ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কবর জিয়ারত করতে এসে ডিবির হাতে আটক প্রকৌশলী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চুয়াডাঙ্গায় বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলিয়ান প্রকৌশলীকে তুলে নিয়ে দুই হাজার পিচ ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে।

পরিবারের দাবি, গাজীপুরের ডিবি পুলিশ চুয়াডাঙ্গা থেকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক প্রকৌশলী সৈয়দ মোঃ নাদিম উল্লাহকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ বাবদ তার মায়ের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। সেই টাকা না দেওয়ায় ইয়াবা দিয়ে তাঁকে গাজীপুরের আদালতে চালান দেওয়া হয়। প্রকৌশলী নাদিম উল্লাহ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানকার নাগরিকত্বও পেয়েছেন তিনি।

নাদিম উল্লাহর পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি থেকে ভ্যানে করে আলমডাঙ্গা শহরে যাচ্ছিলেন। পথে আলমডাঙ্গা শহর লাল ব্রিজের ওপর থেকে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের একটি দল মাইক্রোবাসে করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে গাজীপুর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে নাদিমের মা সৈয়দা নাহিদ সুলতানার কাছে ফোন করেন। নাদিমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় নাদিমকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেয় ডিবি।

সৈয়দা নাহিদ সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে হেনস্থা করতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি অবিলম্বে নাহিদের মুক্তিসহ এ ঘটনায় জড়িত ডিবি পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেছেন।

নাদিমের ফুফাতো বোন নূরজাহান জানান, নাদিম ১৮ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করে আসছেন। তিনি সেখানকার নাগরিক। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েও অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। নাদিমের বাবা বরকত উল্লাহ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় এক বছর ধরে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

নাদিম উল্লাহকে বহনকারী ভ্যানচালক নাজমুল হোসেন বলেন, তিনি নাদিম উল্লাহসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কালিদাসপুর ইউনিয়নে যান। সেখানে নাদিম তাঁর বাবার কবর জিয়ারত শেষে মা ও ভাইকে বাড়িতে রেখে ওই ভ্যানে করেই আলমডাঙ্গা রেজিস্ট্রি অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে আলমডাঙ্গা শহর লাল ব্রিজের ওপর থেকে কিছু লোক দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে নাদিম উল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাইরের কোনো জেলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দল অন্য জেলায় গেলে স্থানীয় থানায় জানাতে হবে। কাজ শেষে পুনরায় জানিয়ে তারপর যাবে।

ওসি আরো জানান, গাজীপুর ডিবির একটি টিম আলমডাঙ্গায় আসার আগে ফোন করেছিল। কিন্তু এসে কী করে, তা বলেনি। তবে নাদিমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর তিনি শুনেছেন।

তবে এ ব্যাপারে গাজীপুর ডিবি পুলিশের ওসি আমির হোসেন বলেন, নাদিমকে দুই হাজার ইয়াবা বড়িসহ গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে চালান দেওয়া হয়েছে। নাদিমকে আলমডাঙ্গা তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আকরাম হোসেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কবর জিয়ারত করতে এসে ডিবির হাতে আটক প্রকৌশলী

আপডেট সময় ০৪:২২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চুয়াডাঙ্গায় বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলিয়ান প্রকৌশলীকে তুলে নিয়ে দুই হাজার পিচ ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে।

পরিবারের দাবি, গাজীপুরের ডিবি পুলিশ চুয়াডাঙ্গা থেকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক প্রকৌশলী সৈয়দ মোঃ নাদিম উল্লাহকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ বাবদ তার মায়ের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। সেই টাকা না দেওয়ায় ইয়াবা দিয়ে তাঁকে গাজীপুরের আদালতে চালান দেওয়া হয়। প্রকৌশলী নাদিম উল্লাহ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানকার নাগরিকত্বও পেয়েছেন তিনি।

নাদিম উল্লাহর পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি থেকে ভ্যানে করে আলমডাঙ্গা শহরে যাচ্ছিলেন। পথে আলমডাঙ্গা শহর লাল ব্রিজের ওপর থেকে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের একটি দল মাইক্রোবাসে করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে গাজীপুর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে নাদিমের মা সৈয়দা নাহিদ সুলতানার কাছে ফোন করেন। নাদিমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় নাদিমকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেয় ডিবি।

সৈয়দা নাহিদ সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে হেনস্থা করতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি অবিলম্বে নাহিদের মুক্তিসহ এ ঘটনায় জড়িত ডিবি পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেছেন।

নাদিমের ফুফাতো বোন নূরজাহান জানান, নাদিম ১৮ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করে আসছেন। তিনি সেখানকার নাগরিক। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েও অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। নাদিমের বাবা বরকত উল্লাহ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় এক বছর ধরে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

নাদিম উল্লাহকে বহনকারী ভ্যানচালক নাজমুল হোসেন বলেন, তিনি নাদিম উল্লাহসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কালিদাসপুর ইউনিয়নে যান। সেখানে নাদিম তাঁর বাবার কবর জিয়ারত শেষে মা ও ভাইকে বাড়িতে রেখে ওই ভ্যানে করেই আলমডাঙ্গা রেজিস্ট্রি অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে আলমডাঙ্গা শহর লাল ব্রিজের ওপর থেকে কিছু লোক দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে নাদিম উল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাইরের কোনো জেলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দল অন্য জেলায় গেলে স্থানীয় থানায় জানাতে হবে। কাজ শেষে পুনরায় জানিয়ে তারপর যাবে।

ওসি আরো জানান, গাজীপুর ডিবির একটি টিম আলমডাঙ্গায় আসার আগে ফোন করেছিল। কিন্তু এসে কী করে, তা বলেনি। তবে নাদিমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর তিনি শুনেছেন।

তবে এ ব্যাপারে গাজীপুর ডিবি পুলিশের ওসি আমির হোসেন বলেন, নাদিমকে দুই হাজার ইয়াবা বড়িসহ গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে চালান দেওয়া হয়েছে। নাদিমকে আলমডাঙ্গা তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আকরাম হোসেন।