ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বাইন্যান্সের ক্রিপ্টো চুরিতে উত্তর কোরিয়ার হাত, বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট এবং প্রচলিত বিশ্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের পথ রুদ্ধ হওয়ায় আয়ের বিকল্প উৎস খুঁজছে উত্তর কোরিয়া। আর এই লক্ষ্য অর্জনে দেশটির হ্যাকাররা বেছে নিয়েছে ডিজিটাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ। সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সম্পদ চুরির ঘটনায় আবারও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের আধিপত্য ও তাদের কর্মকাণ্ড আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। রয়টার্স ও চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, এই সাইবার অপরাধের পেছনে থাকা অর্থের সঙ্গে দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় উত্তর কোরিয়ার প্রবেশের সুযোগ সীমিত। অর্থাৎ সিঁদেল চুরি নয়, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এখন রীতিমতো পুকুর চুরিতে নেমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বাভাবিক লেনদেনের পথ বন্ধ থাকায় উত্তর কোরিয়া এমন এক কৌশল অবলম্বন করছে যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের পরিসংখ্যান বলছে, কেবল ২০২৫ সালেই দেশটির হ্যাকাররা অন্তত ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশটির সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের চুরি করা মোট সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ৬৭৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাইন্যান্স ছাড়াও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ইথেরিয়াম চুরির ঘটনার দায়ভারও তাদের ওপরই বর্তায়। বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যেও আছে নানা বাধা।

চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থে রূপান্তরের জন্য উত্তর কোরিয়া একটি বিস্তৃত ও জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সমন্বয়ে গঠিত বহুপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল (এমএসএমটি) তাদের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে থাকা মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় এই পাচারকাজ সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে চীনের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) ব্যবসায়ীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া কমপক্ষে ১৫টি চীনা ব্যাংককে এই অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করার প্রমাণ পেয়েছে পর্যবেক্ষক দল।

কৌশলগত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রথমে একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটে নেওয়া হয়। এরপর ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক ও ক্রিপ্টো মিক্সার ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থের উৎস আড়াল করে তা ডলার বা অন্যান্য প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সাইবার হামলা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি সুসংগঠিত কর্মকাণ্ড।

এই সাইবার অপরাধের পেছনে লাজারাস গ্রুপের মতো কুখ্যাত হ্যাকার গোষ্ঠীর সক্রিয় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তারা ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব কিংবা পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ফেলে। চেইনঅ্যানালাইসিসের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, হ্যাকাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ এবং তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পরিচয় ব্যবহার করে বড় ধরনের অর্থ সরানোর কৌশলে বিশেষ সফলতা অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে আলোচিত গোষ্ঠী হলো লাজারাস গ্রুপ।

সাইবার চুরির পাশাপাশি বিদেশে ভুয়া পরিচয়ে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী পাঠিয়েও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে উত্তর কোরিয়া।

এমএসএমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন প্রায় দুই হাজার কর্মী সক্রিয় রয়েছে।

এই কর্মীদের প্রতারণামূলক আয় ও অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করার অভিযোগে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ছয় ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চেইনঅ্যানালাইসিসের হিসাবে, ২০২৪ সালেই এই ভুয়া কর্মীদের মাধ্যমে দেশটি প্রায় ৮০ কোটি ডলার আয় করেছে। যদিও চুরি করা অর্থ সরাসরি সামরিক খাতে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সবসময় পাওয়া যায় না, তবে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশটি তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি বিমানবন্দরে হামলা: ঢাকায় ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল ও হাজারো যাত্রী বিপাকে

বাইন্যান্সের ক্রিপ্টো চুরিতে উত্তর কোরিয়ার হাত, বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট

আপডেট সময় ০৯:২১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট এবং প্রচলিত বিশ্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের পথ রুদ্ধ হওয়ায় আয়ের বিকল্প উৎস খুঁজছে উত্তর কোরিয়া। আর এই লক্ষ্য অর্জনে দেশটির হ্যাকাররা বেছে নিয়েছে ডিজিটাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ। সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সম্পদ চুরির ঘটনায় আবারও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের আধিপত্য ও তাদের কর্মকাণ্ড আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। রয়টার্স ও চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, এই সাইবার অপরাধের পেছনে থাকা অর্থের সঙ্গে দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় উত্তর কোরিয়ার প্রবেশের সুযোগ সীমিত। অর্থাৎ সিঁদেল চুরি নয়, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এখন রীতিমতো পুকুর চুরিতে নেমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বাভাবিক লেনদেনের পথ বন্ধ থাকায় উত্তর কোরিয়া এমন এক কৌশল অবলম্বন করছে যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের পরিসংখ্যান বলছে, কেবল ২০২৫ সালেই দেশটির হ্যাকাররা অন্তত ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশটির সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের চুরি করা মোট সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ৬৭৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাইন্যান্স ছাড়াও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ইথেরিয়াম চুরির ঘটনার দায়ভারও তাদের ওপরই বর্তায়। বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যেও আছে নানা বাধা।

চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থে রূপান্তরের জন্য উত্তর কোরিয়া একটি বিস্তৃত ও জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সমন্বয়ে গঠিত বহুপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল (এমএসএমটি) তাদের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে থাকা মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় এই পাচারকাজ সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে চীনের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) ব্যবসায়ীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া কমপক্ষে ১৫টি চীনা ব্যাংককে এই অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করার প্রমাণ পেয়েছে পর্যবেক্ষক দল।

কৌশলগত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রথমে একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটে নেওয়া হয়। এরপর ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক ও ক্রিপ্টো মিক্সার ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থের উৎস আড়াল করে তা ডলার বা অন্যান্য প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সাইবার হামলা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি সুসংগঠিত কর্মকাণ্ড।

এই সাইবার অপরাধের পেছনে লাজারাস গ্রুপের মতো কুখ্যাত হ্যাকার গোষ্ঠীর সক্রিয় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তারা ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব কিংবা পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ফেলে। চেইনঅ্যানালাইসিসের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, হ্যাকাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ এবং তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পরিচয় ব্যবহার করে বড় ধরনের অর্থ সরানোর কৌশলে বিশেষ সফলতা অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে আলোচিত গোষ্ঠী হলো লাজারাস গ্রুপ।

সাইবার চুরির পাশাপাশি বিদেশে ভুয়া পরিচয়ে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী পাঠিয়েও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে উত্তর কোরিয়া।

এমএসএমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন প্রায় দুই হাজার কর্মী সক্রিয় রয়েছে।

এই কর্মীদের প্রতারণামূলক আয় ও অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করার অভিযোগে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ছয় ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চেইনঅ্যানালাইসিসের হিসাবে, ২০২৪ সালেই এই ভুয়া কর্মীদের মাধ্যমে দেশটি প্রায় ৮০ কোটি ডলার আয় করেছে। যদিও চুরি করা অর্থ সরাসরি সামরিক খাতে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সবসময় পাওয়া যায় না, তবে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশটি তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে।