মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবরটি পাওয়ার পর শুরুতে এটিকে কৌতুক মনে করেছিলেন। কৌতুক করে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, চাইলে তিনি এই পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে রাজি আছেন। শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস অসলোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণা করেন।
ফ্রিডনেস জানান, কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে বিজয়ী পিল্লাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, পিল্লাইয়ের প্রতি আমার বার্তা হলো, আপনি যদি কোনো নরওয়েজীয় নম্বর থেকে ফোন আসতে দেখেন, তবে অনুগ্রহ করে তা ধরুন। আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। এদিকে পিল্লাই জানান, ক্রিস্টফ নামের এক ব্যক্তি তাঁর পড়ার টেবিলে এসে তাকে নোবেল জয়ের বিষয়টি জানান। এসময় উপস্থিত লোকজনের করতালির জবাবে তিনি বলেন, এটি নিশ্চয়ই একটি কৌতুক। তবে একজন আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে আমি বিষয়টি যাচাই করতে চাই। পিল্লাই পরে রসিকতা করে যোগ করেন, আপনারা যদি আরেকটু বেশি হাততালি দেন, তবে আমি হয়তো এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি। তখন তাঁদের উদ্দেশে ধন্যবাদ জানাতে নাভি পিল্লাই বলেন, ‘এটি নিশ্চয়ই একটি কৌতুক!…আপনাদের এই করতালি আমার কাছে অনেক মূল্যবান।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, তিনি এই মুহূর্তে জার্মানিতে পিল্লাইয়ের সঙ্গেই আছেন। নুরেমবার্গ আদালত থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে তিনি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক পিল্লাইয়ের এই জয়কে মানবাধিকারের জন্য একটি সমষ্টিগত বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি নিজের বড় বোন পিল্লাইকে এই দুর্দান্ত পুরস্কারের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন জানান। কিছু লোকজনও জড়ো হয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নাভি পিল্লাইকে দেখা যায়। ক্যালামার্ড লিখেছেন, ‘আমরা নুরেমবার্গ আদালতে আছি।
উল্লেখ্য যে, গত বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তাঁরই পাওয়া উচিত। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, আমি জানি না নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত কী হতে যাচ্ছে, তবে আমার মতো মানুষদের হয়তো তারা পুরস্কার দিতে চায় না। এর আগে গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ট্রাম্পকে তাঁর নিজের পাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর নোবেল পুরস্কারের জন্য এর চেয়ে শক্তিশালী প্রতীকী বিষয়… আমি আর ভাবতেই পারছি না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















