিদুল ইলামকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে সিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। রিট আবেদন করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ডিগদা গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম গত ২৭ মে সিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর তিনি একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে নবজাতককে ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।

সেখানে সাতদিন পর তার মৃত্যু হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির বাবা সাইফুলের কাছে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৪২ হাজার টাকা দাবি করে। পাওনা পরিশোধ করে মরদেহ নিয়ে যেতে বলে। এরপর এক সকালে টাকা জোগাড় করার কথা বলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান সাইফুল। এরপর আর ফিরে আসেননি।

মরদেহ নিয়ে না যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ শিশুটির মরদেহ হেফাজতে নিয়ে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করে। তারা পরে লাশটি দাফন করে।

মনজিল মোরসেদ বলেন, টাকার জন্য মরদেহ দেয়নি, এটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। কেননা এসব প্রাইভেট হাসপাতাল লাইসেন্স নেয়ার সময় শতকরা ১০ শতাংশ গরিব রোগীদের জন্য ছাড় দেয়ার অঙ্গীকার করে। কিন্তু তারা এটা পালন করে না।

বিষয়টি নিয়ে ওই বছরই আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূইয়া। রিটের পর আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের শুনানি শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্মসমর্পণ করলেন জাহের আলভী

টাকার জন্য মৃতদেহ আটকাতে পারবে না হাসপাতাল: হাইকোর্ট

আপডেট সময় ১১:০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ না করতে পারলেও মৃত ব্যক্তির লাশ ক্লিনিক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জিম্মি করে রাখতে পারবে না বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিব, ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সারাদেশের সব হাসপাতালে ও ক্লিনিককে জানাতে বলেছে আদালত।

এছাড়া গরিব রোগীদের অপরিশোধিত সব বিল পরিশোধের জন্য স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে তহবিল গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আঞ্জুমান মুফিদুল ইলামকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে সিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। রিট আবেদন করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ডিগদা গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম গত ২৭ মে সিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর তিনি একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে নবজাতককে ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।

সেখানে সাতদিন পর তার মৃত্যু হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির বাবা সাইফুলের কাছে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৪২ হাজার টাকা দাবি করে। পাওনা পরিশোধ করে মরদেহ নিয়ে যেতে বলে। এরপর এক সকালে টাকা জোগাড় করার কথা বলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান সাইফুল। এরপর আর ফিরে আসেননি।

মরদেহ নিয়ে না যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ শিশুটির মরদেহ হেফাজতে নিয়ে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করে। তারা পরে লাশটি দাফন করে।

মনজিল মোরসেদ বলেন, টাকার জন্য মরদেহ দেয়নি, এটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। কেননা এসব প্রাইভেট হাসপাতাল লাইসেন্স নেয়ার সময় শতকরা ১০ শতাংশ গরিব রোগীদের জন্য ছাড় দেয়ার অঙ্গীকার করে। কিন্তু তারা এটা পালন করে না।

বিষয়টি নিয়ে ওই বছরই আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূইয়া। রিটের পর আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের শুনানি শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হয়।