ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামে শিশু মৃত্যুর জন্য সরকারকে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে: নাহিদ ইসলাম আ.লীগের মতো বিএনপির নেতাকর্মীরা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে: সারজিস তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুনভাবে জাগরণ সৃষ্টি করেছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১০ সাতটি পাসপোর্টসহ সীমান্তে আটক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি বাংলাদেশকে বাদ দিয়েও ভারত চলতে পারবে: ফজলুর রহমান বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ভারত নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে: কর্নেল অলি বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর গ্রেফতার রাজনীতির নামে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করলে আমরা বসে থাকব না:প্রধানমন্ত্রী ‘আপনারা উল্টা পথে হাঁটছেন’, বিএনপিকে জামায়াত আমির

নথি ফাঁস: উইলিয়াম-কেটের বাড়ি ভাড়ার অংক শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ব্রিটিশ রাজদম্পতি প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস কেট মিডল্টন তাদের উইন্ডসরের ‘চিরস্থায়ী’ ঠিকানা হিসেবে পরিচিত ফরেস্ট লজের ভাড়ার জন্য বছরে ৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা) পরিশোধ করছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্রিটেনের সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত ২০ বছরের চুক্তির আওতায় ‘দ্য প্রিন্স অ্যান্ড প্রিন্সেস অব ওয়েলস’ এখন এই গ্রেড-২ তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক প্রাসাদের বৈধ ভাড়াটিয়া।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন প্রকাশিত এই ভাড়ার পরিমাণ আগের ভাড়াটিয়াদের তুলনায় প্রায় ১ লাখ পাউন্ড (১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা) বেশি। আগে সম্পত্তিটির বার্ষিক ভাড়া ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার পাউন্ড (৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা)।

যদিও ইজারা চুক্তিটি গত বছরই সম্পন্ন হয়েছিল, তবে ভাড়ার সঠিক পরিমাণ এতদিন প্রকাশ করা হয়নি। এবার ল্যান্ড রেজিস্ট্রি নথির মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আসে।

নথি অনুযায়ী, ফরেস্ট লজের পাশাপাশি এর দুটি কটেজও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, যা কর্মীদের আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এর আগে এই সম্পত্তি ইভেন্ট কোম্পানি ফেইট অ্যাকমপ্লি’র চেয়ারম্যান আলেকজান্ডার ফিটজগিবনসের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল, যিনি বছরে ২ লাখ ১৬ হাজার পাউন্ড ভাড়া দিতেন।

ফিটজগিবনসের প্রতিষ্ঠান ২০১১ সালে উইলিয়াম ও কেটের বিয়ের সংবর্ধনা এবং ২০১৮ সালে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের বিয়ের সংবর্ধনা আয়োজন করেছিল।

২০১৯ সালে ফিটজগিবনস ও সুইডিশ ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা স্টেনবেক যৌথভাবে সম্পত্তিটির ইজারা নেন। পরে ভাড়ার বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে এটি পুনরায় নতুন ভাড়ায় দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস দম্পতির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।

নতুন বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারণে হাম্পটনস ও স্যাভিলস (ক্রাউন এস্টেটের পক্ষে) এবং নাইট ফ্র্যাঙ্ক (প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলসের পক্ষে) তিনটি পৃথক মূল্যায়ন পরিচালনা করে।

উইলিয়াম ও কেট আগে থেকেই ফরেস্ট লজকে তাদের ‘চিরস্থায়ী ঠিকানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইজারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে এটি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রিন্স উইলিয়ামের ভাড়ার অর্থ তার ব্যক্তিগত কর-পরবর্তী আয় থেকে পরিশোধ করা হয়, যা তিনি ডাচি অব কর্নওয়াল সম্পত্তি থেকে পান।

কেনসিংটন প্যালেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি এই আয়ের ওপর সর্বোচ্চ হারে কর প্রদান করেন, তবে সুনির্দিষ্ট অংক প্রকাশ করা হয় না। দ্য সানডে টাইমসের এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হয়েছে, তার বার্ষিক আয় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ পাউন্ডের মধ্যে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ল্যান্ড রেজিস্ট্রি নথিতে একটি অংশ গোপন রাখা হয়েছে, যা সম্পত্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ফরেস্ট লজ আগে ‘গ্রেস অ্যান্ড ফেভার’ ধরনের রাজকীয় আবাস ছিল, যা ১৯৯০-এর দশকে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ক্রাউন এস্টেটের কাছে ফিরিয়ে দেন। এরপর থেকে এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

ফরেস্ট লজ ছাড়াও উইলিয়াম ও কেট লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস এবং নরফোকের আনমার হলসহ একাধিক আবাস ব্যবহার করে থাকেন।

এই তথ্য এমন সময় প্রকাশ্যে এসেছে, যখন রাজপরিবারের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও ক্রাউন এস্টেটের ইজারা নীতি নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি ও সংসদীয় তদন্ত বাড়ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে শিশু মৃত্যুর জন্য সরকারকে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে: নাহিদ ইসলাম

নথি ফাঁস: উইলিয়াম-কেটের বাড়ি ভাড়ার অংক শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

আপডেট সময় ১০:১৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ব্রিটিশ রাজদম্পতি প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস কেট মিডল্টন তাদের উইন্ডসরের ‘চিরস্থায়ী’ ঠিকানা হিসেবে পরিচিত ফরেস্ট লজের ভাড়ার জন্য বছরে ৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা) পরিশোধ করছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্রিটেনের সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত ২০ বছরের চুক্তির আওতায় ‘দ্য প্রিন্স অ্যান্ড প্রিন্সেস অব ওয়েলস’ এখন এই গ্রেড-২ তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক প্রাসাদের বৈধ ভাড়াটিয়া।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন প্রকাশিত এই ভাড়ার পরিমাণ আগের ভাড়াটিয়াদের তুলনায় প্রায় ১ লাখ পাউন্ড (১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা) বেশি। আগে সম্পত্তিটির বার্ষিক ভাড়া ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার পাউন্ড (৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা)।

যদিও ইজারা চুক্তিটি গত বছরই সম্পন্ন হয়েছিল, তবে ভাড়ার সঠিক পরিমাণ এতদিন প্রকাশ করা হয়নি। এবার ল্যান্ড রেজিস্ট্রি নথির মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আসে।

নথি অনুযায়ী, ফরেস্ট লজের পাশাপাশি এর দুটি কটেজও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, যা কর্মীদের আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এর আগে এই সম্পত্তি ইভেন্ট কোম্পানি ফেইট অ্যাকমপ্লি’র চেয়ারম্যান আলেকজান্ডার ফিটজগিবনসের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল, যিনি বছরে ২ লাখ ১৬ হাজার পাউন্ড ভাড়া দিতেন।

ফিটজগিবনসের প্রতিষ্ঠান ২০১১ সালে উইলিয়াম ও কেটের বিয়ের সংবর্ধনা এবং ২০১৮ সালে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের বিয়ের সংবর্ধনা আয়োজন করেছিল।

২০১৯ সালে ফিটজগিবনস ও সুইডিশ ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা স্টেনবেক যৌথভাবে সম্পত্তিটির ইজারা নেন। পরে ভাড়ার বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে এটি পুনরায় নতুন ভাড়ায় দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস দম্পতির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।

নতুন বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারণে হাম্পটনস ও স্যাভিলস (ক্রাউন এস্টেটের পক্ষে) এবং নাইট ফ্র্যাঙ্ক (প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলসের পক্ষে) তিনটি পৃথক মূল্যায়ন পরিচালনা করে।

উইলিয়াম ও কেট আগে থেকেই ফরেস্ট লজকে তাদের ‘চিরস্থায়ী ঠিকানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইজারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে এটি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রিন্স উইলিয়ামের ভাড়ার অর্থ তার ব্যক্তিগত কর-পরবর্তী আয় থেকে পরিশোধ করা হয়, যা তিনি ডাচি অব কর্নওয়াল সম্পত্তি থেকে পান।

কেনসিংটন প্যালেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি এই আয়ের ওপর সর্বোচ্চ হারে কর প্রদান করেন, তবে সুনির্দিষ্ট অংক প্রকাশ করা হয় না। দ্য সানডে টাইমসের এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হয়েছে, তার বার্ষিক আয় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ পাউন্ডের মধ্যে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ল্যান্ড রেজিস্ট্রি নথিতে একটি অংশ গোপন রাখা হয়েছে, যা সম্পত্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ফরেস্ট লজ আগে ‘গ্রেস অ্যান্ড ফেভার’ ধরনের রাজকীয় আবাস ছিল, যা ১৯৯০-এর দশকে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ক্রাউন এস্টেটের কাছে ফিরিয়ে দেন। এরপর থেকে এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

ফরেস্ট লজ ছাড়াও উইলিয়াম ও কেট লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস এবং নরফোকের আনমার হলসহ একাধিক আবাস ব্যবহার করে থাকেন।

এই তথ্য এমন সময় প্রকাশ্যে এসেছে, যখন রাজপরিবারের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও ক্রাউন এস্টেটের ইজারা নীতি নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি ও সংসদীয় তদন্ত বাড়ছে।