আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জাকাত ইসলামের ফরজ বিধান, ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান পুরুষ ও নারীর প্রতি বছর নিজের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে জাকাত বলা হয়।
পবিত্র কুরআনে আট শ্রেণির মানুষকে জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত গণ্য করে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, নিশ্চয় সদকা হচ্ছে দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; তা বণ্টন করা যায় দাস আজাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা তওবা: ৬০)
যে ৩ ধরনের আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যায় না-
নিজের সম্পদের ওপর পূর্ণ মালিকানা থাকলেও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নিচের তিন শ্রেণির নিকটাত্মীয়কে জাকাতের টাকা দেওয়া নিষেধ:
ঊর্ধ্বতন আত্মীয়: নিজের জন্মদাতা বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং তাদের ওপরের দিকের কাউকে জাকাত দেওয়া যাবে না।
অধস্তন বংশধর: নিজের ঔরসজাত সন্তান (ছেলে-মেয়ে), নাতি-নাতনি এবং তাদের নিচের দিকের কাউকে জাকাত দেওয়া যাবে না।
জীবনসঙ্গী: স্বামী তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রী তার স্বামীকে জাকাতের টাকা দিতে পারেন না।
এই তিন ধরনের আত্মীয়রা যদি অভাবগ্রস্ত হন, তাহলে নিজের সাধারণ সম্পদ থেকেই যথাসাধ্য তাদের সাহায্য করা কর্তব্য। তাই তাদের জাকাত দেওয়া যায় না।
যেসব আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া উত্তম:
উপরের তিন শ্রেণি বাদে অন্যান্য আত্মীয় যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত (গরিব বা অভাবী) হন, তবে তাদের জাকাত দেওয়া সাধারণ মানুষকে দেওয়ার চেয়েও বেশি সওয়াবের কাজ। এতে একই সঙ্গে জাকাত আদায় এবং আত্মীয়তার হক (সিলাহ রেহমি) রক্ষা হয়। যেমন:
#ভাই ও বোন
#চাচা-চাচি ও ফুফু-ফুফা
#মামা-মামি ও খালা-খালু
#শ্বশুর-শাশুড়ি (যদি তারা অভাবী হন)
পবিত্র কুরআনের সূরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা জাকাত গ্রহণের জন্য ৮টি খাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন:
১. ফকির: যার জীবনধারণের ন্যূনতম সম্বল নেই।
২. মিসকিন: যার কিছু সম্পদ থাকলেও তা নিসাব পরিমাণ নয় বা প্রয়োজনের তুলনায় কম।
৩. জাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মচারী: যারা জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের কাজে নিয়োজিত।
৪. নওমুসলিম: যাদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা বা ইমান মজবুত করা প্রয়োজন।
৫. দাস মুক্তি: বন্দি বা দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি: যার নিজের ঋণ পরিশোধ করার মতো অতিরিক্ত সম্পদ নেই।
৭. আল্লাহর পথে জিহাদ: দ্বীনের কাজে বা জিহাদে নিয়োজিত ব্যক্তি।
৮. মুসাফির: সফরের অবস্থায় যিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন (দেশে সম্পদ থাকলেও)।
আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কেউ এই শ্রেণীগুলোর মধ্যে পড়লে অর্থাৎ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে আত্মীয়তার স্তর হিসেবে অনেককে জাকাত দেওয়া যায়, অনেককে জাকাত দেওয়া যায় না।
নিকটাত্মীয়দের জাকাত দেওয়ার সঠিক নিয়ম ও মাসআলা FAQ
প্রশ্ন: বোনকে কি জাকাত দেওয়া যায়?
উত্তর: বোন যদি অভাবী হন এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন, তবে তাকে জাকাত দেওয়া কেবল জায়েজই নয় বরং বেশি সওয়াবের কাজ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























