ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সাঁথিয়ায় এক প্রেমে তিন মৃত্যু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার সাঁথিয়ায় কিশোর প্রেমের করুণ পরিণতি ঘটেছে। এক প্রেমের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সাঁথিযা উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে রাসেল নামে এক কিশোর প্রেমিক আত্মহত্যা করেছে।

প্রেমিকের এ আত্মহত্যার খবর শুনে প্রেমিকাও আত্মহত্যা করেছে। প্রেমিক নাতি রাসেলের লাশ দেখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার দাদারও মৃত্যু হয়। এক প্রেমের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গোটা উপজেলায় সৃষ্টি করেছে তুমুল চাঞ্চল্য।

পুলিশ জানায়, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামের বিদেশ প্রবাসী সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ক্ষেতুপাড়া আব্দুর সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রবিউল ইসলাম রাসেল (১৬) গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। এ সংবাদ শুনে বুধবার সকালে প্রেমিকা সাদিয়া আক্তার ঋতু (১৬) বাবার বাড়িতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

সাদিয়া একই গ্রামের আবু সাইয়িদের মেয়ে। নবম শ্রেণিতে একইসঙ্গে পড়া অবস্থায় ঋতুর সঙ্গে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তিন মাস পূর্বে আতাইকুলায় বিয়ে হয় ঋতুর। ঘটনার দিন বাবার বাড়িতে ছিল ঋতু। নাতি রাসেলের লাশ দেখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় দাদা মাসুদ মোল্লার (৫২)। পরে বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

সাদিয়া আক্তার ঋতুর মা জাবেদা খাতুন জানান, রাসেলের লাশ দেখতে যাওয়ার কথা ঋতুকে বললে তার কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায় না। পরে তার ঘরে গিয়ে আঁড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করা অবস্থায় দেখা যায়। এদিকে রাসেলের মা রুলিয়া খাতুন জানান, আমার ছেলে ও ঋতু একই সঙ্গে স্কুলে যেত। তাদের দুই জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তা আমরা জানতাম না।

ক্ষেতুপাড়া আব্দুর সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন জানান, আমি ছাত্র/ছাত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। তারা খুব ভালো শিক্ষার্থী ছিল। দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে তারা জানেন না।

খবর শুনে সাঁথিয়া থানার পুলিশ পৃথকভাবে এই কিশোর প্রেমিকযুগলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান ইমাম ইনাম জানান, প্রেমের ঘটনায় দুই জন আত্মহত্যা করেছে। তাদের লাশ পাবনা মর্গে রাখা করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

সাঁথিয়ায় এক প্রেমে তিন মৃত্যু

আপডেট সময় ১২:৩২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার সাঁথিয়ায় কিশোর প্রেমের করুণ পরিণতি ঘটেছে। এক প্রেমের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সাঁথিযা উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে রাসেল নামে এক কিশোর প্রেমিক আত্মহত্যা করেছে।

প্রেমিকের এ আত্মহত্যার খবর শুনে প্রেমিকাও আত্মহত্যা করেছে। প্রেমিক নাতি রাসেলের লাশ দেখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার দাদারও মৃত্যু হয়। এক প্রেমের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গোটা উপজেলায় সৃষ্টি করেছে তুমুল চাঞ্চল্য।

পুলিশ জানায়, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামের বিদেশ প্রবাসী সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ক্ষেতুপাড়া আব্দুর সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রবিউল ইসলাম রাসেল (১৬) গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। এ সংবাদ শুনে বুধবার সকালে প্রেমিকা সাদিয়া আক্তার ঋতু (১৬) বাবার বাড়িতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

সাদিয়া একই গ্রামের আবু সাইয়িদের মেয়ে। নবম শ্রেণিতে একইসঙ্গে পড়া অবস্থায় ঋতুর সঙ্গে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তিন মাস পূর্বে আতাইকুলায় বিয়ে হয় ঋতুর। ঘটনার দিন বাবার বাড়িতে ছিল ঋতু। নাতি রাসেলের লাশ দেখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় দাদা মাসুদ মোল্লার (৫২)। পরে বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

সাদিয়া আক্তার ঋতুর মা জাবেদা খাতুন জানান, রাসেলের লাশ দেখতে যাওয়ার কথা ঋতুকে বললে তার কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায় না। পরে তার ঘরে গিয়ে আঁড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করা অবস্থায় দেখা যায়। এদিকে রাসেলের মা রুলিয়া খাতুন জানান, আমার ছেলে ও ঋতু একই সঙ্গে স্কুলে যেত। তাদের দুই জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তা আমরা জানতাম না।

ক্ষেতুপাড়া আব্দুর সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন জানান, আমি ছাত্র/ছাত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। তারা খুব ভালো শিক্ষার্থী ছিল। দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে তারা জানেন না।

খবর শুনে সাঁথিয়া থানার পুলিশ পৃথকভাবে এই কিশোর প্রেমিকযুগলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান ইমাম ইনাম জানান, প্রেমের ঘটনায় দুই জন আত্মহত্যা করেছে। তাদের লাশ পাবনা মর্গে রাখা করা হয়েছে।