ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

আইন বনাম মানবিকতা, মালয়েশিয়ায় ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্ক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বিদেশিদের ওপর পরিচালিত ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে দেশটিতে জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা কতটা সংবেদনশীল- তা নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী জায়েদ ইব্রাহিমের মতে, উৎসবমুখর পরিবেশে কঠোর আইন প্রয়োগ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিক নয়। অনেক বিদেশি কেবল বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে হারি রায়া উদযাপন করতে চান। এ সময় তাদের ওপর অভিযান চালানো অমানবিক মনে হতে পারে।

‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে বাস টার্মিনাল, শপিংমল এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এর লক্ষ্য- বিদেশিদের কাগজপত্র যাচাই করে তাদের অবস্থানের বৈধতা নিশ্চিত করা। তবে একযোগে শতশত মানুষের ওপর এমন যাচাই-বাছাই পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে যখন পুরো দেশ উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

জায়েদ ইব্রাহিম আরও উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতির জন্য কেবল ব্যক্তিরা দায়ী নয় বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফল। তিনি কর্তৃপক্ষকে আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অন্তত উৎসবের সময়টুকু মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক রাখা উচিত।

সমালোচনার জবাবে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এ অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয় বরং এটি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।

ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলী বলেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। উৎসবের সময় হলেও এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকা বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অভিযান পরিচালিত হয় কেবল আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে।

তার ভাষায়, যেখানেই থাকুন, সেখানকার আইন মেনে চলতে হবে- এই নীতি সবার জন্যই প্রযোজ্য।

উৎসবের সময় অভিযান চালানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখালে অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সময় বা পরিস্থিতি নির্বিশেষে নিয়মিত অভিযান চালানো অপরিহার্য।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, পেটালিং জেলার কয়েকটি ‘হটস্পট’ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ১৩৭ জনকে যাচাই করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযান পরিচালিত হয় শাহ আলমের তামান শ্রী মুদা বাজার, দাতারান অটোমোবিল এবং টার্মিনাল ১৭-সহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে।

এ ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে অনেকেই মনে করছেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন অভিযান প্রয়োজন। অন্যদিকে, অনেকে এটিকে উৎসবের সময় মানবিক সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে দেখছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

আইন বনাম মানবিকতা, মালয়েশিয়ায় ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্ক

আপডেট সময় ১১:১৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বিদেশিদের ওপর পরিচালিত ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে দেশটিতে জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা কতটা সংবেদনশীল- তা নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী জায়েদ ইব্রাহিমের মতে, উৎসবমুখর পরিবেশে কঠোর আইন প্রয়োগ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিক নয়। অনেক বিদেশি কেবল বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে হারি রায়া উদযাপন করতে চান। এ সময় তাদের ওপর অভিযান চালানো অমানবিক মনে হতে পারে।

‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে বাস টার্মিনাল, শপিংমল এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এর লক্ষ্য- বিদেশিদের কাগজপত্র যাচাই করে তাদের অবস্থানের বৈধতা নিশ্চিত করা। তবে একযোগে শতশত মানুষের ওপর এমন যাচাই-বাছাই পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে যখন পুরো দেশ উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

জায়েদ ইব্রাহিম আরও উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতির জন্য কেবল ব্যক্তিরা দায়ী নয় বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফল। তিনি কর্তৃপক্ষকে আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অন্তত উৎসবের সময়টুকু মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক রাখা উচিত।

সমালোচনার জবাবে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এ অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয় বরং এটি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।

ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলী বলেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। উৎসবের সময় হলেও এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকা বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অভিযান পরিচালিত হয় কেবল আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে।

তার ভাষায়, যেখানেই থাকুন, সেখানকার আইন মেনে চলতে হবে- এই নীতি সবার জন্যই প্রযোজ্য।

উৎসবের সময় অভিযান চালানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখালে অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সময় বা পরিস্থিতি নির্বিশেষে নিয়মিত অভিযান চালানো অপরিহার্য।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, পেটালিং জেলার কয়েকটি ‘হটস্পট’ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ১৩৭ জনকে যাচাই করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযান পরিচালিত হয় শাহ আলমের তামান শ্রী মুদা বাজার, দাতারান অটোমোবিল এবং টার্মিনাল ১৭-সহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে।

এ ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে অনেকেই মনে করছেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন অভিযান প্রয়োজন। অন্যদিকে, অনেকে এটিকে উৎসবের সময় মানবিক সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে দেখছেন।