আকাশ নিউজ ডেস্ক:
ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে কোলাজেনের ভূমিকা অনন্য। এটি ত্বককে টানটান ও দৃঢ় রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের পরিমাণ কমতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৫ বছর বয়সের পর থেকেই শরীর প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১ শতাংশ কোলাজেন হারাতে থাকে। এর ফলেই ত্বকে ভাঁজ পড়ে, পোরস বড় হয়ে যায় এবং ত্বক ঝুলে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব কোষ কোলাজেন তৈরি করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের কার্যক্ষমতা কমে যায়। রোদে অতিরিক্ত থাকা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ ও হরমোনজনিত পরিবর্তন-বিশেষ করে মেনোপজ কোলাজেন ভাঙনের গতি বাড়িয়ে দেয়। কোলাজেন কমতে শুরু করলে ত্বকে এর স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
ত্বকের কোলাজেন কমে যাওয়ার লক্ষণ-
ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া:
কোলাজেন কমে গেলে ত্বকের টানটান ভাব কমতে শুরু করে। ত্বক তখন আগের মতো দৃঢ় বা স্থিতিস্থাপক থাকে না। রোমকূপ বড় দেখায় এবং ত্বক ধীরে ধীরে পাতলা হতে থাকে।
ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া:
কোলাজেন ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই কোলাজেন কমে গেলে ত্বকের পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক ও প্রাণহীন দেখায়। আপনার ত্বক যদি দিনকে দিন নিস্তেজ হতে শুরু করে তাহলে সচেতন হোন। রূপবিশেষজ্ঞ কিংবা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলুন।
বলিরেখা:
কোলাজেন কমে গেলে মুখে বিশেষ করে কপালে বলিরেখা স্পষ্ট বোঝা যায়। মুখের সূক্ষ্ম রেখাগুলো সহজে মিলিয়ে যায় না। হাসি বা ভ্রু কুঁচকানোর রেখাগুলো স্থায়ী বলিরেখায় পরিণত হতে শুরু করে।
মুখের গড়নে পরিবর্তন:
কোলাজেন কমলে চোখের চারপাশে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কপালের পাশ সরু হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কোলাজেন কমে যাওয়ার কারণে নখ ভাঙা, চুল দুর্বল হয়ে পড়া, এমনকি জয়েন্টে ব্যথা বা পেশির দুর্বলতাও হতে পারে।
ক্ষত সারতে দেরি হওয়া:
শরীরের কোথাও কেটে গেলে বা আঘাত পেলে তা না শুকালে সতর্ক হোন। কোলাজেন ক্ষয় হতে শুরু হলে ক্ষত সারতে দেরি হয়। আবার জয়েন্টের ব্যথাও বেড়ে যায়। কেননা কোলাজেন হাড় ও অস্থিসন্ধির সংযোগে কাজ করে।
কোলাজেন কমে গেলে কী পুনরুদ্ধারের উপায় আছে?
বয়স বাড়লেও ত্বক নতুন কোলাজেন তৈরি করার ক্ষমতা পুরোপুরি হারায় না। বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়মিত ভালো মানের রেটিনয়েড ব্যবহার করলে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে। পাশাপাশি ত্বকের কোষকে শক্তি জোগানোও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সুস্থ কোষই কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। কোলাজেন বাড়াতে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে হবে। খাদ্য তালিকায় ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, শাকসবজি, ফল, দুগ্ধজাত খাবার ও পূর্ণ শস্য রাখতে হবে। ভিটামিন সি, নিয়াসিনামাইড, পেপটাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























