অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজশাহীর তানোরে যৌতুকের দাবিতে এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে সুমাইয়া (১৯) নামের গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ সুমাইয়া স্বামী তুহিন ইসলামকে (২৩) প্রধান করে শুক্রবার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি তানোর পৌর সদরে মারপিটের ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি মিরাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম।
অভিযোগ ও গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে পৌর সদর তানোর পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে উপজেলার কামারগা ইউপি এলাকার হাতিশাইল মিরাপুর গ্রামের বাবুলের ছেলে তুহিন ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে সুমাইয়াকে তুহিন বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে থাকেন।
এ অবস্থায় গত তিন মাস আগে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন সুমাইয়াকে দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। যৌতুক দিতে সুমাইয়া অপারগতা প্রকাশ করলে তার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে গৃহবধূ সুমাইয়া তার বাবা ইব্রাহিমকে বিষয়টি অবহিত করেন।
সুমাইয়ার বাবা বিষয়টি জানার পর মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান। তারপরও স্বামীর বাড়ির লোকজনরা সুমাইয়ার পরিবারের লোকজনের কাছে টাকার দাবি করেই আসছিল। এমন অবস্থায় চলতি মাসের ১৮ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়ার বাবার বাড়িতে যান স্বামী তুহিনসহ তার বোন। ওইসময় গৃহবধূর বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না।
ফাঁকা বাড়ি পেয়ে সেখানে আবারো দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে গৃহবধূ সুমাইয়ার কাছে। তিনি যৌতুক দিতে অপারগতা জানালে তারা সুমাইয়াকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। তাদের মারপিট সহ্য করতে না পেরে সুমাইয়া চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। অবস্থা বেগতিক দেখে স্বামী তুহিন তার বোনকে নিয়ে পালিয়ে যান। সুমাইয়ার চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
গৃহবধূ সুমাইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার স্বামী কোরআনের হাফেজ এবং তিনি মসজিদে ইমামতি করতেন। তার সব কিছু ভালো দেখে আমি সম্মতি দিলে বাবা বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস ভালো চললেও গত ৩-৪ মাস ধরে অযথা বোনের উস্কানিতে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। আমার বাবার আমি একমাত্র মিয়ে। আমার স্বামীকে আমার বাবা অনেক কিছু দিয়েছে। তারপরও যৌতুকের দাবিতে আমাকে মাঝে মাঝেই মারপিট করে থাকে।
সুমাইয়ার বাবা ইব্রাহিম জানান, আমার একমাত্র মেয়েজামাইকে দিতে কম করি নি। হঠাৎ শুনছি দুই লাখ টাকা জামাইকে যৌতুক দিতে হবে। না দেয়ার কারণে আমার মেয়েকে অমানুষিক মারপিট করেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
জানতে চাইলে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত তুহিন ইসলাম বলেন, আমি মোটরসাইকেল কিনে স্টকের ব্যবসা করার জন্য টাকার কথা বলেছি। কিন্তু টাকার জন্য মারধরের বিষয়টি সঠিক নয়। এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ পাঠিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। গৃহবধূর সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে যা করা দরকার আইনগতভাবেই করা হবে বলে জানান তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























