ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

অসহিষ্ণুতা প্রতিরোধে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও এগিয়ে আসতে হবে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারীর প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রতিরোধে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও এগিয়ে আসতে হবে। আর নিজেদের সাফল্যের গল্প নিজেদেরই বলতে হবে। ‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭-এর তৃতীয় ও শেষ দিন আজ শনিবার সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘উইমেন, আর্ট অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক সেশনে বক্তারা এ কথা বলেন।

সেশনটি সঞ্চালনা করেন বি রাওলাট। আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও অভিনেতা এস্থার ফ্রয়েড, স্পোকেন ওয়ার্ড আর্টিস্ট বিগো চিওল, লেখক ও অভিনেতা নন্দনা সেন এবং কবি-লেখক ও লিট ফেস্টের অন্যতম উদ্যোক্তা সাদাফ সায্।

সেশনের শুরুতে সাদাফ সায্ বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এনে বলেন, এ দেশের নারীরা দিন দিন কর্মমুখী হয়ে উঠছেন। তবে ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে নারীদের প্রতি অসহিষ্ণুতা এখনও একটি বড় সমস্যা হয়েই আছে।

তিনি বলেন, তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী তৎপরতায় এ দেশের সংস্কৃতি নারীদের ব্যাপারে অনেক উদার হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, এ দেশে নারীরা তত বেশি কর্মমুখী হয়ে উঠছেন এবং নানা ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকাও পালন করছেন।

সাদাফ সায্ আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রক্রিয়ায় এ দেশের নারীদের সবচেয়ে বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। প্রায় চার লাখ নারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ধর্ষণের শিকার হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র তাদের সম্মানজনক স্বীকৃতি দেয়।

বি রাওলাট একটি বাস্তব বিষয় তুলে ধরে বলেন, লন্ডনের রাস্তায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের অনেক ভাস্কর্য আছে। কিন্তু তার প্রায় সবগুলোই পুরুষের। ফলে লন্ডনে বেড়ে ওঠা প্রত্যেক শিশুর এ ধারণা গড়ে ওঠার কথা যে তাদের ইতিহাসের সবকিছুই পুরুষের গড়া। এ প্রেক্ষিতে বিগো চিওল বলেন, আসলে নারীদের সাফল্যের কথা কেউ বলতে চায়না। এ ক্ষেত্রে নারীদের সাফল্যের গল্প তাদেরই বলতে হবে। আর সেটা শুরু করতে হবে গল্প বলার অভ্যাসের মধ্যে দিয়ে। এ গল্প বলা হয় না বলেই আফ্রিকায় অধিকাংশ কাজ নারীরা করলেও তারা দিন শেষে কোন কৃতিত্বই পান না।

নন্দনা সেন বলেন, বাকি বিশ্বের তুলনায় ভারতে নারী নির্যাতনের সমস্যা বেশ প্রকট। উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি ভারতে এক নারী সাংবাদিক খুনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই খুনের পর বলার মতো তদন্ত তো হয়ই নি, বরং অনেকে প্রকাশ্যে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তার অভিনীত ‘রং রসিয়া’ চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গ এনে তিনি আরো বলেন, মামলায় মূলতঃ তাকেই টার্গেট করা হয়েছিল।

আলোচনায় রাওলাটের এক প্রশ্নের জবাবে এস্থার ফ্রয়েড বলেন, যারা নারীর উপর নির্যাতন করে এমনকি নারীকে একটি গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চায়, এমন অসহিষ্ণু মানুষদের সঙ্গে সহিষ্ণু বা উদারনৈতিক মানুষদের আলোচনা করা উচিত। এটা করা হয় না বলেই অসহিষ্ণু মানুষদের কেউ বিরুদ্ধাচারণ করে না। এতে দিন দিন তাদের কণ্ঠস্বর আরও উঁচু হচ্ছে। তারা এখন আগের চেয়ে অনেক জোরে তাদের সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা প্রচার করছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া কাভারেজও পাচ্ছে। এ পুরো প্রক্রিয়া মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে এবং তার শিকার হচ্ছে নারীরাই। কেবল জাতিগতভাবেই নয়, তাদের কারণে অনেক নারীকে ব্যক্তিগতভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে। তাই বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের উচিত তাদের এসব বিষবাষ্প কানে না ঢুকতে দেয়া।

বিগো চিওল আরো বলেন, অসহিষ্ণুতা প্রতিরোধে নারী সাহিত্যিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের সময়কে ধারণ করার দায়িত্ব থেকেই তাদের এ অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে সোচ্চার হতে হবে। একইসঙ্গে পুরুষদেরও এ বিষয়ে পজিটিভ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আজ এ সেশনে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে কি পুরুষরা আদৌ মাথা ঘামায়? বিগো আরো বলেন, এ সমস্যাগুলো পুরুষদের জন্যই তৈরি হচ্ছে। তাই এর সমাধানে পুরুষদেরই এগিয়ে আসা উচিত।

সেশনের শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী অধিকার, সহিষ্ণুতার পাশাপাশি রাজনীতিতে নারীদের অবস্থান, অংশগ্রহণ এবং বিশেষ করে বিগত মার্কিন নির্বাচন ও ট্রাম্পের কাছে হিলারির হেরে যাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

অসহিষ্ণুতা প্রতিরোধে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও এগিয়ে আসতে হবে

আপডেট সময় ০৬:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারীর প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রতিরোধে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও এগিয়ে আসতে হবে। আর নিজেদের সাফল্যের গল্প নিজেদেরই বলতে হবে। ‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭-এর তৃতীয় ও শেষ দিন আজ শনিবার সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘উইমেন, আর্ট অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক সেশনে বক্তারা এ কথা বলেন।

সেশনটি সঞ্চালনা করেন বি রাওলাট। আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও অভিনেতা এস্থার ফ্রয়েড, স্পোকেন ওয়ার্ড আর্টিস্ট বিগো চিওল, লেখক ও অভিনেতা নন্দনা সেন এবং কবি-লেখক ও লিট ফেস্টের অন্যতম উদ্যোক্তা সাদাফ সায্।

সেশনের শুরুতে সাদাফ সায্ বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এনে বলেন, এ দেশের নারীরা দিন দিন কর্মমুখী হয়ে উঠছেন। তবে ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে নারীদের প্রতি অসহিষ্ণুতা এখনও একটি বড় সমস্যা হয়েই আছে।

তিনি বলেন, তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী তৎপরতায় এ দেশের সংস্কৃতি নারীদের ব্যাপারে অনেক উদার হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, এ দেশে নারীরা তত বেশি কর্মমুখী হয়ে উঠছেন এবং নানা ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকাও পালন করছেন।

সাদাফ সায্ আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রক্রিয়ায় এ দেশের নারীদের সবচেয়ে বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। প্রায় চার লাখ নারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ধর্ষণের শিকার হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র তাদের সম্মানজনক স্বীকৃতি দেয়।

বি রাওলাট একটি বাস্তব বিষয় তুলে ধরে বলেন, লন্ডনের রাস্তায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের অনেক ভাস্কর্য আছে। কিন্তু তার প্রায় সবগুলোই পুরুষের। ফলে লন্ডনে বেড়ে ওঠা প্রত্যেক শিশুর এ ধারণা গড়ে ওঠার কথা যে তাদের ইতিহাসের সবকিছুই পুরুষের গড়া। এ প্রেক্ষিতে বিগো চিওল বলেন, আসলে নারীদের সাফল্যের কথা কেউ বলতে চায়না। এ ক্ষেত্রে নারীদের সাফল্যের গল্প তাদেরই বলতে হবে। আর সেটা শুরু করতে হবে গল্প বলার অভ্যাসের মধ্যে দিয়ে। এ গল্প বলা হয় না বলেই আফ্রিকায় অধিকাংশ কাজ নারীরা করলেও তারা দিন শেষে কোন কৃতিত্বই পান না।

নন্দনা সেন বলেন, বাকি বিশ্বের তুলনায় ভারতে নারী নির্যাতনের সমস্যা বেশ প্রকট। উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি ভারতে এক নারী সাংবাদিক খুনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই খুনের পর বলার মতো তদন্ত তো হয়ই নি, বরং অনেকে প্রকাশ্যে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তার অভিনীত ‘রং রসিয়া’ চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গ এনে তিনি আরো বলেন, মামলায় মূলতঃ তাকেই টার্গেট করা হয়েছিল।

আলোচনায় রাওলাটের এক প্রশ্নের জবাবে এস্থার ফ্রয়েড বলেন, যারা নারীর উপর নির্যাতন করে এমনকি নারীকে একটি গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চায়, এমন অসহিষ্ণু মানুষদের সঙ্গে সহিষ্ণু বা উদারনৈতিক মানুষদের আলোচনা করা উচিত। এটা করা হয় না বলেই অসহিষ্ণু মানুষদের কেউ বিরুদ্ধাচারণ করে না। এতে দিন দিন তাদের কণ্ঠস্বর আরও উঁচু হচ্ছে। তারা এখন আগের চেয়ে অনেক জোরে তাদের সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা প্রচার করছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া কাভারেজও পাচ্ছে। এ পুরো প্রক্রিয়া মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে এবং তার শিকার হচ্ছে নারীরাই। কেবল জাতিগতভাবেই নয়, তাদের কারণে অনেক নারীকে ব্যক্তিগতভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে। তাই বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের উচিত তাদের এসব বিষবাষ্প কানে না ঢুকতে দেয়া।

বিগো চিওল আরো বলেন, অসহিষ্ণুতা প্রতিরোধে নারী সাহিত্যিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের সময়কে ধারণ করার দায়িত্ব থেকেই তাদের এ অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে সোচ্চার হতে হবে। একইসঙ্গে পুরুষদেরও এ বিষয়ে পজিটিভ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আজ এ সেশনে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে কি পুরুষরা আদৌ মাথা ঘামায়? বিগো আরো বলেন, এ সমস্যাগুলো পুরুষদের জন্যই তৈরি হচ্ছে। তাই এর সমাধানে পুরুষদেরই এগিয়ে আসা উচিত।

সেশনের শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী অধিকার, সহিষ্ণুতার পাশাপাশি রাজনীতিতে নারীদের অবস্থান, অংশগ্রহণ এবং বিশেষ করে বিগত মার্কিন নির্বাচন ও ট্রাম্পের কাছে হিলারির হেরে যাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।