ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

কবর জিয়ারত করতে এসে ডিবির হাতে আটক প্রকৌশলী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চুয়াডাঙ্গায় বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলিয়ান প্রকৌশলীকে তুলে নিয়ে দুই হাজার পিচ ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে।

পরিবারের দাবি, গাজীপুরের ডিবি পুলিশ চুয়াডাঙ্গা থেকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক প্রকৌশলী সৈয়দ মোঃ নাদিম উল্লাহকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ বাবদ তার মায়ের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। সেই টাকা না দেওয়ায় ইয়াবা দিয়ে তাঁকে গাজীপুরের আদালতে চালান দেওয়া হয়। প্রকৌশলী নাদিম উল্লাহ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানকার নাগরিকত্বও পেয়েছেন তিনি।

নাদিম উল্লাহর পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি থেকে ভ্যানে করে আলমডাঙ্গা শহরে যাচ্ছিলেন। পথে আলমডাঙ্গা শহর লাল ব্রিজের ওপর থেকে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের একটি দল মাইক্রোবাসে করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে গাজীপুর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে নাদিমের মা সৈয়দা নাহিদ সুলতানার কাছে ফোন করেন। নাদিমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় নাদিমকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেয় ডিবি।

সৈয়দা নাহিদ সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে হেনস্থা করতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি অবিলম্বে নাহিদের মুক্তিসহ এ ঘটনায় জড়িত ডিবি পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেছেন।

নাদিমের ফুফাতো বোন নূরজাহান জানান, নাদিম ১৮ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করে আসছেন। তিনি সেখানকার নাগরিক। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েও অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। নাদিমের বাবা বরকত উল্লাহ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় এক বছর ধরে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

নাদিম উল্লাহকে বহনকারী ভ্যানচালক নাজমুল হোসেন বলেন, তিনি নাদিম উল্লাহসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কালিদাসপুর ইউনিয়নে যান। সেখানে নাদিম তাঁর বাবার কবর জিয়ারত শেষে মা ও ভাইকে বাড়িতে রেখে ওই ভ্যানে করেই আলমডাঙ্গা রেজিস্ট্রি অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে আলমডাঙ্গা শহর লাল ব্রিজের ওপর থেকে কিছু লোক দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে নাদিম উল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাইরের কোনো জেলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দল অন্য জেলায় গেলে স্থানীয় থানায় জানাতে হবে। কাজ শেষে পুনরায় জানিয়ে তারপর যাবে।

ওসি আরো জানান, গাজীপুর ডিবির একটি টিম আলমডাঙ্গায় আসার আগে ফোন করেছিল। কিন্তু এসে কী করে, তা বলেনি। তবে নাদিমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর তিনি শুনেছেন।

তবে এ ব্যাপারে গাজীপুর ডিবি পুলিশের ওসি আমির হোসেন বলেন, নাদিমকে দুই হাজার ইয়াবা বড়িসহ গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে চালান দেওয়া হয়েছে। নাদিমকে আলমডাঙ্গা তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আকরাম হোসেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

কবর জিয়ারত করতে এসে ডিবির হাতে আটক প্রকৌশলী

আপডেট সময় ০৪:২২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চুয়াডাঙ্গায় বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলিয়ান প্রকৌশলীকে তুলে নিয়ে দুই হাজার পিচ ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে।

পরিবারের দাবি, গাজীপুরের ডিবি পুলিশ চুয়াডাঙ্গা থেকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক প্রকৌশলী সৈয়দ মোঃ নাদিম উল্লাহকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ বাবদ তার মায়ের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। সেই টাকা না দেওয়ায় ইয়াবা দিয়ে তাঁকে গাজীপুরের আদালতে চালান দেওয়া হয়। প্রকৌশলী নাদিম উল্লাহ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানকার নাগরিকত্বও পেয়েছেন তিনি।

নাদিম উল্লাহর পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি থেকে ভ্যানে করে আলমডাঙ্গা শহরে যাচ্ছিলেন। পথে আলমডাঙ্গা শহর লাল ব্রিজের ওপর থেকে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের একটি দল মাইক্রোবাসে করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর খোরশেদ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে গাজীপুর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে নাদিমের মা সৈয়দা নাহিদ সুলতানার কাছে ফোন করেন। নাদিমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় নাদিমকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেয় ডিবি।

সৈয়দা নাহিদ সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে হেনস্থা করতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি অবিলম্বে নাহিদের মুক্তিসহ এ ঘটনায় জড়িত ডিবি পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেছেন।

নাদিমের ফুফাতো বোন নূরজাহান জানান, নাদিম ১৮ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করে আসছেন। তিনি সেখানকার নাগরিক। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েও অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। নাদিমের বাবা বরকত উল্লাহ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় এক বছর ধরে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

নাদিম উল্লাহকে বহনকারী ভ্যানচালক নাজমুল হোসেন বলেন, তিনি নাদিম উল্লাহসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে কালিদাসপুর ইউনিয়নে যান। সেখানে নাদিম তাঁর বাবার কবর জিয়ারত শেষে মা ও ভাইকে বাড়িতে রেখে ওই ভ্যানে করেই আলমডাঙ্গা রেজিস্ট্রি অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে আলমডাঙ্গা শহর লাল ব্রিজের ওপর থেকে কিছু লোক দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে নাদিম উল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাইরের কোনো জেলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দল অন্য জেলায় গেলে স্থানীয় থানায় জানাতে হবে। কাজ শেষে পুনরায় জানিয়ে তারপর যাবে।

ওসি আরো জানান, গাজীপুর ডিবির একটি টিম আলমডাঙ্গায় আসার আগে ফোন করেছিল। কিন্তু এসে কী করে, তা বলেনি। তবে নাদিমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর তিনি শুনেছেন।

তবে এ ব্যাপারে গাজীপুর ডিবি পুলিশের ওসি আমির হোসেন বলেন, নাদিমকে দুই হাজার ইয়াবা বড়িসহ গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে চালান দেওয়া হয়েছে। নাদিমকে আলমডাঙ্গা তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আকরাম হোসেন।