ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশ গড়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : মঈন খান মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল

হরিণের মাংস হয়ে গেলো গরুর মাংস

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হরিণের মাংসসহ সাতক্ষীরায় পুলিশের হাতে ধরা খাওয়ার পর পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুসের বিনিময়ে সেটিকে গরুর মাংস বলেছে পুলিশ। আর সেই সঙ্গে মাংস পাচারকারী যুবক প্রসেনজিত রপ্তানকে মুক্তিও দিয়েছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর কামাল মাস্টারের মোড়ে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ অবশ্য বলছে ‌`হরিণের মাংস` পাচারকারী হিসেবে প্রসেনজিতকে আটক করা হয়েছিল। পরে দেখা যায় সেটি ছিল গরুর মাংস। তাই তাকে প্রাথমিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক ওই মাংস পাঠানো হয়েছে ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় সেটি হরিণের মাংস তাহলে মামলা হবে। গ্রেফতার করা হবে প্রসেনজিতকে।

জানা গেছে, উপজেলার জেলেখালি গ্রামের রথীন্দ্রনাথের ছেলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক প্রসেনজিত রপ্তান রাতে প্রায় ২০ কেজি কাঁচা মাংস নিয়ে আসেন শ্যামনগর বাজারে।গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাংসসহ তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। এ সময় ইউপি সদস্য জলিল কাগুজির মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার গোপন চুক্তি হয় পুলিশের সাথে। সে অনুযায়ী পুলিশ ঘোষণা দেয় যে এটা হরিণের নয়, গরুর মাংস।

পরে লোক দেখানোর জন্য পরীক্ষার নামে এ মাংস নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা প্রিয়াংকা কুণ্ডর কাছে। প্রিয়াংকা বলেন, আমি বলেছি টেস্টিং মেশিনে পরীক্ষা না করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। রোববার বিকেল পর্যন্ত আমার কাছে ওই মাংসের নমুনা পাঠায়নি পুলিশ।

শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলি জানান, পরীক্ষার জন্য কাঁচা মাংস প্রাণি সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হবে। রেজাল্ট এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসেনজিতকে মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

হরিণের মাংস পাচার ও থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জলিল কাগুজি জানান, ছেলেটি পাগলা ধরণের। আমি চেয়ারম্যানের কথা মতো তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। পুলিশের সাথে টাকা লেনদেন আমার মাধ্যমে হয়নি।

জেলেখালি গ্রামের লোকজন জানায়, প্রসেনজিত রপ্তান দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ও প্রকাশ্যে হরিণের মাংস বেচা-কেনা করে আসছেন। প্রয়োজনে তার কাছে অর্ডার দিলে তিনি বাড়িতেই হরিণের মাংস পৌঁছে দেন। এজন্য তার নেতৃত্বে একটি গ্যাং রয়েছে। গ্যাংয়ের অপর সদস্যরা শনিবার রাতে পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে গেছে। প্রসেনজিতের বাবা রথীন্দ্রনাথ বলেন, খোকাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনা কি তা আমি জানি না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশ গড়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : মঈন খান

হরিণের মাংস হয়ে গেলো গরুর মাংস

আপডেট সময় ১০:১৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হরিণের মাংসসহ সাতক্ষীরায় পুলিশের হাতে ধরা খাওয়ার পর পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুসের বিনিময়ে সেটিকে গরুর মাংস বলেছে পুলিশ। আর সেই সঙ্গে মাংস পাচারকারী যুবক প্রসেনজিত রপ্তানকে মুক্তিও দিয়েছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর কামাল মাস্টারের মোড়ে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ অবশ্য বলছে ‌`হরিণের মাংস` পাচারকারী হিসেবে প্রসেনজিতকে আটক করা হয়েছিল। পরে দেখা যায় সেটি ছিল গরুর মাংস। তাই তাকে প্রাথমিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক ওই মাংস পাঠানো হয়েছে ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় সেটি হরিণের মাংস তাহলে মামলা হবে। গ্রেফতার করা হবে প্রসেনজিতকে।

জানা গেছে, উপজেলার জেলেখালি গ্রামের রথীন্দ্রনাথের ছেলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক প্রসেনজিত রপ্তান রাতে প্রায় ২০ কেজি কাঁচা মাংস নিয়ে আসেন শ্যামনগর বাজারে।গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাংসসহ তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। এ সময় ইউপি সদস্য জলিল কাগুজির মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার গোপন চুক্তি হয় পুলিশের সাথে। সে অনুযায়ী পুলিশ ঘোষণা দেয় যে এটা হরিণের নয়, গরুর মাংস।

পরে লোক দেখানোর জন্য পরীক্ষার নামে এ মাংস নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা প্রিয়াংকা কুণ্ডর কাছে। প্রিয়াংকা বলেন, আমি বলেছি টেস্টিং মেশিনে পরীক্ষা না করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। রোববার বিকেল পর্যন্ত আমার কাছে ওই মাংসের নমুনা পাঠায়নি পুলিশ।

শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলি জানান, পরীক্ষার জন্য কাঁচা মাংস প্রাণি সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হবে। রেজাল্ট এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসেনজিতকে মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

হরিণের মাংস পাচার ও থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জলিল কাগুজি জানান, ছেলেটি পাগলা ধরণের। আমি চেয়ারম্যানের কথা মতো তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। পুলিশের সাথে টাকা লেনদেন আমার মাধ্যমে হয়নি।

জেলেখালি গ্রামের লোকজন জানায়, প্রসেনজিত রপ্তান দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ও প্রকাশ্যে হরিণের মাংস বেচা-কেনা করে আসছেন। প্রয়োজনে তার কাছে অর্ডার দিলে তিনি বাড়িতেই হরিণের মাংস পৌঁছে দেন। এজন্য তার নেতৃত্বে একটি গ্যাং রয়েছে। গ্যাংয়ের অপর সদস্যরা শনিবার রাতে পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে গেছে। প্রসেনজিতের বাবা রথীন্দ্রনাথ বলেন, খোকাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনা কি তা আমি জানি না।