ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২১ আগস্ট হামলায় গ্রেনেড সরবরাহ করে মাজেদ ভাট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২১ আগস্ট হামলায় ব্যবহ্নত গ্রেনেড সরবরাহ করে ‘কাশ্মিরি জঙ্গি’ মাজেদ ভাট। জঙ্গি মাওলানা তাজউদ্দিন ও মুফতি আব্দুল হান্নানকে ওই গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়।

ভয়াবহ ওই গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্যই ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্য সফল হলে আওয়ামী লীগ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেত এবং এদেশে নির্বিঘ্নে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো যেত।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান সোমবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দ্বাদশ দিনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন। তিনি মামলার তিন আসামি মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভির (জঙ্গি হান্নানের ভাই) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তুলে ধরেন। এ তিন আসামিই মুফতি হান্নানের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সমর্থন করে তাদের জবানবন্দি পেশ করেন।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। রাষ্টপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত থাকায় মঙ্গলবার মামলার কার্যক্রম চলবে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বলেন, ‘জঙ্গি মাজেদ ভাট কাশ্মিরি বিচ্ছিন্নতাবাদী হিযবুল মুজাহিদীনের সংগঠক। তিনি পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতেন এ জঙ্গি।

ওই সময় তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতো জঙ্গি তাজউদ্দিন (বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই)। তাজউদ্দিনের মাধ্যমে মাজেদ ভাট মুফতি হান্নানসহ অন্য জঙ্গিদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাজেদ ভাট জঙ্গি সংগঠন হিযবুল মুজাহিদের এদেশের সংগঠক হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন। তার অর্থ আসত পাকিস্তান থেকে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রশিক্ষণ দিতো আইএসআই। পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে গোলা-বারুদ, গ্রেনেড আসতো; যা বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করা হতো এবং এদেশে বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় ব্যবহার করা হতো।’

সৈয়দ রেজাউর রহমান আরও বলেন, ‘মাজেদ ভাট এদেশে জঙ্গি কার্যক্রমকে জোরদার করতে পরিচয় গোপন করে সিরাজগঞ্জের মেয়ে নাহিদ লায়লা কাঁকনকে (এ মামলার সাক্ষী) বিবাহ করেন। মাজেদ ভাটের জঙ্গি কার্যক্রমে রাজনৈতিক আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দেন পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন। তাজ বলেন, তার ভাই মন্ত্রী এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। তাজউদ্দিন তার ভাই পিন্টুর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে মাজেদ ভাটকে আশ্বস্ত করেন।’

আসামি আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ তার জবানবন্দিতে মাজেদ ভাটের সঙ্গে পরিচয় এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন সম্পৃক্ততার বিষয় জবানবন্দিতে স্বীকার করেন। মঙ্গলবার বাকি আসামিদেরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হবে।

প্রধান কৌঁসুলিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আরও সহায়তা করেন সৈয়দ হায়দার আলী, আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা প্রমুখ। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত ও আশরাফ হোসেন প্রমুখ। অপরদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২১ আগস্ট হামলায় গ্রেনেড সরবরাহ করে মাজেদ ভাট

আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২১ আগস্ট হামলায় ব্যবহ্নত গ্রেনেড সরবরাহ করে ‘কাশ্মিরি জঙ্গি’ মাজেদ ভাট। জঙ্গি মাওলানা তাজউদ্দিন ও মুফতি আব্দুল হান্নানকে ওই গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়।

ভয়াবহ ওই গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্যই ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্য সফল হলে আওয়ামী লীগ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেত এবং এদেশে নির্বিঘ্নে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো যেত।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান সোমবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দ্বাদশ দিনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন। তিনি মামলার তিন আসামি মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভির (জঙ্গি হান্নানের ভাই) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তুলে ধরেন। এ তিন আসামিই মুফতি হান্নানের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সমর্থন করে তাদের জবানবন্দি পেশ করেন।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। রাষ্টপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত থাকায় মঙ্গলবার মামলার কার্যক্রম চলবে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বলেন, ‘জঙ্গি মাজেদ ভাট কাশ্মিরি বিচ্ছিন্নতাবাদী হিযবুল মুজাহিদীনের সংগঠক। তিনি পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতেন এ জঙ্গি।

ওই সময় তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতো জঙ্গি তাজউদ্দিন (বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই)। তাজউদ্দিনের মাধ্যমে মাজেদ ভাট মুফতি হান্নানসহ অন্য জঙ্গিদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাজেদ ভাট জঙ্গি সংগঠন হিযবুল মুজাহিদের এদেশের সংগঠক হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন। তার অর্থ আসত পাকিস্তান থেকে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রশিক্ষণ দিতো আইএসআই। পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে গোলা-বারুদ, গ্রেনেড আসতো; যা বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করা হতো এবং এদেশে বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় ব্যবহার করা হতো।’

সৈয়দ রেজাউর রহমান আরও বলেন, ‘মাজেদ ভাট এদেশে জঙ্গি কার্যক্রমকে জোরদার করতে পরিচয় গোপন করে সিরাজগঞ্জের মেয়ে নাহিদ লায়লা কাঁকনকে (এ মামলার সাক্ষী) বিবাহ করেন। মাজেদ ভাটের জঙ্গি কার্যক্রমে রাজনৈতিক আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দেন পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন। তাজ বলেন, তার ভাই মন্ত্রী এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। তাজউদ্দিন তার ভাই পিন্টুর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে মাজেদ ভাটকে আশ্বস্ত করেন।’

আসামি আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ তার জবানবন্দিতে মাজেদ ভাটের সঙ্গে পরিচয় এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন সম্পৃক্ততার বিষয় জবানবন্দিতে স্বীকার করেন। মঙ্গলবার বাকি আসামিদেরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হবে।

প্রধান কৌঁসুলিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আরও সহায়তা করেন সৈয়দ হায়দার আলী, আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা প্রমুখ। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত ও আশরাফ হোসেন প্রমুখ। অপরদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা।