আকাশ নিউজ ডেস্ক:
একসময় ফ্যাশনেবল জুতার মানেই ছিল চিকন হিল, ঝকঝকে ডিজাইন কিংবা নিখুঁত সৌন্দর্য। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই ধারণা বদলে গেছে নাটকীয়ভাবে। এখন ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কাড়ছে এমন সব জুতা, যেগুলোকে অনেকে সরাসরি ‘অদ্ভুত’, ‘বেখাপ্পা’ কিংবা ‘কুৎসিত’ বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চওড়া, ভারী, কখনও আলু আকৃতির মতো দেখতে কিংবা পাঁচ আঙুল আলাদা করা জুতা। ব্যবহারিক সুবিধা ও অস্বাভাবিক নকশার মিশেলে তৈরি এসব ‘আগলি শ্যু’ এখন বিশ্বজুড়ে নতুন ট্রেন্ড।
‘উইয়ার্ড শ্যু’-এর উত্থান:
ফ্যাশনের এই নতুন ধারায় জায়গা করে নিয়েছে ক্রক্স, আঙুল আলাদা করা ফাইভ-টো স্নিকার, এমনকি ব্যাঙ-আকৃতির ওয়েলিংটন বুটও। ২০২৩ সালে ডিজাইনার জোনাথন অ্যান্ডারসন পুরোনো ‘ওয়েলিপেট’ ব্যাঙ-বুটকে নতুনভাবে র্যাম্পে ফিরিয়ে আনেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
কাঠের খড়ম বা ক্লগও নতুনভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। চিকিৎসাবান্ধব অর্থোপেডিক ডিজাইন থেকে শুরু করে প্যারিসভিত্তিক ব্র্যান্ড ওয়াই/প্রজেক্টের জেলি ক্লগ- সবই এখন ফ্যাশনের অংশ। বিশেষ করে সবুজাভ রঙের গার্ডেনিং ক্লগ এখন ব্রুকলিন থেকে প্যারিস পর্যন্ত ট্রেন্ডি তরুণদের পায়ে দেখা যাচ্ছে।
‘ফ্র্যাঙ্কেনশ্যু’: দুই জুতার এক মিশ্রণ:
বর্তমান ট্রেন্ডে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ‘ফ্র্যাঙ্কেনশ্যু’- অর্থাৎ দুই বা ততোধিক ধরনের জুতার মিশ্রণ।
ফ্র্যাঙ্কেনশ্যু:
এর মধ্যে রয়েছে ‘স্নিকারিনা’, যা স্নিকার ও ব্যালে পাম্প জুতার সংমিশ্রণ। এছাড়া ‘স্নোফার’ নামের আরেক ধরনের জুতা তৈরি হয়েছে স্নিকার ও লোফারের মিশেলে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একে ‘স্পর্কের মতো জুতার সংস্করণ’ বলে বর্ণনা করেছে।
এছাড়াও বাজারে এসেছে সক-বুট, ক্লগ-ট্রেইনার এবং আবার ফিরে আসা ওয়েজ-ট্রেইনার।
বিভক্ত আঙুলের জুতার জনপ্রিয়তা:
সবচেয়ে বিতর্কিত ট্রেন্ডগুলোর একটি হলো বিভক্ত আঙুল বা ‘ক্লোভেন-টো’ জুতা। অনেকে এগুলোকে অস্বস্তিকর বা হাস্যকর মনে করলেও ফ্যাশন অনুরাগীদের কাছে এর আবেদন বাড়ছে দ্রুত।
জেলি ক্লগ শ্যু:
এই ধারা জনপ্রিয় করে তোলে ফরাসি ফ্যাশন হাউস মেসন মার্জিয়েলা’র ‘ট্যাবি’ জুতা। ১৯৮৮ সালে আত্মপ্রকাশ করা এই ডিজাইনটি জাপানের ১৫শ’ শতকের ঐতিহ্যবাহী মোজা থেকে অনুপ্রাণিত। বর্তমানে বহু জনপ্রিয় স্নিকার ব্র্যান্ডই একই ধরনের বিভক্ত নকশার জুতা বাজারে আনছে।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এসব জুতা?
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, এসব জুতার জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে আত্মপ্রকাশের প্রবণতা। ফ্যাশন টিংজ নিউজলেটারের প্রতিষ্ঠাতা জে’নে ফিলিপসের ভাষায়, “ইচ্ছাকৃতভাবে বেখাপ্পা বা অদ্ভুত জুতা পুরো পোশাকের কঠোরতা ভেঙে দেয় এবং একজনকে আরও স্বতন্ত্র ও সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন হিসেবে তুলে ধরে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ‘পারফেক্ট’ সাজসজ্জার বিপরীতে এই ট্রেন্ড এক ধরনের প্রতিবাদও বটে। নিখুঁত ইনস্টাগ্রাম নান্দনিকতার যুগে ‘আগলি শ্যু’ ব্যক্তিত্ব, রসবোধ এবং আলাদা পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে।
স্নোফার:
‘দ্য রং শ্যু থিওরি’র প্রভাব
২০২৩ সালে স্টাইল বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন বর্নস্টাইন ‘রং-শ্যু থিওরি’ নামে একটি ধারণা জনপ্রিয় করেন। তার মতে, পোশাকের সঙ্গে সামান্য বেমানান বা অপ্রত্যাশিত জুতা পুরো স্টাইলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। সেই ধারণাই আজকের ‘ফ্র্যাঙ্কেনশ্যু’ ট্রেন্ডকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আরামই কি আসল কারণ?
তবে ফ্যাশন বিশ্লেষক মেগ পামারের মতে, এত বিশ্লেষণের পরও মূল কারণটি খুব সাধারণ- সেটি হচ্ছে ‘আরাম’।
তার ভাষায়, “বিদ্রোহ, স্ট্যাটাস বা নান্দনিকতার কথা বলা যায়, কিন্তু সত্যি বলতে এসব জুতা খুবই আরামদায়ক।”
অ্যাপ্রোচ শ্যু:
বিশেষ করে হাইকিং ও ক্লাইম্বিং জুতার মিশ্রণে তৈরি ‘অ্যাপ্রোচ শ্যু’ এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এর আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার কারণে।
ফ্যাশনের জগতে তাই এখন সৌন্দর্যের প্রচলিত সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। নিখুঁত, পরিপাটি জুতার বদলে অদ্ভুত, হাইব্রিড এবং আরামদায়ক ডিজাইনই হয়ে উঠছে নতুন প্রজন্মের স্টাইল স্টেটমেন্ট।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























