ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কালজয়ী সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর সেই আলোচিত অভিনেতা বিজয় চৌধুরী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নব্বই দশকের সাড়া জাগানো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ রইছ চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া অভিনেতা বিজয় চৌধুরী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। হঠাৎ বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। এখন তিনি রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পিসিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সিনেমাটির পর আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি তিনি।

বিজয় চৌধুরীর ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি পারিবারিক একটি দাওয়াতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ করেই বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। পরিস্থিতি গুরুতর বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সকল বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন।

বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিজয় চৌধুরীর মেয়ে ফিওনা ইসলাম। তিনি আবেগঘন বার্তায় জানান, তার বাবা বর্তমানে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। তিনি সকলের কাছে আন্তরিক দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন যাতে আল্লাহ তার বাবাকে দ্রুত সুস্থ করে তাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।

চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে বিজয় চৌধুরী রইছ নামেই বেশি পরিচিত। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত সিনেমাটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সিনেমাটি আজও দর্শকের স্মৃতিতে অম্লান। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রইছ চরিত্রটির আত্মত্যাগ প্রতিটি দর্শকের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। মাত্র ২২ বছর বয়সে করা সেই শক্তিশালী অভিনয়ই তাকে দর্শকমহলে ব্যাপক পরিচিতি দিয়েছিল। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে রইছের আত্মত্যাগ দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার শৈশব ও বেড়ে ওঠা রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায়। ১৯৯৩ সালে রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়। অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত হননি তিনি। ১৯৯৬ সালে তিনি সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বাবা মোহাম্মদ মনির চৌধুরী একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং মা মিনা চৌধুরী গৃহিণী। অভিনয় জগৎ থেকে অনেকটা দূরে সরে গেলেও ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ হিসেবেই তিনি আজও দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হন। ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার নাম রাখেন ‘বিজয়’। এরপর সময় গড়িয়েছে, অভিনয় থেকেও দূরে সরে গেছেন তিনি। এরপর আরো কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

আপডেট সময় ০৪:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নব্বই দশকের সাড়া জাগানো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ রইছ চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া অভিনেতা বিজয় চৌধুরী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। হঠাৎ বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। এখন তিনি রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পিসিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সিনেমাটির পর আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি তিনি।

বিজয় চৌধুরীর ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি পারিবারিক একটি দাওয়াতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ করেই বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। পরিস্থিতি গুরুতর বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সকল বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন।

বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিজয় চৌধুরীর মেয়ে ফিওনা ইসলাম। তিনি আবেগঘন বার্তায় জানান, তার বাবা বর্তমানে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। তিনি সকলের কাছে আন্তরিক দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন যাতে আল্লাহ তার বাবাকে দ্রুত সুস্থ করে তাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।

চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে বিজয় চৌধুরী রইছ নামেই বেশি পরিচিত। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত সিনেমাটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সিনেমাটি আজও দর্শকের স্মৃতিতে অম্লান। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রইছ চরিত্রটির আত্মত্যাগ প্রতিটি দর্শকের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। মাত্র ২২ বছর বয়সে করা সেই শক্তিশালী অভিনয়ই তাকে দর্শকমহলে ব্যাপক পরিচিতি দিয়েছিল। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে রইছের আত্মত্যাগ দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার শৈশব ও বেড়ে ওঠা রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায়। ১৯৯৩ সালে রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়। অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত হননি তিনি। ১৯৯৬ সালে তিনি সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বাবা মোহাম্মদ মনির চৌধুরী একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং মা মিনা চৌধুরী গৃহিণী। অভিনয় জগৎ থেকে অনেকটা দূরে সরে গেলেও ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ হিসেবেই তিনি আজও দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হন। ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার নাম রাখেন ‘বিজয়’। এরপর সময় গড়িয়েছে, অভিনয় থেকেও দূরে সরে গেছেন তিনি। এরপর আরো কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন।