ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

সু চির সমালোচনায় ইয়াংহি লি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নিস্পৃহ প্রতিক্রিয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা ইয়াংহি লি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করছেন তিনি। সংখ্যালঘু ওই জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের বিষয়ে সু চির প্রতিক্রিয়াকে তিনি নিস্পৃহ বা নির্বিকার বলে মন্তব্য করে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন ।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইয়াংহি লি খোলামেলাভাবেই সু চির প্রতি তার অসন্তোষ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এই ইস্যুতে অং সান সু চির কোনও অবস্থান না নেওয়াটা আমাকে এবং সবাইকেই বিমূঢ় করে দিয়েছে। রোহিঙ্গা নামে যে কিছু লোক আছে তিনি এমনকি সেটিও স্বীকার করছেন না। শুরুর করার জন্য এটি একটি পয়েন্ট হতে পারে। আমি খুবই হতাশ।’

রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে চুপ থাকায় বারবার সমালোচিত হয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি। অনেক নোবেল বিজয়ীও সরাসরি তার সমালোচনা করেছেন। ইয়াংহি লি এবার সুনির্দিষ্ট পয়েন্টেই তার সমালোচনা করলেন। ইয়াংহি লির এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘে মিয়ানমারের কূটনৈতিক মিশন থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ কোরীয় এই শিশু মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘সু চি যদি তার দেশের লোকজনের কাছে এই আহ্বান জানাতেন যে– চলুন, আমরা কিছুটা মানবিক হই; আমার ধারণা লোকজন তার কথা শুনত। জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।’

মিয়ানমারের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও শত্রুতা এত তীব্র যে কেউ এর বিরুদ্ধে কথা বলারও সাহস পায় না। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা ঘটছে তা দেশটির মিডিয়ায় স্থানই পাচ্ছে না।

এর আগে গত বুধবারও (২৫ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন ইয়াংহি লি। সেখানে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রতি কোনও সহানুভূতি বা সহমর্মিতা নেই। দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমারের লোকজনের মধ্যে এই মানসিকতা লালিত হয়ে আসছে যে, রোহিঙ্গারা এই দেশের নাগরিক নয়, ফলে তাদের কোনও অধিকারও নেই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

সু চির সমালোচনায় ইয়াংহি লি

আপডেট সময় ১২:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নিস্পৃহ প্রতিক্রিয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা ইয়াংহি লি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করছেন তিনি। সংখ্যালঘু ওই জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের বিষয়ে সু চির প্রতিক্রিয়াকে তিনি নিস্পৃহ বা নির্বিকার বলে মন্তব্য করে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন ।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইয়াংহি লি খোলামেলাভাবেই সু চির প্রতি তার অসন্তোষ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এই ইস্যুতে অং সান সু চির কোনও অবস্থান না নেওয়াটা আমাকে এবং সবাইকেই বিমূঢ় করে দিয়েছে। রোহিঙ্গা নামে যে কিছু লোক আছে তিনি এমনকি সেটিও স্বীকার করছেন না। শুরুর করার জন্য এটি একটি পয়েন্ট হতে পারে। আমি খুবই হতাশ।’

রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে চুপ থাকায় বারবার সমালোচিত হয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি। অনেক নোবেল বিজয়ীও সরাসরি তার সমালোচনা করেছেন। ইয়াংহি লি এবার সুনির্দিষ্ট পয়েন্টেই তার সমালোচনা করলেন। ইয়াংহি লির এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘে মিয়ানমারের কূটনৈতিক মিশন থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ কোরীয় এই শিশু মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘সু চি যদি তার দেশের লোকজনের কাছে এই আহ্বান জানাতেন যে– চলুন, আমরা কিছুটা মানবিক হই; আমার ধারণা লোকজন তার কথা শুনত। জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।’

মিয়ানমারের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও শত্রুতা এত তীব্র যে কেউ এর বিরুদ্ধে কথা বলারও সাহস পায় না। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা ঘটছে তা দেশটির মিডিয়ায় স্থানই পাচ্ছে না।

এর আগে গত বুধবারও (২৫ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন ইয়াংহি লি। সেখানে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রতি কোনও সহানুভূতি বা সহমর্মিতা নেই। দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমারের লোকজনের মধ্যে এই মানসিকতা লালিত হয়ে আসছে যে, রোহিঙ্গারা এই দেশের নাগরিক নয়, ফলে তাদের কোনও অধিকারও নেই।’