ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণেই মুক্তিযুদ্ধ’: শফিকুর রহমান এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের আবেগ : মির্জা ফখরুল বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করল বিমান সব রকমের উগ্রতা শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে: ফেসবুক পোস্টে ড. শামারুহ জনগণের দেখভাল করাই আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব: সংসদে প্রধানমন্ত্রী গুলি করে হত্যায় দুই ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন ‘জুলাই চেতনা’কে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত করা হবে না:সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলাবাগান থানার এসআই ‘নিখোঁজ’ হরমুজে প্রতিবন্ধকতা বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘শ্বাসরুদ্ধ’ করছে : জাতিসংঘের মহাসচিব এপ্রিলের ২৯ দিনে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল প্রবাসী আয়

এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের আবেগ : মির্জা ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিরোধী দলের উদ্দেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তে সঙ্গে জড়িত।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিনে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অভিযোগ উঠেছে আমাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে আমাদের সম্মানিত এক সদস্য বলেছেন, আমি সংবিধানকে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি এবং সংবিধান যেন ঠিক থাকে-সেই ব্যাপারে আমি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি, হ্যাঁ করেছি। কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত।

মন্ত্রী বলেন, এই সংবিধানের অনেকগুলো আর্টিকেল আছে, অনেকগুলো অধ্যায় আছে, যেগুলো বারবার পরিবর্তন হয়েছে এবং এই সংবিধানকে কেটে কেটে; বলা যেতে পারে একটা কাটছেরা পাতায় পরিণত করা হয়েছে। এই সংবিধানের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি। একটা স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান। মাননীয় স্পিকার অত্যন্ত সত্য কথা বলেছেন সালাহউদ্দিন সাহেব, যে আজকে রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আমরা কথা বলছি, রাষ্ট্রপতি যেই হোন না কেন, তিনি একটি ইন্সটিটিউশন, কোনো ব্যক্তি নয়। একটা প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানকেই আমরা রক্ষা করেছি আমাদের প্রয়োজনে। কারণ ৫ আগস্টের পরে যদি এই রাষ্ট্রপতি না থাকতেন, তাহলে এই রাষ্ট্রে একটা অরাজকতা, একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস, এটা আমাদের বুকেই আমরা ধারণ করি, এটা এই দেশের সব মানুষই ধারণ করে। যখন এই কথাগুলো এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কটাক্ষ করা হয়, তখন তো অবশ্যই আমরাও কষ্ট পাই। এই লাখো মানুষ যারা সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে- তারাও কিন্তু মানুষ একইভাবে কষ্ট পায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনার লন্ডনে যে সভা হলো, যে ঐতিহাসিক বৈঠক আমাদের চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে, সেই বৈঠক সম্পর্কে তারা বিদ্রূপ ও কটাক্ষ করে বলেছেন, সেখানে নাকি আপনার কি একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হয়েছে। যার ফলে আজকে বিএনপি এই পার্লামেন্টে মেজরিটি নিয়ে বসে আছে, অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এই ধরনের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, লন্ডন বৈঠক হয়েছিল বলেই আজকে আমরা এখানে সবাই। কারণ লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনে তারিখ হয়েছিল। ওই বৈঠকেই প্রধান উপদেষ্টা রাজি হয়েছিলেন যে দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি নির্বাচন দেবেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটাও আমাদের সকলকে স্বীকার করে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে সংস্কার বিরোধী বলে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করেন, পোস্টার নিয়ে এসেছেন, পার্লামেন্টে বলেছেন আমরা সংস্কার চাই না। সংস্কারের জনক তো আমরাই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণেই মুক্তিযুদ্ধ’: শফিকুর রহমান

এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের আবেগ : মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১০:২৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিরোধী দলের উদ্দেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তে সঙ্গে জড়িত।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিনে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অভিযোগ উঠেছে আমাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে আমাদের সম্মানিত এক সদস্য বলেছেন, আমি সংবিধানকে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি এবং সংবিধান যেন ঠিক থাকে-সেই ব্যাপারে আমি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি, হ্যাঁ করেছি। কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত।

মন্ত্রী বলেন, এই সংবিধানের অনেকগুলো আর্টিকেল আছে, অনেকগুলো অধ্যায় আছে, যেগুলো বারবার পরিবর্তন হয়েছে এবং এই সংবিধানকে কেটে কেটে; বলা যেতে পারে একটা কাটছেরা পাতায় পরিণত করা হয়েছে। এই সংবিধানের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি। একটা স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান। মাননীয় স্পিকার অত্যন্ত সত্য কথা বলেছেন সালাহউদ্দিন সাহেব, যে আজকে রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আমরা কথা বলছি, রাষ্ট্রপতি যেই হোন না কেন, তিনি একটি ইন্সটিটিউশন, কোনো ব্যক্তি নয়। একটা প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানকেই আমরা রক্ষা করেছি আমাদের প্রয়োজনে। কারণ ৫ আগস্টের পরে যদি এই রাষ্ট্রপতি না থাকতেন, তাহলে এই রাষ্ট্রে একটা অরাজকতা, একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস, এটা আমাদের বুকেই আমরা ধারণ করি, এটা এই দেশের সব মানুষই ধারণ করে। যখন এই কথাগুলো এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কটাক্ষ করা হয়, তখন তো অবশ্যই আমরাও কষ্ট পাই। এই লাখো মানুষ যারা সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে- তারাও কিন্তু মানুষ একইভাবে কষ্ট পায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনার লন্ডনে যে সভা হলো, যে ঐতিহাসিক বৈঠক আমাদের চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে, সেই বৈঠক সম্পর্কে তারা বিদ্রূপ ও কটাক্ষ করে বলেছেন, সেখানে নাকি আপনার কি একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হয়েছে। যার ফলে আজকে বিএনপি এই পার্লামেন্টে মেজরিটি নিয়ে বসে আছে, অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এই ধরনের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, লন্ডন বৈঠক হয়েছিল বলেই আজকে আমরা এখানে সবাই। কারণ লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনে তারিখ হয়েছিল। ওই বৈঠকেই প্রধান উপদেষ্টা রাজি হয়েছিলেন যে দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি নির্বাচন দেবেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটাও আমাদের সকলকে স্বীকার করে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে সংস্কার বিরোধী বলে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করেন, পোস্টার নিয়ে এসেছেন, পার্লামেন্টে বলেছেন আমরা সংস্কার চাই না। সংস্কারের জনক তো আমরাই।