অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
খাদ্যের মজুদ বাড়াতে আরো আড়াই লাখ টন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জি টু জি পদ্ধতিতে থাইল্যান্ড থেকে দেড় লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানি করা হবে এবং জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১ লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে। আড়াই লাখ টন চাল আমদানিতে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চাল আমদানির দুটি প্রস্তাবসহ নয়টি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতি টন চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬৫ ডলার। এই দরে দেড় লাখ টন চাল আমদানি করতে খরচ হবে ৫৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চালের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে থাই কর্তৃপক্ষকে এলসি খোলার ৯০ দিনের মধ্যে দেড় লাখ টন সিদ্ধ চাল সরবরাহের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, থাইল্যান্ড থেকে যে দরে চাল আমদানি করা হচ্ছে তা বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ অবস্থায় দেশের চালের মজুদ সুসংহত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় জরুরি সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখার স্বার্থে সরকারিভাবে এ চাল আমদানি করা প্রয়োজন ছিল।
মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, এ ছাড়া জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১ লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানি করার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি উৎস থেকে আমদানিতব্য প্যাকেজ-১ এর আওতায় ১ লাখ টন চাল আমদানি করা হবে। প্রতি টন ৪৩ হাজার ৭২০ টাকা থেকে ৪৫ হাজার ২৭০ টাকা হারে দেশের ৩৮টি কেন্দ্রের ১৭টি প্রতিষ্ঠান এই চাল সরবরাহ করবে। ১ লাখ টন চাল আমদানিতে ব্যয় হবে ৪৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
অতিরিক্ত সচিব জানান, বৈঠকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘২০টি ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ২০ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার, ক্রেন বোটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহের (প্যাকেজ-৩) ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স এসব ড্রেজার সরবরাহ করবে। আর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এ ক্রয় প্রস্তাবের জন্য ব্যয় হবে ৫০৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, একই প্রকল্পের অর্থাৎ ‘২০টি ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ১৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার, ক্রেন বোটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহের (প্যাকেজ-৪) ক্রয় প্রস্তাব’ অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স এসব ড্রেজার সরবরাহ করবে। এজন্য ব্যয় হবে ৪৫৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘সাইট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কন্সট্রাকশন অব এমব্যাঙ্কমেন্ট ফর মিরসরাই-২ এ ইজেড’ কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। চীনের সিসিইসি হারবার নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৩০৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
বৈঠকে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জাজিরা অ্যাপ্রোচ রোড অ্যান্ড সিলেক্টেড ব্রিজ অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ নির্মাণ কাজের মূল্য বৃদ্ধিজনিত ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রকল্পে অতিরিক্ত কাজের জন্য ২১ কোটি ৬০ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয় বেড়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, চলতি বছর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ৭৫ হাজার টন অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এজন্য প্রতি টনের প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭৩ ডলার।
বৈঠকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ‘বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন ফান্ড’ এর মাধ্যমে ‘কন্সট্রাকশন অব শাহজিবাজার ১০০ মেগাওয়াট সিম্পল সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রজেক্ট’ টার্নকি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। মেসার্স এসিআই-ইটিইআরএন-সিসিই নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এজন্য ব্যয় হবে ৮২৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ছাড়া বৈঠকে বেসরকারি কনসোর্টিয়াম অব সামিট করপোরেশন লিমিটেড অ্যান্ড জিই কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনাঘাটে ২২ বছর মেয়াদে ৫৩০-৫৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডুয়েল-ফুয়েল ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রটিতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে প্রতিঘণ্টা মেগাওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ২ দশমিক ৯৫৪৬ টাকা, ফার্নেস ওয়েলভিত্তিক হলে ৫ দশমিক ৪৮৭ টাকা এবং ডিজেলভিত্তিক হলে ১২ দশমিক ৬০৫১ টাকা।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশি উদ্যেক্তাদের মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগ এবং থাইল্যান্ড থেকে দেড় লাখ টন চাল আমদানি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























