ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পাকিস্তানি সিরিয়ালের আবু বকর কেন দর্শকদের চোখে আদর্শ স্বামী?

পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তানি ধারাবাহিক নাটক ‘দার-ই-নিজাত’-এর ‘আবু বকর’ চরিত্রটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের চোখে চরিত্রটি আদর্শ স্বামীর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তব জীবনেও এমন জীবনসঙ্গী পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন অনেক নারী দর্শক। এই জনপ্রিয় চরিত্রের রূপকার অভিনেতা শেহরিয়ার মুনাওয়ার সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের এক সাক্ষাৎকারে তার অভিনয় ও চরিত্রটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। শেহরিয়ার বলেন, ‘একবার ভাবুন, এই মানুষকে কতটা চাপ নিয়ে বাঁচতে হয়।’। প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা আর অনুশোচনা—‘দার–এ–নিজাত’ নিয়ে এত আলোচনা কেন।

শেহরিয়ার জানান, আবু বকর চরিত্রের মূল সংকট হলো সে সবাইকে খুশি রাখতে মরিয়া, যার ফলে কাউকে সরাসরি ‘না’ বলতে সে হিমশিম খায়। অভিনেতা স্বীকার করেন যে, ব্যক্তিজীবনে তিনিও অনেক ক্ষেত্রে অন্যদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছাগুলোকে উপেক্ষা করেন। এছাড়া চরিত্রটির মধ্যে ‘সেভিয়ার কমপ্লেক্স’ বা অতিরিক্ত দয়াশীলতার প্রবণতা রয়েছে, যা তাকে সবার সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। ছোটবেলা থেকে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নৈতিক শিক্ষা ও সঠিক-ভুল বিচারের বোধ তাকে সবসময় এক চাপের মধ্যে রাখে, যা তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে বলে মন্তব্য করেন শেহরিয়ার। অর্থাৎ, অন্যদের সমস্যা সমাধান করা বা তাদের রক্ষা করার অতিরিক্ত প্রবণতা। সব সময় বুঝিয়েছে, কোনটি ঠিক আর কোনটি ভুল।

সিরিয়ালে জারিয়াবের প্রতি আবু বকরের অনুরাগের বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম। মায়ের সঙ্গে জারিয়াবের বাড়িতে যাওয়ার সময় থেকেই মেয়েটির প্রতি ভালো লাগা শুরু হয়, যদিও আবু বকর তা সরাসরি প্রকাশ করেনি। শেহরিয়ার ব্যাখ্যা করেন, দুজনে ভিন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ায় তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবু বকরের মনে একধরনের দ্বিধা ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব কাজ করত। তবুও অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটির গভীর আবেগ ফুটিয়ে তুলতে তিনি বিভিন্ন সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এই দুই বিপরীত স্বভাবের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আবু বকরও একধরনের দ্বিধায় ছিল। মন যা চাইছে, বাস্তবতা হয়তো সে পথে যেতে দেবে না—এমন ভাবনাও কাজ করত তার মধ্যে।

যেমন একটি দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে শেহরিয়ার জানান, দুপুরের খাবারের সময় আবু বকরের জারিয়াবের পছন্দের পাস্তার কথা মনে রাখাটা কোনো সাধারণ বিষয় ছিল না। কেউ কারো প্রতি আগ্রহী না থাকলে সাধারণত এমন ছোটখাটো বিষয় মনে রাখে না। অভিনেতা বলেন, ‘আমি এমন অনেক ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিয়েছিলাম যা দর্শককে আবু বকরের অনুভবের জায়গাটি বুঝতে সাহায্য করেছে।’

ধারাবাহিকটি প্রচার হওয়ার পর থেকেই আবু বকরের অতি-ভালোমানুষি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কারও কারও মতে চরিত্রটি বাস্তবসম্মত নয়। তবে অভিনেত্রী নাদিয়া আফগান এই চরিত্রের পক্ষ নিয়ে জানিয়েছেন, বাস্তব জীবনেও এমন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষ রয়েছে। নাদিয়া নিজের স্বামীর আচরণের সাথে আবু বকরের মিল খুঁজে পেয়েছেন এবং চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলকে বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

পাকিস্তানি সিরিয়ালের আবু বকর কেন দর্শকদের চোখে আদর্শ স্বামী?

আপডেট সময় ১০:৪৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তানি ধারাবাহিক নাটক ‘দার-ই-নিজাত’-এর ‘আবু বকর’ চরিত্রটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের চোখে চরিত্রটি আদর্শ স্বামীর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তব জীবনেও এমন জীবনসঙ্গী পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন অনেক নারী দর্শক। এই জনপ্রিয় চরিত্রের রূপকার অভিনেতা শেহরিয়ার মুনাওয়ার সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের এক সাক্ষাৎকারে তার অভিনয় ও চরিত্রটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। শেহরিয়ার বলেন, ‘একবার ভাবুন, এই মানুষকে কতটা চাপ নিয়ে বাঁচতে হয়।’। প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা আর অনুশোচনা—‘দার–এ–নিজাত’ নিয়ে এত আলোচনা কেন।

শেহরিয়ার জানান, আবু বকর চরিত্রের মূল সংকট হলো সে সবাইকে খুশি রাখতে মরিয়া, যার ফলে কাউকে সরাসরি ‘না’ বলতে সে হিমশিম খায়। অভিনেতা স্বীকার করেন যে, ব্যক্তিজীবনে তিনিও অনেক ক্ষেত্রে অন্যদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছাগুলোকে উপেক্ষা করেন। এছাড়া চরিত্রটির মধ্যে ‘সেভিয়ার কমপ্লেক্স’ বা অতিরিক্ত দয়াশীলতার প্রবণতা রয়েছে, যা তাকে সবার সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। ছোটবেলা থেকে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নৈতিক শিক্ষা ও সঠিক-ভুল বিচারের বোধ তাকে সবসময় এক চাপের মধ্যে রাখে, যা তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে বলে মন্তব্য করেন শেহরিয়ার। অর্থাৎ, অন্যদের সমস্যা সমাধান করা বা তাদের রক্ষা করার অতিরিক্ত প্রবণতা। সব সময় বুঝিয়েছে, কোনটি ঠিক আর কোনটি ভুল।

সিরিয়ালে জারিয়াবের প্রতি আবু বকরের অনুরাগের বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম। মায়ের সঙ্গে জারিয়াবের বাড়িতে যাওয়ার সময় থেকেই মেয়েটির প্রতি ভালো লাগা শুরু হয়, যদিও আবু বকর তা সরাসরি প্রকাশ করেনি। শেহরিয়ার ব্যাখ্যা করেন, দুজনে ভিন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ায় তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবু বকরের মনে একধরনের দ্বিধা ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব কাজ করত। তবুও অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটির গভীর আবেগ ফুটিয়ে তুলতে তিনি বিভিন্ন সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এই দুই বিপরীত স্বভাবের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আবু বকরও একধরনের দ্বিধায় ছিল। মন যা চাইছে, বাস্তবতা হয়তো সে পথে যেতে দেবে না—এমন ভাবনাও কাজ করত তার মধ্যে।

যেমন একটি দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে শেহরিয়ার জানান, দুপুরের খাবারের সময় আবু বকরের জারিয়াবের পছন্দের পাস্তার কথা মনে রাখাটা কোনো সাধারণ বিষয় ছিল না। কেউ কারো প্রতি আগ্রহী না থাকলে সাধারণত এমন ছোটখাটো বিষয় মনে রাখে না। অভিনেতা বলেন, ‘আমি এমন অনেক ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিয়েছিলাম যা দর্শককে আবু বকরের অনুভবের জায়গাটি বুঝতে সাহায্য করেছে।’

ধারাবাহিকটি প্রচার হওয়ার পর থেকেই আবু বকরের অতি-ভালোমানুষি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কারও কারও মতে চরিত্রটি বাস্তবসম্মত নয়। তবে অভিনেত্রী নাদিয়া আফগান এই চরিত্রের পক্ষ নিয়ে জানিয়েছেন, বাস্তব জীবনেও এমন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষ রয়েছে। নাদিয়া নিজের স্বামীর আচরণের সাথে আবু বকরের মিল খুঁজে পেয়েছেন এবং চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন।