ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন নিয়ে দুর্নীততে ক্ষুব্ধ তামিম

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মিরপুর স্টেডিয়ামের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সোচ্চার তামিম ইকবাল। গ্যালারির শৌচাগারের বেহাল দশা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতনে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাবেক এই ওপেনার।

সোমবার (৪ মে) ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উদ্বোধনী দিনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম স্টেডিয়ামের করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত শনিবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্যালারিতে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানে একজন বিদেশি দর্শক বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেন। তামিম বলেন, ‘আমি নিজেই অবাক হয়েছি। ২০০৭ সালে স্টেডিয়াম হওয়ার পর থেকে বাথরুমে কোনো সংস্কার হয়নি, এটা ঠিক না।’

শৌচাগার পরিদর্শনে গিয়েই বেরিয়ে আসে আরও বড় দুর্নীতির খবর। সেখানে কর্মরত এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে তামিম জানতে পারেন, হাড়ভাঙা খাটুনির পর তারা দিনে মাত্র ৩০০ টাকা মজুরি পান। অথচ বিসিবির পক্ষ থেকে কোম্পানিকে দেওয়া হয় ৬৫০ টাকা।

ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে ক্ষুব্ধ তামিম বলেন, ‘একটা কোম্পানি টেন্ডার পায়, কিন্তু বিসিবির লোকজন দিয়েই কাজ করানো হয়। কোম্পানি টাকা নিয়ে আবার অন্য একজনের মাধ্যমে কর্মীদের দেয়, আর মাঝখানে বড় একটা অংশ রেখে দেয়। মাঝখানে কোনো কাজ না করে ২০০-৩০০ টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন। অন্তত ৫০০ টাকা তো ওদের পাওনা।’

কেবল মূল বেতন নয়, ওভারটাইম নিয়েও চলছে নয়ছয়। তামিম লক্ষ্য করেছেন, কোনো কর্মী ২৫-৩০ ঘণ্টা ওভারটাইম পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন ৯০ ঘণ্টা। তিনি অভিযোগ করেন, যাদের সঙ্গে অসাধু কর্মকর্তাদের সমঝোতা আছে, তাদেরই ওভারটাইম বেশি দেখিয়ে টাকা তুলে ভাগাভাগি করা হচ্ছে।

এই দুর্নীতি বন্ধে তামিম জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আজ থেকে আপনারা নিজেদের লোক দেবেন। প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে, সরাসরি সেখানে টাকা যাবে। প্রমাণসহ ফিন্যান্সে জমা দিলে তবেই বিল ছাড়ব। না হলে কন্ট্রাক্ট বাতিল করে সরাসরি ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তামিম ইকবাল বলেন, ‘যারা ৭-১০ হাজার টাকায় পরিবার চালায়, তাদের থেকে ৫০০ টাকা নেওয়াও বড় অপরাধ। এই বিষয়ে আমি কোনো ছাড় দেব না, এক শতাংশও না। কোনো গরিব মানুষের ক্ষতি যেন না হয়, আমি সেটি নিশ্চিত করতে চাই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন নিয়ে দুর্নীততে ক্ষুব্ধ তামিম

আপডেট সময় ০৪:৩০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মিরপুর স্টেডিয়ামের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সোচ্চার তামিম ইকবাল। গ্যালারির শৌচাগারের বেহাল দশা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতনে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাবেক এই ওপেনার।

সোমবার (৪ মে) ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উদ্বোধনী দিনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম স্টেডিয়ামের করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত শনিবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্যালারিতে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানে একজন বিদেশি দর্শক বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেন। তামিম বলেন, ‘আমি নিজেই অবাক হয়েছি। ২০০৭ সালে স্টেডিয়াম হওয়ার পর থেকে বাথরুমে কোনো সংস্কার হয়নি, এটা ঠিক না।’

শৌচাগার পরিদর্শনে গিয়েই বেরিয়ে আসে আরও বড় দুর্নীতির খবর। সেখানে কর্মরত এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে তামিম জানতে পারেন, হাড়ভাঙা খাটুনির পর তারা দিনে মাত্র ৩০০ টাকা মজুরি পান। অথচ বিসিবির পক্ষ থেকে কোম্পানিকে দেওয়া হয় ৬৫০ টাকা।

ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে ক্ষুব্ধ তামিম বলেন, ‘একটা কোম্পানি টেন্ডার পায়, কিন্তু বিসিবির লোকজন দিয়েই কাজ করানো হয়। কোম্পানি টাকা নিয়ে আবার অন্য একজনের মাধ্যমে কর্মীদের দেয়, আর মাঝখানে বড় একটা অংশ রেখে দেয়। মাঝখানে কোনো কাজ না করে ২০০-৩০০ টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন। অন্তত ৫০০ টাকা তো ওদের পাওনা।’

কেবল মূল বেতন নয়, ওভারটাইম নিয়েও চলছে নয়ছয়। তামিম লক্ষ্য করেছেন, কোনো কর্মী ২৫-৩০ ঘণ্টা ওভারটাইম পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন ৯০ ঘণ্টা। তিনি অভিযোগ করেন, যাদের সঙ্গে অসাধু কর্মকর্তাদের সমঝোতা আছে, তাদেরই ওভারটাইম বেশি দেখিয়ে টাকা তুলে ভাগাভাগি করা হচ্ছে।

এই দুর্নীতি বন্ধে তামিম জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আজ থেকে আপনারা নিজেদের লোক দেবেন। প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে, সরাসরি সেখানে টাকা যাবে। প্রমাণসহ ফিন্যান্সে জমা দিলে তবেই বিল ছাড়ব। না হলে কন্ট্রাক্ট বাতিল করে সরাসরি ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তামিম ইকবাল বলেন, ‘যারা ৭-১০ হাজার টাকায় পরিবার চালায়, তাদের থেকে ৫০০ টাকা নেওয়াও বড় অপরাধ। এই বিষয়ে আমি কোনো ছাড় দেব না, এক শতাংশও না। কোনো গরিব মানুষের ক্ষতি যেন না হয়, আমি সেটি নিশ্চিত করতে চাই।’