ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ককপিট হামলার নেপথ্যে ছিল আত্মঘাতী পরিকল্পনা

দুর্গম পরিস্থিতির কবলে পড়া ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের ককপিটে হামলার ঘটনায় তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই উড়োজাহাজে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বড় অংশই ইসরায়েলি নাগরিক। শনিবার (১০ অক্টোবর) আমিরাতের ফেডারেল অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি একাই এই ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, সন্দেহভাজন সহ-পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের একটি বিমানবন্দরে সেটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর সহ-পাইলট হাম্মাম জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান। এতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হন। তবে দ্রুত তৎপর হয়ে অপর পাইলট, কেবিন ক্রু এবং উপস্থিত যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার এই নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে অন্য পাইলট, কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার আদলে তিনি এই আত্মঘাতী হামলার ছক তৈরি করেছিলেন। নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে তিনি দুইবার ইসরায়েল সফর করেন এবং বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনাকালীন তিনি চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলেও তথ্য মিলেছে। তবে ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মী নিয়োগ বা নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে তাঁর কোনো সহযোগী ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ফ্লাইদুবাই আপাতত ইসরায়েলে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটিতে চলাচলকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। উড়োজাহাজের ককপিট সুরক্ষা ও কর্মী যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ককপিট হামলার নেপথ্যে ছিল আত্মঘাতী পরিকল্পনা

আপডেট সময় ০৪:৪৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গম পরিস্থিতির কবলে পড়া ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের ককপিটে হামলার ঘটনায় তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই উড়োজাহাজে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বড় অংশই ইসরায়েলি নাগরিক। শনিবার (১০ অক্টোবর) আমিরাতের ফেডারেল অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি একাই এই ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, সন্দেহভাজন সহ-পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের একটি বিমানবন্দরে সেটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর সহ-পাইলট হাম্মাম জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান। এতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হন। তবে দ্রুত তৎপর হয়ে অপর পাইলট, কেবিন ক্রু এবং উপস্থিত যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার এই নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে অন্য পাইলট, কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার আদলে তিনি এই আত্মঘাতী হামলার ছক তৈরি করেছিলেন। নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে তিনি দুইবার ইসরায়েল সফর করেন এবং বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনাকালীন তিনি চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলেও তথ্য মিলেছে। তবে ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মী নিয়োগ বা নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে তাঁর কোনো সহযোগী ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ফ্লাইদুবাই আপাতত ইসরায়েলে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটিতে চলাচলকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। উড়োজাহাজের ককপিট সুরক্ষা ও কর্মী যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।