ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল মহাকাশের অদ্ভুত দৃশ্য

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশে এমন অনেক দৃশ্য আছে যা মানুষকে বিস্মিত করে। এবার তেমনই এক রহস্যময় দৃশ্যের ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ছবিটি তুলেছে শক্তিশালী হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। এতে দেখা গেছে এক অদ্ভুত নীহারিকা, যার নাম এগ নীহারিকা বা ডিম নীহারিকা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি পৃথিবী থেকে প্রায় এক হাজার আলোকবর্ষ দূরে। এটি সিগনাস নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। ছবিতে দেখা যায়, মাঝখানে একটি তারা রয়েছে। কিন্তু সেই তারাটি ঘন ধুলোর মেঘে ঢাকা। পুরো গঠনটি দেখতে অনেকটা ডিমের কুসুমের মতো, যার চারপাশে সাদা অংশের মতো ধুলোর স্তর আছে।

গবেষকদের মতে, এটি একটি প্রি-প্ল্যানেটারি নীহারিকা (অর্থাৎ গ্রহীয় নীহারিকা। সহজভাবে বললে, কোনো তারা যখন ধীরে ধীরে শেষের দিকে যায়, তখন তার বাইরের স্তর মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস ও ধুলোর মেঘ দিয়েই এমন নীহারিকা তৈরি হয়।

হাবলের ছবিতে দেখা গেছে, মরে যাওয়া তারাটি থেকে দুটি উজ্জ্বল আলোর রেখা বের হয়েছে। এই আলো দ্রুত গতিতে ধুলোর মেঘ ভেদ করে বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তারার আশেপাশে হয়তো আরও এক বা একাধিক ছোট তারা লুকিয়ে আছে। তাদের টানের কারণেও এমন অদ্ভুত গঠন তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, এ ধরনের পুরোনো তারা মহাকাশে অনেক কসমিক ডাস্ট বা মহাজাগতিক ধুলো ছড়িয়ে দেয়। এই ধুলো থেকেই ভবিষ্যতে নতুন তারা ও গ্রহ তৈরি হতে পারে। অনেক বিজ্ঞানীর মতে, আমাদের সৌরজগতও প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে এমন ধুলোর মেঘ থেকেই তৈরি হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এই ধাপ খুব বেশি দিন থাকে না। কয়েক হাজার বছরের মধ্যেই এটি বদলে যায়। তাই এমন নীহারিকা নিয়ে গবেষণা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে মহাকাশে তারা জন্ম ও মৃত্যুর রহস্য আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল মহাকাশের অদ্ভুত দৃশ্য

আপডেট সময় ০৯:৩১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশে এমন অনেক দৃশ্য আছে যা মানুষকে বিস্মিত করে। এবার তেমনই এক রহস্যময় দৃশ্যের ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ছবিটি তুলেছে শক্তিশালী হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। এতে দেখা গেছে এক অদ্ভুত নীহারিকা, যার নাম এগ নীহারিকা বা ডিম নীহারিকা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি পৃথিবী থেকে প্রায় এক হাজার আলোকবর্ষ দূরে। এটি সিগনাস নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। ছবিতে দেখা যায়, মাঝখানে একটি তারা রয়েছে। কিন্তু সেই তারাটি ঘন ধুলোর মেঘে ঢাকা। পুরো গঠনটি দেখতে অনেকটা ডিমের কুসুমের মতো, যার চারপাশে সাদা অংশের মতো ধুলোর স্তর আছে।

গবেষকদের মতে, এটি একটি প্রি-প্ল্যানেটারি নীহারিকা (অর্থাৎ গ্রহীয় নীহারিকা। সহজভাবে বললে, কোনো তারা যখন ধীরে ধীরে শেষের দিকে যায়, তখন তার বাইরের স্তর মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস ও ধুলোর মেঘ দিয়েই এমন নীহারিকা তৈরি হয়।

হাবলের ছবিতে দেখা গেছে, মরে যাওয়া তারাটি থেকে দুটি উজ্জ্বল আলোর রেখা বের হয়েছে। এই আলো দ্রুত গতিতে ধুলোর মেঘ ভেদ করে বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তারার আশেপাশে হয়তো আরও এক বা একাধিক ছোট তারা লুকিয়ে আছে। তাদের টানের কারণেও এমন অদ্ভুত গঠন তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, এ ধরনের পুরোনো তারা মহাকাশে অনেক কসমিক ডাস্ট বা মহাজাগতিক ধুলো ছড়িয়ে দেয়। এই ধুলো থেকেই ভবিষ্যতে নতুন তারা ও গ্রহ তৈরি হতে পারে। অনেক বিজ্ঞানীর মতে, আমাদের সৌরজগতও প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে এমন ধুলোর মেঘ থেকেই তৈরি হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এই ধাপ খুব বেশি দিন থাকে না। কয়েক হাজার বছরের মধ্যেই এটি বদলে যায়। তাই এমন নীহারিকা নিয়ে গবেষণা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে মহাকাশে তারা জন্ম ও মৃত্যুর রহস্য আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।