আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
মানুষের জীবনটাও বড় বিচিত্র। আজ রাজা তো কাল ফকির। ড্যারেল হেয়ারের বেলায় কথাটি একেবারে শতভাগ প্রযোজ্য। সাবেক বিতর্কিত এই আম্পায়ার এখন এতটাই অর্থসংকটে ভুগছেন যে, নেশার অর্থ জোগান দিতে চুরি করতে হয়েছে তাঁকে। এমন তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। চুরির দায়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এই আম্পায়ার। তবে জেলে যেতে হয়নি তাঁকে। মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে মুক্তি পান তিনি।
সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর একটি পানশালায় চাকরি নিয়েছিলেন ড্যারেল হেয়ার। এ ছাড়া প্রায়ই জুয়ার আড্ডায় বসতেন তিনি। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পানশালা থেকে অর্থ আত্মসাত করতে শুরু করেন হেয়ার। তবে সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়ে যান তিনি। এর পরই তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সেই সঙ্গে ড্যারেল হেয়ারের ওপর মামলা ঢুকে দেন পানাশালা কর্তৃপক্ষ।
চুরি করা নয় হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন এই আম্পায়ার। হেয়ারের বিরুদ্ধে আগে এমন কোনো অভিযোগ না থাকায় তাঁকে জেলে যেতে হয়নি। তাঁর আইনজীবী বলেন, ‘আমার মক্কেল অনেকদিন দেশের সেবা করেছেন। তবে নৈতিক স্থলন ঘটেছে তাঁর। দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করার কারণে আদালত তাঁকে এবারের মতো ক্ষমা করেছেন।’
১৯৯৫ সালে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বিপক্ষে নো বলের অভিযোগ এনে প্রথমবারের মতো বিতর্কিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে ওভাল টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেনাল্টি রান দেওয়ার ঘটনায় উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচে ইংল্যান্ডকে জয়ী ঘোষণা করেছিলেন ড্যারেল হেয়ার। সেই ঘটনার জেরে হেয়ারকেও অফিশিয়াল ম্যাচ পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আইসিসি।
পরের বছর ড্যারেল হেয়ারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে আবার আম্পায়ারিংয়ে ফেরেন তিনি। ২০০৮ সালে কানাডা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়েই আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে মাঠে নামেন অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার। ১৯৯২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ৭৮টি টেস্ট পরিচালনা করেছেন এই আম্পয়ার।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























