ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ ডিএনসিসির অর্থনৈতিক অবস্থার বেহাল দশা: প্রশাসক শফিকুল শিশুটিকে পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করে প্রতিবেশী বাবু: পুলিশ ‘পুরোনো সংবিধানের কথা বললে হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় হবে কি না, সিদ্ধান্ত সংসদে: ইসি আনোয়ারুল ভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাচলের কারণে যানবাহনের গতি বেড়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ইসরাইলের হামলা খামেনি হত্যার প্রতিবাদে বগুড়ায় বিক্ষোভ, ইসরাইলি পতাকায় আগুন বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য জোগাতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র’

আজ বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

আকাশপ্রেমীদের জন্য আজ এক বিশেষ দিন। বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ লালচে রঙ ধারণ করবে, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তাভ চাঁদ নামে পরিচিত।

পরবর্তীবার এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত। এর আগে রবিবার (১ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণ গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। এই গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় ও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে।

কখন ও কোথায় দেখা যাবে?

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় গতিপথ হবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে। এছাড়াও এটি কিমম্যান রিফ জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হুল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং ফিলিপাইন সাগরে অবস্থিত মাইক্রোনেশিয়ার কোসরাই দ্বীপ ও লুগাও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে দৃশ্যমান হবে।

বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণের সময়-

বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণ শুরুর সময় নিম্নরূপ:

* চট্টগ্রাম: বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

* সিলেট: বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

* রাজশাহী: সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

* খুলনা: সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড

* বরিশাল: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড

* ময়মনসিংহ: সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

* রংপুর: সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই, তবে দূরবীন ব্যবহার করলে দৃশ্য আরও স্পষ্ট দেখা যেতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ

আপডেট সময় ০২:৫২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

আকাশপ্রেমীদের জন্য আজ এক বিশেষ দিন। বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ লালচে রঙ ধারণ করবে, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তাভ চাঁদ নামে পরিচিত।

পরবর্তীবার এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত। এর আগে রবিবার (১ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণ গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। এই গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় ও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে।

কখন ও কোথায় দেখা যাবে?

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় গতিপথ হবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে। এছাড়াও এটি কিমম্যান রিফ জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হুল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং ফিলিপাইন সাগরে অবস্থিত মাইক্রোনেশিয়ার কোসরাই দ্বীপ ও লুগাও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে দৃশ্যমান হবে।

বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণের সময়-

বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণ শুরুর সময় নিম্নরূপ:

* চট্টগ্রাম: বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

* সিলেট: বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

* রাজশাহী: সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

* খুলনা: সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড

* বরিশাল: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড

* ময়মনসিংহ: সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

* রংপুর: সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই, তবে দূরবীন ব্যবহার করলে দৃশ্য আরও স্পষ্ট দেখা যেতে পারে।