ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মৌলভীবাজারে সবুজের বুকে ফুটেছে নয়নাভিরাম আটাইকিরি পদ্মবিল

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবলা ইউনিয়নের রতনপুর-বীরগাঁও গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন এক অন্য রূপ ধারণ করেছে। গ্রামের বিশাল আমন ধানের মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহের মাঝে আটাইকিরি নামক এক বিলের বুকে ফুটেছে রাশি রাশি সাদা ও গোলাপি পদ্ম। শহর থেকে সড়কপথে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই বিলটি প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। মাঠের শেষের সীমানায় সবুজের বুক চিরে ফুটে থাকা এই ফুলগুলো যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা নকশা।

গত বুধবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়ক থেকে বেশ কিছুটা ভেতরে ধানখেতের মাঝখানে এই জলাভূমিটি অবস্থিত। ধানখেতের আলপথ বেয়েই সেখানে পৌঁছাতে হয়। আশ্বিন মাসের উজ্জ্বল রোদে শুকনা আলগুলো ঘাসে মোড়া থাকলেও প্রকৃতি তার আপন মহিমায় সেজেছে। সেখানে গিয়ে দেখা মেলে স্থানীয় তরুণ নয়ন সরকারের, যিনি গবাদিপশুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করছিলেন। তিনি জানান, জায়গাটি স্থানীয়ভাবে ‘আটাইকিরি পদ্মবিল’ হিসেবে পরিচিত। বর্ষার শুরু থেকে পদ্ম ফুটতে শুরু করলেও বোরো ধানের আবাদ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এই সৌন্দর্য টিকে থাকে।

বিলের প্রতিটি কোণ যেন সাদা-গোলাপি ফুলের মেলায় পরিণত হয়েছে। কোথাও ফুটে আছে পূর্ণাঙ্গ পদ্ম, কোথাও বা আকাশের দিকে মুখ করা ছোট-বড় কলি। ফুলের ফাঁকে ফাঁকে সাদা শাপলাও বিলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো কোনোটি পরিপক্ব আবার কোনোটি কচি পদ্মফলও নজরে পড়ে। তবে লোকালয়ের কাছাকাছি হওয়ার কারণে অনেক পদ্মই স্থানীয়রা তুলে নিয়ে গেছেন। এর বাইরেও বিলের গভীরে এখনো প্রচুর পদ্ম ফুল বাতাসে দুলছে।

প্রাকৃতিক জলাশয় ও বিল কমে আসায় বর্তমানে পদ্মফুল খুব একটা দেখা যায় না। এটি মূলত কন্দজাতীয় জলজ উদ্ভিদ, যা পুরনো পুকুর, হ্রদ বা হাওরের কাদাময় মাটিতে জন্মে। পদ্মফুলের মূল জলের নিচে মাটিতে থাকলেও এর বড় ও গোলাকার পাতা এবং ফুল পানির ওপরে ভেসে থাকে। পানির উচ্চতা বাড়লে এই গাছের উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়। বর্ষা ও শরতের এই সময়ে পদ্ম বেশি ফোটে এবং হেমন্ত পর্যন্ত বিলের সৌন্দর্য ধরে রাখে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজারে সবুজের বুকে ফুটেছে নয়নাভিরাম আটাইকিরি পদ্মবিল

আপডেট সময় ০৮:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবলা ইউনিয়নের রতনপুর-বীরগাঁও গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন এক অন্য রূপ ধারণ করেছে। গ্রামের বিশাল আমন ধানের মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহের মাঝে আটাইকিরি নামক এক বিলের বুকে ফুটেছে রাশি রাশি সাদা ও গোলাপি পদ্ম। শহর থেকে সড়কপথে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই বিলটি প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। মাঠের শেষের সীমানায় সবুজের বুক চিরে ফুটে থাকা এই ফুলগুলো যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা নকশা।

গত বুধবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়ক থেকে বেশ কিছুটা ভেতরে ধানখেতের মাঝখানে এই জলাভূমিটি অবস্থিত। ধানখেতের আলপথ বেয়েই সেখানে পৌঁছাতে হয়। আশ্বিন মাসের উজ্জ্বল রোদে শুকনা আলগুলো ঘাসে মোড়া থাকলেও প্রকৃতি তার আপন মহিমায় সেজেছে। সেখানে গিয়ে দেখা মেলে স্থানীয় তরুণ নয়ন সরকারের, যিনি গবাদিপশুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করছিলেন। তিনি জানান, জায়গাটি স্থানীয়ভাবে ‘আটাইকিরি পদ্মবিল’ হিসেবে পরিচিত। বর্ষার শুরু থেকে পদ্ম ফুটতে শুরু করলেও বোরো ধানের আবাদ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এই সৌন্দর্য টিকে থাকে।

বিলের প্রতিটি কোণ যেন সাদা-গোলাপি ফুলের মেলায় পরিণত হয়েছে। কোথাও ফুটে আছে পূর্ণাঙ্গ পদ্ম, কোথাও বা আকাশের দিকে মুখ করা ছোট-বড় কলি। ফুলের ফাঁকে ফাঁকে সাদা শাপলাও বিলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো কোনোটি পরিপক্ব আবার কোনোটি কচি পদ্মফলও নজরে পড়ে। তবে লোকালয়ের কাছাকাছি হওয়ার কারণে অনেক পদ্মই স্থানীয়রা তুলে নিয়ে গেছেন। এর বাইরেও বিলের গভীরে এখনো প্রচুর পদ্ম ফুল বাতাসে দুলছে।

প্রাকৃতিক জলাশয় ও বিল কমে আসায় বর্তমানে পদ্মফুল খুব একটা দেখা যায় না। এটি মূলত কন্দজাতীয় জলজ উদ্ভিদ, যা পুরনো পুকুর, হ্রদ বা হাওরের কাদাময় মাটিতে জন্মে। পদ্মফুলের মূল জলের নিচে মাটিতে থাকলেও এর বড় ও গোলাকার পাতা এবং ফুল পানির ওপরে ভেসে থাকে। পানির উচ্চতা বাড়লে এই গাছের উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়। বর্ষা ও শরতের এই সময়ে পদ্ম বেশি ফোটে এবং হেমন্ত পর্যন্ত বিলের সৌন্দর্য ধরে রাখে।