অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগের অন্যতম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি স্বল্পতা ও নদীতে নাব্যতা সংকটে যানবাহন পারাপারে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। শনিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পাড়ে ৫ শতাধিক ট্রাক পারের অপেক্ষায় আটকে ছিল। তবে, যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার হওয়ায় দুর্ভোগ কিছুটা লাগব হয় বলে ঘাট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকে পড়া পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের অভিযোগ, যানবাহনের তুলনায় এরুটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফেরি না থাকায় দিনের পর দিন ফেরি পারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। কাংক্ষিত সময়ে ফেরি পার হতে না পাড়ায় নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌছা সম্ভব না হওয়ায় বাজারে পণ্য সরবরাহে ঘাটতি ও মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেরি সেক্টর কর্মকর্তারা এহেনও অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি এ রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি রয়েছে। বর্তমানে বহরের ছোট-বড় ১৪টি ফেরির মধ্যে একটি যান্ত্রিক ক্রুটির জন্য সাময়িক বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, সাপ্তাহিক ছুটি ও ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের বিপুল সংখ্যক গাড়ির অতিরিক্ত চাপে নিয়মিত পারাপারের জন্য আসা যানবাহন পারপার কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
শনিবার দুপুরে পাটুরিয়া ঘাট সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ফেরি পারের জন্য আসা যাত্রীবাহী বাস-কোচ, প্রাইভেট কারের দীর্ঘ জট না থাকলেও পন্যবাহী বিপুল সংখ্যক ট্রাক টারমিনাল উপচে রয়েছে। ঘাট এলাকায় যানজট নিরশনে সংযোগ সড়কের আরিচামুখী রুটে পণ্যবাহী বেশকিছু ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণ করছে। আটকে থাকা ট্রাক শ্রমিকরা অভিযোগ করছে ঘাটে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধির অজুহাতে ‘টুপাইসের’ ধান্ধায় আমাদের আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের চাহিদানুযায়ী অর্থ পরিশোধ করে অনেকেই ঘাটে যাচ্ছে।
সংযোগ সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা প্রসঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, যানবাহন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরাবরের মতো এ পদ্ধতি অবলম্বল করা হচ্ছে। ঘাটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই দাঁড় করিয়ে রাখা পণ্যবাহী যানবাহন ফেরি পারের জন্য ছেড়ে দেয়া হবে। ট্রাক শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয় তিনি অস্বীকার করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশের কেই এহেনও কাজে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাটুরিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসি’র ফেরি মেরামতকারী ভাসমান কারখানা মধুমতির নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, বর্তমানে বহরের ছোট-বড় ১৪টির মধ্যে কুমারী নামে একটি কেটাইপ ফেরি যান্ত্রীক ক্রুটির ফলে কারখানায় নোঙ্গর করেছে। এর বাহিরে এ রুটের আরোও ৫টি ফেরি একই কারনে নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেরামতে রয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ফেরিগুলো সংস্কার কাজ শেষে বহরে যোগ হবে।
ঘাট সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা জানান, এ রুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে পদ্মায় নাব্যতা সংকট, শীতের শুরুতে সৃষ্ট ঘন কুয়াশাসহ অহরহ ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ভাসমান কারখানায় ফেরি মেরামত শেষে সচল ফেরি অল্প সময়ে আবার বিকল হওয়ায় বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























