ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বিপুল ব্যয়

আন্তর্জাতিক রুটে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বাধ্যবাধকতা পূরণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। পরিবেশগত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, কার্বনসংক্রান্ত কর এবং কঠোর নিয়ম মেনে চলায় বিমান সংস্থাটির আর্থিক চাপের মুখে পড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসফিন তাসেউ। আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত পূর্ব আফ্রিকান সম্প্রদায়ের চতুর্থ অভ্যন্তরীণ আইনবিষয়ক সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

মেসফিন তাসেউ জানান, উড়োজাহাজ পরিচালনার ফলে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের সংস্থা নিয়মিত কার্বন ক্রেডিট কিনছে। তবে আগামী দিনগুলোতে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) পরিচালিত ‘করসিয়া’ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণের বিপরীতে বিমান সংস্থাগুলোকে এমন ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। সম্মেলনে তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নতুন করে আরোপিত কার্বন ফি ও বিধিনিষেধের সমালোচনা করে বলেন, একই ধরনের একাধিক পরিবেশগত নিয়ম কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

পরিবেশগত বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ) ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণ কমানোর কার্যকর সমাধান হিসেবে একে দেখা হলেও এর উচ্চমূল্য ও সীমিত প্রাপ্যতা বড় বাধা। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এসএএফ-এর উৎপাদন ২৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হলেও তা মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশের সমান হবে।

বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে শুধু পরিবেশগত নিয়মই নয়, বিভিন্ন দেশের কর এবং ভোক্তা সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধিনিষেধও বড় ভূমিকা রাখছে। আফ্রিকান এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের গড়ে ৬৮ মার্কিন ডলার কর ও ফি গুনতে হয়েছে। একই সঙ্গে, শিল্প খাতের প্রতিবেদন অনুযায়ী আফ্রিকার এভিয়েশন খাতের পরিচালন ব্যয় বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে জ্বালানি মূল্য, পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ নিয়মকানুন সামলানো বর্তমানে বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দলকে সুবিধাবাদীদের ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বিপুল ব্যয়

আপডেট সময় ০৫:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক রুটে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বাধ্যবাধকতা পূরণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। পরিবেশগত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, কার্বনসংক্রান্ত কর এবং কঠোর নিয়ম মেনে চলায় বিমান সংস্থাটির আর্থিক চাপের মুখে পড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসফিন তাসেউ। আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত পূর্ব আফ্রিকান সম্প্রদায়ের চতুর্থ অভ্যন্তরীণ আইনবিষয়ক সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

মেসফিন তাসেউ জানান, উড়োজাহাজ পরিচালনার ফলে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের সংস্থা নিয়মিত কার্বন ক্রেডিট কিনছে। তবে আগামী দিনগুলোতে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) পরিচালিত ‘করসিয়া’ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণের বিপরীতে বিমান সংস্থাগুলোকে এমন ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। সম্মেলনে তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নতুন করে আরোপিত কার্বন ফি ও বিধিনিষেধের সমালোচনা করে বলেন, একই ধরনের একাধিক পরিবেশগত নিয়ম কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

পরিবেশগত বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ) ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণ কমানোর কার্যকর সমাধান হিসেবে একে দেখা হলেও এর উচ্চমূল্য ও সীমিত প্রাপ্যতা বড় বাধা। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এসএএফ-এর উৎপাদন ২৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হলেও তা মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশের সমান হবে।

বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে শুধু পরিবেশগত নিয়মই নয়, বিভিন্ন দেশের কর এবং ভোক্তা সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধিনিষেধও বড় ভূমিকা রাখছে। আফ্রিকান এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের গড়ে ৬৮ মার্কিন ডলার কর ও ফি গুনতে হয়েছে। একই সঙ্গে, শিল্প খাতের প্রতিবেদন অনুযায়ী আফ্রিকার এভিয়েশন খাতের পরিচালন ব্যয় বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে জ্বালানি মূল্য, পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ নিয়মকানুন সামলানো বর্তমানে বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।