ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

জ্বালানি সংকটে বন্ধ দেশের ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, তীব্র লোডশেডিং

তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে দেশের ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি করেছে, যার ফলে দিনে-রাতে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পিডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গ্যাস ও তরল জ্বালানির অপ্রতুলতাই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকার মূল কারণ।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যেখানে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ছে প্রায় ২৫ টাকা। এছাড়া কয়লাচালিত কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং গ্যাসচালিত কেন্দ্রে উৎপাদন খরচ ইউনিটপ্রতি সাত টাকার মতো। অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের দিক থেকে গ্যাসচালিত কেন্দ্রই সেরা, কিন্তু দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দেশে গ্যাসের সামগ্রিক অবকাঠামো স্বল্পতা এবং নতুন গ্যাস ক্ষেত্র না পাওয়ায় এ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। সবচেয়ে সস্তায় গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।

গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বুধবার (৭ অক্টোবর) সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৮৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি গ্যাস বরাদ্দ দিলে শিল্প খাতে টান পড়ে, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে ঘোড়াশালের চারটি ইউনিট (১ হাজার ১৫৩ মেগাওয়াট সক্ষমতা), ভেড়ামারা (৪১০ মেগাওয়াট), বাঘাবাড়ী (৭১ মেগাওয়াট) এবং সিরাজগঞ্জের তিনটি ইউনিট (২২৫ মেগাওয়াট) বন্ধ রয়েছে। এতে করে রফতানি বাধার মুখে পড়তে পারে। এজন্য চাইলেও গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যায় না।

তরল জ্বালানির সংকটের কারণে গোপালগঞ্জ (১০০ মেগাওয়াট), চৌমুহনী (১১৩ মেগাওয়াট) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ (১০০ মেগাওয়াট) কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ (২১০ মেগাওয়াট), টঙ্গী (৮০ মেগাওয়াট), আশুগঞ্জ ইস্ট (৪০০ মেগাওয়াট) এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিট (২৫০ ও ২৭৪ মেগাওয়াট) সচল নেই। এগুলোর মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট। এই তিন কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৩১৩ মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাইলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সঙ্গতি প্রয়োজন। তিন কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৮৩০ মেগাওয়াট।

চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় হরিপুর (৩৬০ মেগাওয়াট), মেঘনাঘাট (৪৫০ মেগাওয়াট) এবং ভেড়ামারা (২০ মেগাওয়াট) কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছে না পিডিবি। এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শাহজীবাজারের ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি হরিপুর (৩২ মেগাওয়াট), চট্টগ্রাম (৪২০ মেগাওয়াট), সিকলবাহা পিকিং (১৫০ মেগাওয়াট), সিলেট (২০ মেগাওয়াট), সৈয়দপুর (১৫০ মেগাওয়াট) এবং বড়পুকুরিয়ার কয়লাচালিত কেন্দ্রগুলোর সব ইউনিট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জ্বালানি সংকটে বন্ধ দেশের ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, তীব্র লোডশেডিং

আপডেট সময় ০১:০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে দেশের ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি করেছে, যার ফলে দিনে-রাতে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পিডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গ্যাস ও তরল জ্বালানির অপ্রতুলতাই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকার মূল কারণ।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যেখানে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ছে প্রায় ২৫ টাকা। এছাড়া কয়লাচালিত কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং গ্যাসচালিত কেন্দ্রে উৎপাদন খরচ ইউনিটপ্রতি সাত টাকার মতো। অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের দিক থেকে গ্যাসচালিত কেন্দ্রই সেরা, কিন্তু দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দেশে গ্যাসের সামগ্রিক অবকাঠামো স্বল্পতা এবং নতুন গ্যাস ক্ষেত্র না পাওয়ায় এ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। সবচেয়ে সস্তায় গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।

গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বুধবার (৭ অক্টোবর) সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৮৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি গ্যাস বরাদ্দ দিলে শিল্প খাতে টান পড়ে, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে ঘোড়াশালের চারটি ইউনিট (১ হাজার ১৫৩ মেগাওয়াট সক্ষমতা), ভেড়ামারা (৪১০ মেগাওয়াট), বাঘাবাড়ী (৭১ মেগাওয়াট) এবং সিরাজগঞ্জের তিনটি ইউনিট (২২৫ মেগাওয়াট) বন্ধ রয়েছে। এতে করে রফতানি বাধার মুখে পড়তে পারে। এজন্য চাইলেও গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যায় না।

তরল জ্বালানির সংকটের কারণে গোপালগঞ্জ (১০০ মেগাওয়াট), চৌমুহনী (১১৩ মেগাওয়াট) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ (১০০ মেগাওয়াট) কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ (২১০ মেগাওয়াট), টঙ্গী (৮০ মেগাওয়াট), আশুগঞ্জ ইস্ট (৪০০ মেগাওয়াট) এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিট (২৫০ ও ২৭৪ মেগাওয়াট) সচল নেই। এগুলোর মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট। এই তিন কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৩১৩ মেগাওয়াট। তরল জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাইলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সঙ্গতি প্রয়োজন। তিন কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৮৩০ মেগাওয়াট।

চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় হরিপুর (৩৬০ মেগাওয়াট), মেঘনাঘাট (৪৫০ মেগাওয়াট) এবং ভেড়ামারা (২০ মেগাওয়াট) কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছে না পিডিবি। এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শাহজীবাজারের ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি হরিপুর (৩২ মেগাওয়াট), চট্টগ্রাম (৪২০ মেগাওয়াট), সিকলবাহা পিকিং (১৫০ মেগাওয়াট), সিলেট (২০ মেগাওয়াট), সৈয়দপুর (১৫০ মেগাওয়াট) এবং বড়পুকুরিয়ার কয়লাচালিত কেন্দ্রগুলোর সব ইউনিট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।