ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের প্রবৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত—এই তিন সূচকের সমন্বয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের ভিত্তি বেশ মজবুত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলারের বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৩৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ ও রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে গত আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। মাসটিতে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার দেশে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ২৪২ কোটি ডলারের চেয়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া জুলাই মাসের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট ৫৮৩ কোটি ডলার দেশে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার থেকে বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠানো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এলেও, চলতি বছরের একই সময়ে তা ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থারও প্রতিফলন ঘটছে এতে।

রিজার্ভের ক্ষেত্রেও উন্নতির ছাপ স্পষ্ট। আগস্ট মাসের শেষে দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলারে, যা জুলাই মাস শেষে ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালের আগস্ট শেষে এটি ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার। আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতেও রিজার্ভের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। আগস্ট শেষে এই পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৬২৭ কোটি ডলারের রিজার্ভ বেড়েছে। আগস্ট শেষে এ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, জুলাই শেষে যা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার।

বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা, যা আগস্টের শেষে ছিল ১২৩ টাকা ২১ পয়সা। বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন সহজ করতে গত আগস্টে ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট বা এফএক্সএম মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এছাড়াও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

দেশের আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া মনে করেন, আমদানি বৃদ্ধির ধরনটি ইতিবাচক, কারণ শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা বাড়বে। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল উপকরণের আমদানি বাড়লে তা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে।

আলী হোসেন প্রধানিয়া আরও বলেন, বৈদেশিক খাতের এই উন্নত অবস্থান আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বাড়ার ফলে ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ডলার সংগ্রহের চাপ অনেকটা কমেছে। তবে এই উন্নতির ধারা ধরে রাখতে বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা রক্ষা, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সেবা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য ও চলতি হিসাবে ঘাটতি থাকলেও আর্থিক হিসাবে ৭৯০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত থাকায় সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নামফলক থেকে নিজের নাম সরানোর দাবিতে ভবন উদ্বোধন করলেন

প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের প্রবৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের অর্থনীতি

আপডেট সময় ১১:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত—এই তিন সূচকের সমন্বয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের ভিত্তি বেশ মজবুত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলারের বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৩৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ ও রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে গত আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। মাসটিতে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার দেশে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ২৪২ কোটি ডলারের চেয়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া জুলাই মাসের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট ৫৮৩ কোটি ডলার দেশে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার থেকে বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠানো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এলেও, চলতি বছরের একই সময়ে তা ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থারও প্রতিফলন ঘটছে এতে।

রিজার্ভের ক্ষেত্রেও উন্নতির ছাপ স্পষ্ট। আগস্ট মাসের শেষে দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলারে, যা জুলাই মাস শেষে ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালের আগস্ট শেষে এটি ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার। আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতেও রিজার্ভের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। আগস্ট শেষে এই পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৬২৭ কোটি ডলারের রিজার্ভ বেড়েছে। আগস্ট শেষে এ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, জুলাই শেষে যা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার।

বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা, যা আগস্টের শেষে ছিল ১২৩ টাকা ২১ পয়সা। বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন সহজ করতে গত আগস্টে ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট বা এফএক্সএম মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এছাড়াও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

দেশের আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া মনে করেন, আমদানি বৃদ্ধির ধরনটি ইতিবাচক, কারণ শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা বাড়বে। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল উপকরণের আমদানি বাড়লে তা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে।

আলী হোসেন প্রধানিয়া আরও বলেন, বৈদেশিক খাতের এই উন্নত অবস্থান আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বাড়ার ফলে ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ডলার সংগ্রহের চাপ অনেকটা কমেছে। তবে এই উন্নতির ধারা ধরে রাখতে বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা রক্ষা, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সেবা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। সামগ্রিকভাবে বাণিজ্য ও চলতি হিসাবে ঘাটতি থাকলেও আর্থিক হিসাবে ৭৯০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত থাকায় সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।