অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
খুলনার আলোচিত স্কুল ছাত্রী শামসুন নাহার চাঁদনী আত্মহত্যায় মূল প্ররোচনাকারী শামীম হোসেন শুভকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে তার পিতা শাহ আলম ও মাতা জাকিয়া বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস নোয়াকাঠি গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ আব্দুল্লাহ আরেফ পিপিএম জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশের কয়েকটি গ্রুপ শুভকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শুভ’র অবস্থান নির্ণয় করা হচ্ছিল। সে প্রথমে খুলনা থেকে পঞ্চগড় যায়। সেখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর সে কুষ্টিয়া যায়। কুষ্টিয়া থেকে অবস্থান বদলে সে সাতক্ষীরা আসে। সর্বশেষ সাতক্ষীরা থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস নোয়াকাঠি গ্রামে পৌছায়। ওই গ্রামে পৌছানোর পরপরই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এ মামলার চার্জশীট দাখিল করা সম্ভব হবে বলেও জানান ডিসি আব্দুল্লাহ আরেফ। তিনি আরো জানান, আসামিদের আজ রোববার আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ, শামসুন নাহার চাঁদনীর পিতা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট রবিউল ইসলাম হরিণটানা প্রাইমারি স্কুলের সামনে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে কয়েক বছর ধরে পরিবারসহ বসবাস করছেন। তাদের প্রতিবেশী সেনিটারি মিস্ত্রি শাহ আলমের ছেলে শুভ পাইপমিস্ত্রি হিসাবে কাজ করতো। শুভর উৎপাত সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় খুলনার সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শামসুন নাহার চাঁদনী (১৫)।
গত ১৩ অক্টোবর রাতে মহানগরীর হরিণটানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিজ বাড়িতে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। চাঁদনীর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ১৪ অক্টোবর তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে লবণচরা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বখাটে শামীম হাওলাদার শুভ, তার পিতা শাহ আলম হাওলাদার, মা জাকিয়া বেগম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী মাফিয়া কবির ও বন্ধু হাসিবসহ অজ্ঞাত আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়। ওই দিনই পুলিশ শুভর সহযোগী মাফিয়া কবিরকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর আওয়ামী লীগ নেত্রী মাফিয়া কবিরকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আসামি মাফিয়া কবির বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইউসুফ আলী বলেন, মাফিয়া কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























