অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ময়মনসিংহের নান্দাইলের দক্ষিন বাশহাটি গ্রামে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কয়েকটি কবরস্থানের উপর বড় করে বাথরুমের (টয়লেট) ট্যাংকি নির্মাণ করেছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় এলাকায় মুসুল্লিদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিলে কয়েকদফা শালিস-দরবার করেও কোন প্রতিকার মিলছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের দক্ষিন বাশহাটি গ্রামের বাশিাটি মৌজার সাবেক দাগ-২১৩৪,২১৩৫,২১৩২,ও ২১১৮ এ অবস্থিত চারটি কবরস্থানের জায়গায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর করে ট্যাংকি নির্মাণ করে মৃত আবু বক্করের ছেলে বিল্লাল মিয়া, দুলাল মিয়া, এনামুল হক বাবুল, জুয়েল মিয়া ও সুমন মিয়া। অথচ পারিবারিক কবরস্থানের জায়গাটি রিপন মিয়াদের পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি। তার পরও মৃত আবু বক্করের ছেলেরা ক্ষমতা ও শক্তির দাপট দেখিয়ে গায়ের জোরে এহেন ধর্মবিরোধী কর্মকান্ড চালানোর সময় প্রতিবেশিরা অনুরোধ করলেও তারা ভীতি প্রদর্শন পূর্বক বাধা নিষেধ না মেনে জোর পূর্বক ট্যাংকি নির্মাণ করে। পরে গ্রামের লোকজন কবরস্থানের উপর এহেন কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য বেশ কয়েকবার শালিস-দরবার করেও কোন প্রতিকার পায়নি। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ গ্রামবাসিকে বিভিন্ন হুমকী-দমকী দিয়ে বেড়াচ্ছে।
এলাকার প্রতিবেশী সেনাবাহিনীর (অবঃ) চাকুরিজীবি ফজলুর রহমান (৭০) সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এ গ্রামের ‘আলী নেওয়াজ, রুবেল, মাছুম আলী ও প্রতিপক্ষ বিল্লালের ৩ মাসের শিশুসহ এখানে চারটি কবর রয়েছে। আমি নিজেই আলী নেওয়াজ ও মাছুম আলীর জানাযার নামাজে অংশ গ্রহণ করেছি।’ একই বাড়ীর বাবুল মিয়া (৩৫) বলেন,‘ট্যাংকি খনন করার সময় এখানে মৃত ব্যক্তির হাড়গোড় পাওয়া গেছে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি।’
অভিযুক্ত রিপনের ভাতিজা সংবাদপত্র বিক্রেতা আজিজুল হক নয়ন বলেন, দুলাল মিয়া ও বিল্লাল মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে চায় না, ‘যদি কেউ এদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাহলে তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ঝুলিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়।’ ইতোমধ্যে আমি (আজিজুল হক নয়ন) তাদের ধর্মঅবমাননাকর (কবরস্থানের উপরে টয়লেট নির্মাণ) এ কাজের প্রতিবাদ করায় আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে মামলাবাজ বিল্লাল।
এদিকে এ ঘটনায় ভূক্তভোগী রিপন মিয়া মনের কষ্টে বলেন, গত রমজান মাসের ২৭ তারিখে আমার চাচা খোদানেওয়াজ অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে দেয়নি মৃত আবু বক্করের ছেলেরা। মৃত আবু বক্করের ছেলেরা দাফন করতে বাধা দেয়ায় প্রতিবেশি মামুদহোসেনের জায়গায় চাচাকে কবর দেয়া হয়। এতসব ঘটনা এলাকাবাসীকে অবগত করে নান্দাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি আমি। পরে উক্ত ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মামুন ঘটনাস্থলেলে গিয়ে বিষয়টি সতত্যা পান বলে জানান রিপন মিয়া।
নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঁইয়া এ ব্যাপারে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং ওসির সংঙ্গে কথা বলেছি। কবরস্থানের উপর এহেন কার্যকলাপে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। দু’পক্ষকে ডেকে দ্রুতই বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য চেষ্টা করব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























