ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গুমের অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানার সাত কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে। সোমবার দুপুরে মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার সকালে আবেদন করে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন বাদী হিরা খাতুন।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার হওয়ায় এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। এভাবে তড়িঘড়ি মামলা প্রত্যাহারে কোনো মহলের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

ছেলেকে অপহরণের পর দাবিকৃত ঘুষের টাকা না পেয়ে হত্যা ও গুমের অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানার সাত কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের হয়েছিল।

মামলায় আসামি করা হয়, যশোর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এইচএম শহিদুল ইসলাম, আমির হোসেন, হাসানুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাজন গাজী, সেলিম মুন্সী, বিপ্লব হোসেন, সেলিম আহমেদ, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, ড্রাইভার কনস্টেবল মো: রমজান, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, আবু বক্কার, ড্রাইভার কনস্টেবল মিজান শেখ, কনস্টেবল মাহমুদুর রহমান, রাজিবুল ইসলাম, টোকন হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৫ এপ্রিল সকাল ১০ দিকে বাদীর ছেলে সাঈদ ও তার বন্ধু শাওন পৌর পার্কে বেড়াতে যায়। ঐদিন বেলা ১২টার দিকে সাক্ষী সাব্বির হোসেন ফোনে জানায় তার ছেলে সাঈদ ও শাওনকে পুলিশ ধরেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেন পুলিশ ওই দুইজনকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এরপর বাদী ও সাক্ষীগণ যশোর কোতোয়ালি থানায় যান। কিন্তু তাদের থানার ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সন্ধ্যা পর্যন্ত বাদী ও সাক্ষীগণ থানার সামনে বসে ছিল। তারপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১ ও ২ নম্বর আসামি বাদীকে ডেকে ছেলেকে ছাড়াতে দুই লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। সাক্ষীরা বাদীকে বোঝায় পুলিশকে টাকা দেয়ার দরকার নেই। আদালতে চালান দিলে সেখান থেকে জামিন নেওয়া যাবে। কিন্তু ৭ এপ্রিল পত্রিকার নিউজে তারা জানতে পারে, সাঈদ ও শাওন পালিয়েছে। থানায় ও আদালতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় বাদীর ছেলে ও তার বন্ধু পালিয়েছে। সেই ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই দুজনকে আসামি করা হয়েছে। এরপর বাদী আসামিদের কাছে গিয়ে ছেলের সন্ধান চাইলে খারাপ আচরণ করা হয়। কোন উপায় না পেয়ে ৩০ মে বাদী সংবাদ সম্মেলন করেন। তাতেও কোন সন্ধান মেলেনি। বাদীর ধারণা ঘুষের দুই লাখ টাকা না দেওয়ায় আগামিগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে হত্যার পর লাশ গুম করেছে। অসহায় বিভিন্নস্থনে ঘুরেও ছেলের সন্ধান পাননি।

মঙ্গলবার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দেন। পুলিশের বিরুদ্ধে এ মামলার পরই গোটা যশোরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নানাভাবে মামলার বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের চাপ ও হুমকি প্রদান শুরু হয়। এক পর্যায়ে বুধবার সকালে হিরা খাতুন একই আইনজীবীর মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহারে আদালত অঙ্গনেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হিরা খাতুনের আইনজীবী অজিত কুমার দাস জানান, বাদী নিজে এসে মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান। বাদী আবেদনে লিখেছেন, আসামিদের সাথে মীমাংসা হওয়ায় এবং আসামিরা এ ঘটনার সাথে জড়িত না বুঝতে পেরে আমি এ মামলা চালাতে ইচ্ছুক নই। পরে বিচারক আবেদনটি গ্রহণ করেন।

এদিকে, যশোরের আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্যরা বলছেন, কোনো মহলের প্রভাবের কারণেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। তাছাড়া যে আদালত মামলা গ্রহণ করেছেন সেই আদালতই তদন্তে থাকা মামলা আইনগতভাবে প্রত্যাহার করতে পারেন না।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাচ্চু বলেন, এই মামলায় যারা আসামি তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ক্ষমতার অধিকারী। এজন্য এই প্রত্যাহার নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছে। নিসন্দেহে বলা যায়, পেছন থেকে কিছু কাজ হয়েছে যার জন্যে এই মামলা প্রত্যাহার খুবই দ্রুততার সাথে হয়েছে।

মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশন পরিচালক (তদন্ত) অ্যাড. আবুল কাশেম বলেন, যিনি মামলাটি করেছিলেন তিনি অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা। এই মহিলার সন্তানকে আটকের পর সাক্ষাতের জন্য দেন দরবার ও খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পুলিশ পাল্টা মামলা করে দাবি করে, পুলিশের কাস্টডি থেকে সে পালিয়ে গেছে।

কিন্তু দীর্ঘদিনেরও সন্তানের সন্ধান না পাওয়ায় হিরা খাতুন মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের শরনাপন্ন হয়। এর প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের হলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তভার প্রদান করে। ফলে মামলাটি তদন্তাধীন। আর ৩৬৪ ধারার মামলা দায়রা জজ ছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করতে পারেন না। এই অবস্থায় তদন্তাধীন মামলা এই আদালত থেকে কিভাবে প্রত্যাহার হলো তা বোধগম্য নয়। এছাড়া আমরা শুনতে পাচ্ছি, অসহায় ওই মহিলার ওপর অত্যাধিক চাপ প্রয়োগ করে মামলা প্রত্যাহার করানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০৮:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গুমের অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানার সাত কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে। সোমবার দুপুরে মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার সকালে আবেদন করে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন বাদী হিরা খাতুন।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার হওয়ায় এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। এভাবে তড়িঘড়ি মামলা প্রত্যাহারে কোনো মহলের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

ছেলেকে অপহরণের পর দাবিকৃত ঘুষের টাকা না পেয়ে হত্যা ও গুমের অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানার সাত কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের হয়েছিল।

মামলায় আসামি করা হয়, যশোর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এইচএম শহিদুল ইসলাম, আমির হোসেন, হাসানুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাজন গাজী, সেলিম মুন্সী, বিপ্লব হোসেন, সেলিম আহমেদ, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, ড্রাইভার কনস্টেবল মো: রমজান, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, আবু বক্কার, ড্রাইভার কনস্টেবল মিজান শেখ, কনস্টেবল মাহমুদুর রহমান, রাজিবুল ইসলাম, টোকন হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৫ এপ্রিল সকাল ১০ দিকে বাদীর ছেলে সাঈদ ও তার বন্ধু শাওন পৌর পার্কে বেড়াতে যায়। ঐদিন বেলা ১২টার দিকে সাক্ষী সাব্বির হোসেন ফোনে জানায় তার ছেলে সাঈদ ও শাওনকে পুলিশ ধরেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেন পুলিশ ওই দুইজনকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এরপর বাদী ও সাক্ষীগণ যশোর কোতোয়ালি থানায় যান। কিন্তু তাদের থানার ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সন্ধ্যা পর্যন্ত বাদী ও সাক্ষীগণ থানার সামনে বসে ছিল। তারপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১ ও ২ নম্বর আসামি বাদীকে ডেকে ছেলেকে ছাড়াতে দুই লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। সাক্ষীরা বাদীকে বোঝায় পুলিশকে টাকা দেয়ার দরকার নেই। আদালতে চালান দিলে সেখান থেকে জামিন নেওয়া যাবে। কিন্তু ৭ এপ্রিল পত্রিকার নিউজে তারা জানতে পারে, সাঈদ ও শাওন পালিয়েছে। থানায় ও আদালতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় বাদীর ছেলে ও তার বন্ধু পালিয়েছে। সেই ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই দুজনকে আসামি করা হয়েছে। এরপর বাদী আসামিদের কাছে গিয়ে ছেলের সন্ধান চাইলে খারাপ আচরণ করা হয়। কোন উপায় না পেয়ে ৩০ মে বাদী সংবাদ সম্মেলন করেন। তাতেও কোন সন্ধান মেলেনি। বাদীর ধারণা ঘুষের দুই লাখ টাকা না দেওয়ায় আগামিগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে হত্যার পর লাশ গুম করেছে। অসহায় বিভিন্নস্থনে ঘুরেও ছেলের সন্ধান পাননি।

মঙ্গলবার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দেন। পুলিশের বিরুদ্ধে এ মামলার পরই গোটা যশোরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নানাভাবে মামলার বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের চাপ ও হুমকি প্রদান শুরু হয়। এক পর্যায়ে বুধবার সকালে হিরা খাতুন একই আইনজীবীর মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহারে আদালত অঙ্গনেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হিরা খাতুনের আইনজীবী অজিত কুমার দাস জানান, বাদী নিজে এসে মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান। বাদী আবেদনে লিখেছেন, আসামিদের সাথে মীমাংসা হওয়ায় এবং আসামিরা এ ঘটনার সাথে জড়িত না বুঝতে পেরে আমি এ মামলা চালাতে ইচ্ছুক নই। পরে বিচারক আবেদনটি গ্রহণ করেন।

এদিকে, যশোরের আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্যরা বলছেন, কোনো মহলের প্রভাবের কারণেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। তাছাড়া যে আদালত মামলা গ্রহণ করেছেন সেই আদালতই তদন্তে থাকা মামলা আইনগতভাবে প্রত্যাহার করতে পারেন না।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাচ্চু বলেন, এই মামলায় যারা আসামি তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ক্ষমতার অধিকারী। এজন্য এই প্রত্যাহার নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছে। নিসন্দেহে বলা যায়, পেছন থেকে কিছু কাজ হয়েছে যার জন্যে এই মামলা প্রত্যাহার খুবই দ্রুততার সাথে হয়েছে।

মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশন পরিচালক (তদন্ত) অ্যাড. আবুল কাশেম বলেন, যিনি মামলাটি করেছিলেন তিনি অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা। এই মহিলার সন্তানকে আটকের পর সাক্ষাতের জন্য দেন দরবার ও খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পুলিশ পাল্টা মামলা করে দাবি করে, পুলিশের কাস্টডি থেকে সে পালিয়ে গেছে।

কিন্তু দীর্ঘদিনেরও সন্তানের সন্ধান না পাওয়ায় হিরা খাতুন মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের শরনাপন্ন হয়। এর প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের হলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তভার প্রদান করে। ফলে মামলাটি তদন্তাধীন। আর ৩৬৪ ধারার মামলা দায়রা জজ ছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করতে পারেন না। এই অবস্থায় তদন্তাধীন মামলা এই আদালত থেকে কিভাবে প্রত্যাহার হলো তা বোধগম্য নয়। এছাড়া আমরা শুনতে পাচ্ছি, অসহায় ওই মহিলার ওপর অত্যাধিক চাপ প্রয়োগ করে মামলা প্রত্যাহার করানো হয়েছে।