মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবলা ইউনিয়নের রতনপুর-বীরগাঁও গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন এক অন্য রূপ ধারণ করেছে। গ্রামের বিশাল আমন ধানের মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহের মাঝে আটাইকিরি নামক এক বিলের বুকে ফুটেছে রাশি রাশি সাদা ও গোলাপি পদ্ম। শহর থেকে সড়কপথে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই বিলটি প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। মাঠের শেষের সীমানায় সবুজের বুক চিরে ফুটে থাকা এই ফুলগুলো যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা নকশা।
গত বুধবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়ক থেকে বেশ কিছুটা ভেতরে ধানখেতের মাঝখানে এই জলাভূমিটি অবস্থিত। ধানখেতের আলপথ বেয়েই সেখানে পৌঁছাতে হয়। আশ্বিন মাসের উজ্জ্বল রোদে শুকনা আলগুলো ঘাসে মোড়া থাকলেও প্রকৃতি তার আপন মহিমায় সেজেছে। সেখানে গিয়ে দেখা মেলে স্থানীয় তরুণ নয়ন সরকারের, যিনি গবাদিপশুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করছিলেন। তিনি জানান, জায়গাটি স্থানীয়ভাবে ‘আটাইকিরি পদ্মবিল’ হিসেবে পরিচিত। বর্ষার শুরু থেকে পদ্ম ফুটতে শুরু করলেও বোরো ধানের আবাদ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এই সৌন্দর্য টিকে থাকে।
বিলের প্রতিটি কোণ যেন সাদা-গোলাপি ফুলের মেলায় পরিণত হয়েছে। কোথাও ফুটে আছে পূর্ণাঙ্গ পদ্ম, কোথাও বা আকাশের দিকে মুখ করা ছোট-বড় কলি। ফুলের ফাঁকে ফাঁকে সাদা শাপলাও বিলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো কোনোটি পরিপক্ব আবার কোনোটি কচি পদ্মফলও নজরে পড়ে। তবে লোকালয়ের কাছাকাছি হওয়ার কারণে অনেক পদ্মই স্থানীয়রা তুলে নিয়ে গেছেন। এর বাইরেও বিলের গভীরে এখনো প্রচুর পদ্ম ফুল বাতাসে দুলছে।
প্রাকৃতিক জলাশয় ও বিল কমে আসায় বর্তমানে পদ্মফুল খুব একটা দেখা যায় না। এটি মূলত কন্দজাতীয় জলজ উদ্ভিদ, যা পুরনো পুকুর, হ্রদ বা হাওরের কাদাময় মাটিতে জন্মে। পদ্মফুলের মূল জলের নিচে মাটিতে থাকলেও এর বড় ও গোলাকার পাতা এবং ফুল পানির ওপরে ভেসে থাকে। পানির উচ্চতা বাড়লে এই গাছের উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়। বর্ষা ও শরতের এই সময়ে পদ্ম বেশি ফোটে এবং হেমন্ত পর্যন্ত বিলের সৌন্দর্য ধরে রাখে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















