আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
ফিফা কংগ্রেসে এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাসিম শেখ সুলিমানের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে।
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো দুজনকে মঞ্চে ডেকেছিলেন। কিন্তু রাজউব আরব-ইসরাইলি সুলিমানের কাছে যেতে রাজি হননি। ইনফান্তিনো হাত দিয়ে ইশারা করে রাজউবকে সুলিমানের কাছে আসতে বলেন। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি।
রাজউব কেন অস্বীকার করলেন জানতে চাইলে ফিলিস্তিনি ফুটবলের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান শালাবি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমি এমন কারো সঙ্গে হাত মেলাতে পারি না, যাকে ইসরাইলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যাকে হোয়াইটওয়াশ করতে এনেছে। আমরা কষ্টে আছি।’ ইসরাইল গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এরপর ইনফান্তিনো মঞ্চে এসে বলেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করব, প্রেসিডেন্ট রাজউব, ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলিমান। শিশুদের আশা দিতে একসঙ্গে কাজ করি। এগুলো জটিল বিষয়।’
কংগ্রেস শেষে শালাবি রয়টার্সকে বলেছেন, ইনফান্তিনোর হাত মেলানোর চেষ্টা রাজউবের বক্তব্যের প্রতি কোনো সম্মান দেখায়নি। রাজউব তার বক্তব্যে আবারও দাবি করেছিলেন, ইসরাইলি ক্লাবগুলো যেন পশ্চিম তীরের বসতিতে দল না রাখে। শালাবি বলেছেন, ‘সব কিছুর পরে হাত মেলানোর পরিস্থিতিতে ফেলা হলে জেনারেলের পুরো বক্তব্যের উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়। তিনি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে নিয়মগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা অযৌক্তিক।’
রাজউব বলেছেন, ‘আমার দিক থেকে আমি এখনো আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করি ও মেনে চলি। কিন্তু আমি মনে করি এখন সময় এসেছে বোঝার যে ইসরাইলকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত। দ্বৈত নীতি বন্ধ হওয়া উচিত। আমি হাত মেলাতে অস্বীকার করেছি। খেলাধুলা হলো খেলাধুলা। কিন্তু অন্যপক্ষ যদি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো অপরাধীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিবিকে মাদার তেরেসার মতো উপস্থাপন করে, তাহলে আমি কীভাবে তার সঙ্গে হাত মেলাই বা ছবি তুলি?’
তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি জিয়ানির ব্যবধান কমানোর চেষ্টার অধিকার আছে। কিন্তু হয়তো তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের গভীর কষ্ট বোঝেন না বা জানেন না।’
গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পশ্চিম তীরের বসতিতে থাকা ইসরাইলি ক্লাবগুলোর বিষয়ে ফিফার নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ক্রীড়া সালিশ আদালতে আপিল করেছে। ফিফা গত মাসে জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইনে পশ্চিম তীরের আইনি মর্যাদা এখনো অমীমাংসিত থাকায় তারা কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
ভ্যাংকুভার কনভেনশন সেন্টার থেকে বের হওয়ার সময় রাজউব ও শালাবিকে বিক্ষোভকারীরা ঘিরে ধরে। তারা ফিফার কাছে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 









