ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্য: সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি শ্রীলঙ্কান নাগরিক আনোজান শিবারাসার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত জুনের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের সূচনা হয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার পর এক মুসলিম তরুণের একটি কুকুরকে লাথি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অনলাইনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি হিন্দু দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যার প্রতিক্রিয়ায় আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। শ্রীলঙ্কায় এ ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যদিও আনোজান দ্রুত সেই পোস্ট মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ায় তা তার কর্মক্ষেত্র ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। জুলাই মাসে তাকে গ্রেফতার করে সৌদি পুলিশ এবং তার ব্যক্তিগত ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টগুলো মুছে দেওয়া হয়। আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসা জানিয়েছেন, শুরুর দিকে সৌদি আরবে এ বিষয়ে কেউ অবগত ছিলেন না। পরে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানালে আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

প্রাথমিকভাবে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ জানান, এই সাজা কমানোর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার মোড় ঘুরে যায়, যখন সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে বিচারের আবেদন জানায়। আপিল আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং আনোজানের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে। কবে সাজা কার্যকর হবে, তা-ও জানা যায়নি। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনোজানকে সহায়তার জন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বর্তমানে আনোজানের পরিবার ও লঙ্কান সরকারের মধ্যে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরিবার তার জীবন রক্ষায় সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছে। আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী কান্নায় ভেঙে পড়ে ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে গত ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবার দেখা করলে প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করেন যে, আনোজানকে সাধারণ ক্ষমা পেতে সরকার সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশটির রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই রায় মওকুফের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি। অতীতে সৌদি আরবে পরিবার বা নিজ দেশের দূতাবাসকে আগাম না জানিয়েও সাজা কার্যকরের নজির রয়েছে, যার ফলে তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের, প্রকম্পিত রাজধানী

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্য: সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৪:১৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি শ্রীলঙ্কান নাগরিক আনোজান শিবারাসার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত জুনের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের সূচনা হয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার পর এক মুসলিম তরুণের একটি কুকুরকে লাথি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অনলাইনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি হিন্দু দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যার প্রতিক্রিয়ায় আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। শ্রীলঙ্কায় এ ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যদিও আনোজান দ্রুত সেই পোস্ট মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ায় তা তার কর্মক্ষেত্র ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। জুলাই মাসে তাকে গ্রেফতার করে সৌদি পুলিশ এবং তার ব্যক্তিগত ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টগুলো মুছে দেওয়া হয়। আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসা জানিয়েছেন, শুরুর দিকে সৌদি আরবে এ বিষয়ে কেউ অবগত ছিলেন না। পরে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানালে আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

প্রাথমিকভাবে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ জানান, এই সাজা কমানোর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার মোড় ঘুরে যায়, যখন সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে বিচারের আবেদন জানায়। আপিল আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং আনোজানের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে। কবে সাজা কার্যকর হবে, তা-ও জানা যায়নি। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনোজানকে সহায়তার জন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বর্তমানে আনোজানের পরিবার ও লঙ্কান সরকারের মধ্যে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরিবার তার জীবন রক্ষায় সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছে। আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী কান্নায় ভেঙে পড়ে ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে গত ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবার দেখা করলে প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করেন যে, আনোজানকে সাধারণ ক্ষমা পেতে সরকার সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশটির রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই রায় মওকুফের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি। অতীতে সৌদি আরবে পরিবার বা নিজ দেশের দূতাবাসকে আগাম না জানিয়েও সাজা কার্যকরের নজির রয়েছে, যার ফলে তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।