ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একশ্রেণীর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় মনে করে, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই, মজুদ পরিস্থিতিও ভালো। কিন্তু তারপরও প্রায় প্রতিদিন এই পণ্যের দাম বাড়ছে। এখন এক কেজি দেশী পেঁয়াজ ৮০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শুধু ভারত থেকে নয়, একই সাথে মিসর, থাইল্যান্ড ও চীন থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামিমা ইয়াছমিনের সভাপতিত্বে দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জনা গেছে, আলোচনায় উঠে আসে দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। আমদানি ব্যয় বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি হিসাবে দেখা গেছে, দেশে বছরে ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। আর চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়ে থাকে ১৯-২০ লাখ টন। তবে বছরে ১৯ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়ার তথ্যটি বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, দেশে পেঁয়াজের চাহিদার ৬০ ভাগ দেশীয় পেঁয়াজ দিয়ে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করে মেটাতে হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সাত লাখ ৯০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এর বিপরীতে সেটেলমেন্ট হয়েছে আট লাখ ছয় হাজার টন। অর্থাৎ চলতি বছরে ইতোমধ্যে আমদানি করা আট লাখ ছয় হাজার টন পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে পাঁচ লাখ টনের মতো দেশী পেঁয়াজ মজুদ আছে। সুতরাং সাম্প্রতিক আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে এমন যুক্তি সঠিক নয়।

তাই পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ছে তা জানার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিগগিরই এ বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

এ দিকে দাম নিয়ন্ত্রণে ভারতের পাশাপাশি বিকল্প সোর্সিং থেকে পেঁয়াজ আমদানি উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমদানিকারকদের মিসর, থাইল্যান্ড ও চায়না থেকে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির জন্য নির্দেশ দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণে মজুদকৃত পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসতে মনিটরিং-ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা সংরণ অধিদফতর নিয়মিত বাজার মনিটরিং করবে বলে জানা গেছে।

এ দিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাস আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা, যা বর্তমানে ৫৮-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এক মাস আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা। এখন তা সর্বোচ্চ ৭৫-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একশ্রেণীর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় মনে করে, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই, মজুদ পরিস্থিতিও ভালো। কিন্তু তারপরও প্রায় প্রতিদিন এই পণ্যের দাম বাড়ছে। এখন এক কেজি দেশী পেঁয়াজ ৮০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শুধু ভারত থেকে নয়, একই সাথে মিসর, থাইল্যান্ড ও চীন থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামিমা ইয়াছমিনের সভাপতিত্বে দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জনা গেছে, আলোচনায় উঠে আসে দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। আমদানি ব্যয় বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি হিসাবে দেখা গেছে, দেশে বছরে ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। আর চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়ে থাকে ১৯-২০ লাখ টন। তবে বছরে ১৯ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়ার তথ্যটি বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, দেশে পেঁয়াজের চাহিদার ৬০ ভাগ দেশীয় পেঁয়াজ দিয়ে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করে মেটাতে হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সাত লাখ ৯০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এর বিপরীতে সেটেলমেন্ট হয়েছে আট লাখ ছয় হাজার টন। অর্থাৎ চলতি বছরে ইতোমধ্যে আমদানি করা আট লাখ ছয় হাজার টন পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে পাঁচ লাখ টনের মতো দেশী পেঁয়াজ মজুদ আছে। সুতরাং সাম্প্রতিক আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে এমন যুক্তি সঠিক নয়।

তাই পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ছে তা জানার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিগগিরই এ বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

এ দিকে দাম নিয়ন্ত্রণে ভারতের পাশাপাশি বিকল্প সোর্সিং থেকে পেঁয়াজ আমদানি উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমদানিকারকদের মিসর, থাইল্যান্ড ও চায়না থেকে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির জন্য নির্দেশ দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণে মজুদকৃত পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসতে মনিটরিং-ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা সংরণ অধিদফতর নিয়মিত বাজার মনিটরিং করবে বলে জানা গেছে।

এ দিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাস আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা, যা বর্তমানে ৫৮-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এক মাস আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা। এখন তা সর্বোচ্চ ৭৫-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ।