ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংস্কারের নামে’ নির্বাচন ঠেকানোর আশঙ্কা থেকেই আমাদের এই অবস্থান নিতে হয়েছে: সালাহউদ্দিন ‘ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণেই মুক্তিযুদ্ধ’: শফিকুর রহমান এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের আবেগ : মির্জা ফখরুল বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করল বিমান সব রকমের উগ্রতা শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে: ফেসবুক পোস্টে ড. শামারুহ জনগণের দেখভাল করাই আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব: সংসদে প্রধানমন্ত্রী গুলি করে হত্যায় দুই ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন ‘জুলাই চেতনা’কে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত করা হবে না:সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলাবাগান থানার এসআই ‘নিখোঁজ’ হরমুজে প্রতিবন্ধকতা বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘শ্বাসরুদ্ধ’ করছে : জাতিসংঘের মহাসচিব

‘ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণেই মুক্তিযুদ্ধ’: শফিকুর রহমান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণে অনিবার্য হয়ে উঠে মুক্তিযুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যত সময় পর্যন্ত দেশে বিদ্যমান সংবিধান আছে আমরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারি কিন্তু কোনো পরিবর্তনের বিদ্রোহ করব না। একজন নাগরিক হিসেবে এইটাই আমার দায়িত্ব।

জামায়াত আমির বলেন, ১৯৪৭ সালের সীমারেখাকে সম্মান করি, কারণ সেটিই বর্তমান বাংলাদেশের ভিত্তি। তবে নদী রক্ষা করতে না পারায় কিছু জমি হারানোর কথাও উল্লেখ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোট পেলেও সেই জনমতের যথাযথ সম্মান দেয়নি। পাকিস্তান সরকার যেমন ভোটের ফল অস্বীকার করেছিল, তেমনি আওয়ামী লীগও পরে সেই ভোটের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, যে ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণে অনিবার্য হয়ে উঠল মুক্তিযুদ্ধ। তারাই সেই ভোটটাকে আবার গলা টিপে হত্যা করলেন।

এছাড়া বাকশাল ও ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়েও জামায়াত আমির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে পরিবর্তন এনেছেন, তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৭২-এর সংবিধানে ফেরার প্রশ্ন তোলাও যৌক্তিক নয়।

এই নেতা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গল্প শুনতে শুনতে এই মানুষগুলো ক্লান্ত। এখন আর গল্প শুনতে চায় না, তারা পদক্ষেপ দেখতে চায়। নির্বাচনের সময় আমরা কথা দিয়েছিলাম, কে সরকারে আসবে না আসবে, তা আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করবেন। আমরা যদি সেই সুযোগ পাই, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদাল কোপ দেওয়া। এখান থেকেই কাজ শুরু করবো।

জামায়াত আমির বলেন, সারা বাংলাদেশ কমবেশি ঘোরার সুযোগ হয়েছে। সত্যি বলতে, তিস্তাপাড়ের মানুষগুলোর মতো এত দুর্ভাগ্যপীড়িত মানুষ আমি দেশের আর কোথাও দেখিনি।

এই নেতা বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আমার কৃষক পিতাকে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গ্রামের কৃষক। আমি কোনো বিলাসবহুল পরিবেশে জন্ম নেইনি; আমি অভুক্ত মানুষের সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছি। চৈত্র আর কার্তিক মাসে মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হতো। তখন মানুষ বাংলা মাস নিয়েই বেশি কথা বলতো, এখন আমরা অনেকটাই ইংরেজিমুখী হয়ে গেছি।

চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, এরা দলের নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। এদের শনাক্ত করে এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নেই, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করবো। দখলবাজির কারণে বিভিন্ন জায়গায় ইন-ফাইটে অনেক মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে, আমি তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ছোবলের পর জীবন্ত গোখরা সাপ নিয়ে হাসপাতালে যুবক

‘ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণেই মুক্তিযুদ্ধ’: শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ১১:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণে অনিবার্য হয়ে উঠে মুক্তিযুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যত সময় পর্যন্ত দেশে বিদ্যমান সংবিধান আছে আমরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারি কিন্তু কোনো পরিবর্তনের বিদ্রোহ করব না। একজন নাগরিক হিসেবে এইটাই আমার দায়িত্ব।

জামায়াত আমির বলেন, ১৯৪৭ সালের সীমারেখাকে সম্মান করি, কারণ সেটিই বর্তমান বাংলাদেশের ভিত্তি। তবে নদী রক্ষা করতে না পারায় কিছু জমি হারানোর কথাও উল্লেখ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোট পেলেও সেই জনমতের যথাযথ সম্মান দেয়নি। পাকিস্তান সরকার যেমন ভোটের ফল অস্বীকার করেছিল, তেমনি আওয়ামী লীগও পরে সেই ভোটের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, যে ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণে অনিবার্য হয়ে উঠল মুক্তিযুদ্ধ। তারাই সেই ভোটটাকে আবার গলা টিপে হত্যা করলেন।

এছাড়া বাকশাল ও ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়েও জামায়াত আমির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে পরিবর্তন এনেছেন, তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৭২-এর সংবিধানে ফেরার প্রশ্ন তোলাও যৌক্তিক নয়।

এই নেতা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গল্প শুনতে শুনতে এই মানুষগুলো ক্লান্ত। এখন আর গল্প শুনতে চায় না, তারা পদক্ষেপ দেখতে চায়। নির্বাচনের সময় আমরা কথা দিয়েছিলাম, কে সরকারে আসবে না আসবে, তা আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করবেন। আমরা যদি সেই সুযোগ পাই, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদাল কোপ দেওয়া। এখান থেকেই কাজ শুরু করবো।

জামায়াত আমির বলেন, সারা বাংলাদেশ কমবেশি ঘোরার সুযোগ হয়েছে। সত্যি বলতে, তিস্তাপাড়ের মানুষগুলোর মতো এত দুর্ভাগ্যপীড়িত মানুষ আমি দেশের আর কোথাও দেখিনি।

এই নেতা বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আমার কৃষক পিতাকে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গ্রামের কৃষক। আমি কোনো বিলাসবহুল পরিবেশে জন্ম নেইনি; আমি অভুক্ত মানুষের সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছি। চৈত্র আর কার্তিক মাসে মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হতো। তখন মানুষ বাংলা মাস নিয়েই বেশি কথা বলতো, এখন আমরা অনেকটাই ইংরেজিমুখী হয়ে গেছি।

চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, এরা দলের নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। এদের শনাক্ত করে এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নেই, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করবো। দখলবাজির কারণে বিভিন্ন জায়গায় ইন-ফাইটে অনেক মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে, আমি তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।