আকাশ নিউজ ডেস্ক:
প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের নির্মাণ দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে স্কটল্যান্ডে পাওয়া এক রহস্যময় কৃত্রিম দ্বীপকে ঘিরে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে তৈরি এই দ্বীপটি বিখ্যাত স্টোনহেঞ্জেরও পুরোনো। আবিষ্কারটি প্রাচীন ব্রিটেনের সমাজ ও প্রযুক্তি সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে দিতে পারে।
স্কটল্যান্ডের আউটার হেব্রিডস অঞ্চলের লুইস দ্বীপে অবস্থিত লখ ভোরগাস্তাইল হ্রদে এই কৃত্রিম দ্বীপের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এটিকে ‘ক্র্যানগ’ নামে পরিচিত প্রাচীন দ্বীপ কাঠামো বলে শনাক্ত করেছেন। সাধারণত পাথর, কাঠ ও গাছের ডালপালা দিয়ে হ্রদ বা নদীর মধ্যে এসব দ্বীপ তৈরি করা হতো।
সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় ও রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পানির নিচে অনুসন্ধান, খননকাজ এবং আধুনিক চিত্র বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানটি পরীক্ষা করেন। তারা দেখতে পান, দ্বীপটি প্রায় ২৩ মিটার চওড়া একটি বিশাল কাঠের মঞ্চের ওপর নির্মিত হয়েছিল। প্রথমে কাঠ ও ডালপালা দিয়ে ভিত্তি তৈরি করা হয়, পরে তার ওপর পাথর বসানো হয়।
কার্বন বিশ্লেষণে জানা গেছে, এটি খ্রিষ্টপূর্ব ৩৬৪০ থেকে ৩৩৬০ সালের মধ্যে তৈরি। অর্থাৎ এটি স্টোনহেঞ্জেরও আগের নির্মাণ।
গবেষকরা দ্বীপের আশপাশে নবপ্রস্তর যুগের শত শত মাটির পাত্রের টুকরা পেয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, জায়গাটি ধর্মীয় আচার, সামাজিক সমাবেশ বা ভোজের জন্য ব্যবহৃত হতো।
গবেষকদের মতে, হ্রদের মাঝখানে এত বড় কাঠামো তৈরি করতে পরিকল্পিত শ্রম ও উন্নত নির্মাণ জ্ঞান প্রয়োজন ছিল। ফলে বোঝা যায়, সেই সময়ের সমাজ আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ও দক্ষ ছিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















