আকাশ নিউজ ডেস্ক:
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের এক নবদম্পতি নিজেদের বিয়ের আসরকেই বানিয়ে ফেললেন পেশাদার কুস্তির (প্রফেশনাল রেসলিং) ময়দান। আর শর্ত ছিল—এই কুস্তিতে যে হারবে, তাকে সারাজীবন ঘরের সব কাজ করতে হবে।
বর হি ইনশেং গুইঝোউ প্রদেশের জুনি শহরের একজন পেশাদার কুস্তিগির। মে মাসের শুরুতে স্থানীয় একটি হোটেলে স্ত্রীর সঙ্গে মিলে তিনি এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন। ঐতিহ্যবাহী বিয়ের মঞ্চের বদলে তারা সেখানে একটি কুস্তির রিং বসান। আর পেছনের বিশাল পর্দায় ভেসে উঠছিল নাটকীয় এক পোস্টার—‘বর বনাম কনে’।
এরপর নবদম্পতি নিজেদের দল নিয়ে ‘বেস্ট-অব-থ্রি’ (তিনবারের মধ্যে যে দুবার জিতবে) প্রতিযোগিতায় নামেন। অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে অন্য পারফরমাররা রিংয়ে প্রবেশ করেন। তারা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন কৌশলে কুস্তি লড়েন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বর-কনে নিজেরাই রিংয়ে নামেন। দর্শকদের চিৎকারের মধ্যে কনে খুব দ্রুতই লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। বরের আক্রমণগুলো খুব চতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে গিয়ে, একটি ‘শোল্ডার থ্রো’ দিয়ে তাকে মাটিতে আছড়ে ফেলেন কনে।
এরপর রেফারি কনেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন এবং জানান যে তিনি ‘সারা জীবনের জন্য ঘরের কাজ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন’।
পুরো লড়াইটি আগে থেকে সাজানো হলেও, এই আয়োজন অতিথিদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছিল। বর সংবাদমাধ্যম জিয়াওজিয়াং মর্নিং পোস্টকে জানান, সব পারফরমারই পেশাদার ছিলেন এবং পুরো শোতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠান শেষে বর বলেন, ‘অবশ্যই আমাকে শেষ পর্যন্ত হারতেই হতো। আমি তো আর তাকে দিয়ে ঘরের কাজ করাতে পারি না!’
বর হি জানান, বিয়ের পরিকল্পনার সময় যখন দেখলেন যে খরচ বাজেট ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তখনই তার মাথায় এই অভিনব বুদ্ধি আসে। গায়ক ও অন্যান্য পারফর্মার ভাড়া করার বদলে তিনি একটি কুস্তি ম্যাচের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন।
তার স্ত্রীও এই পরিকল্পনায় পূর্ণ সমর্থন দেন। তবে দুই পরিবারের মা-বাবারা বলেছিলেন, ‘তারা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও সন্তানদের পছন্দকে সম্মান করেন।’
হি বলেন, ‘আমাদের বিয়েতে খাবারও ছিল, আবার একটি শো-ও ছিল। তাই সবাই বেশ খুশি মনেই এসেছিল। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ অতিথি এসেছিলেন, যা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি।’
তিনি আশা করেন, তার এই বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চীনের অল্প পরিচিত পেশাদার কুস্তির সঙ্গে আরও বেশি মানুষ পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। চীনে পেশাদার কুস্তির সংস্কৃতি এখনো বেশ ছোট পরিসরেই রয়েছে। বার, বিয়ার উৎসব এবং বিভিন্ন কোম্পানির বার্ষিক অনুষ্ঠানের মতো নির্দিষ্ট জায়গাতেই মূলত এই পারফরম্যান্স সীমাবদ্ধ থাকে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























