ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানকালে এক তরুণীকে (৩২) দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাংশা মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে ওই তরুণী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ মামলার দ্বিতীয় আসামি রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদকে (৪০) মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পাংশা শহর থেকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত রাশেদুজ্জামান পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নারায়ণপুর কলেজপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পাংশা শহরের দত্ত মার্কেটের একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর বাড়ি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকায়। তিনি জানান, সোমবার (৩০ মার্চ) ব্যক্তিগত কাজে তিনি পাংশায় আসেন। কাজ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাংশার মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে তিনজন তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেন। এরপর পাংশা উপজেলার কুলটিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইক্রোবাসে করে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন।

এ সময় অভিযুক্ত তিনজন পর্যায়ক্রমে মাইক্রোবাস গাড়ি চালাতে থাকেন এবং মাইক্রোবাসের পেছনের সিটে তরুণীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। রাত ৭টার দিকে অভিযুক্ত তরুণীকে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকার একটি ফাঁকা জায়গায় নামিয়ে চলে যান তারা। পরে ওই তরুণী মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাংশা মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- পাংশা উপজেলার কুলটিয়া এলাকার হাবিবুর রহমান রাজার ছেলে হাসিবুর রহমান অন্তর (৩২), উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের ধানুরিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদ (৪০) ও পারনারায়ণপুর গ্রামের তায়জাল মুন্সীর ছেলে মো. বরকত মুন্সী (৩৪)।

তবে হাসিবুর রহমান অন্তরের সঙ্গে কয়েক বছর আগে থেকে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে কয়েক মাস ধরে তাদের সম্পর্ক ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এছাড়াও ওই তরুণী হাসিবুর রহমান অন্তরের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার একটি আদালতে টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে ওই মামলা চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পাংশা শহরের দত্ত মার্কেট থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদকে গ্রেফতার করে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

তরুণীর সঙ্গে প্রধান আসামির প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে তাদের সেই সম্পর্ক আর নেই। এছাড়া তরুণী পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে কুষ্টিয়ার একটি আদালতে হাসিবুর রহমান অন্তরকে আসামি করে মামলা করেছেন। ওই মামলা চলমান আছে। ওই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আনুষঙ্গিক আইনগত অন্যান্য কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গ্রেফতার রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদকে বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে ওসি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

আপডেট সময় ০৯:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানকালে এক তরুণীকে (৩২) দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাংশা মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে ওই তরুণী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ মামলার দ্বিতীয় আসামি রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদকে (৪০) মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পাংশা শহর থেকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত রাশেদুজ্জামান পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নারায়ণপুর কলেজপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পাংশা শহরের দত্ত মার্কেটের একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর বাড়ি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকায়। তিনি জানান, সোমবার (৩০ মার্চ) ব্যক্তিগত কাজে তিনি পাংশায় আসেন। কাজ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাংশার মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে তিনজন তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেন। এরপর পাংশা উপজেলার কুলটিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইক্রোবাসে করে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন।

এ সময় অভিযুক্ত তিনজন পর্যায়ক্রমে মাইক্রোবাস গাড়ি চালাতে থাকেন এবং মাইক্রোবাসের পেছনের সিটে তরুণীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। রাত ৭টার দিকে অভিযুক্ত তরুণীকে কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকার একটি ফাঁকা জায়গায় নামিয়ে চলে যান তারা। পরে ওই তরুণী মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাংশা মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- পাংশা উপজেলার কুলটিয়া এলাকার হাবিবুর রহমান রাজার ছেলে হাসিবুর রহমান অন্তর (৩২), উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের ধানুরিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদ (৪০) ও পারনারায়ণপুর গ্রামের তায়জাল মুন্সীর ছেলে মো. বরকত মুন্সী (৩৪)।

তবে হাসিবুর রহমান অন্তরের সঙ্গে কয়েক বছর আগে থেকে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে কয়েক মাস ধরে তাদের সম্পর্ক ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এছাড়াও ওই তরুণী হাসিবুর রহমান অন্তরের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার একটি আদালতে টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে ওই মামলা চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পাংশা শহরের দত্ত মার্কেট থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদকে গ্রেফতার করে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

তরুণীর সঙ্গে প্রধান আসামির প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে তাদের সেই সম্পর্ক আর নেই। এছাড়া তরুণী পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে কুষ্টিয়ার একটি আদালতে হাসিবুর রহমান অন্তরকে আসামি করে মামলা করেছেন। ওই মামলা চলমান আছে। ওই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আনুষঙ্গিক আইনগত অন্যান্য কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গ্রেফতার রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদকে বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে ওসি জানান।