ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

আইন বনাম মানবিকতা, মালয়েশিয়ায় ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্ক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বিদেশিদের ওপর পরিচালিত ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে দেশটিতে জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা কতটা সংবেদনশীল- তা নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী জায়েদ ইব্রাহিমের মতে, উৎসবমুখর পরিবেশে কঠোর আইন প্রয়োগ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিক নয়। অনেক বিদেশি কেবল বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে হারি রায়া উদযাপন করতে চান। এ সময় তাদের ওপর অভিযান চালানো অমানবিক মনে হতে পারে।

‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে বাস টার্মিনাল, শপিংমল এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এর লক্ষ্য- বিদেশিদের কাগজপত্র যাচাই করে তাদের অবস্থানের বৈধতা নিশ্চিত করা। তবে একযোগে শতশত মানুষের ওপর এমন যাচাই-বাছাই পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে যখন পুরো দেশ উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

জায়েদ ইব্রাহিম আরও উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতির জন্য কেবল ব্যক্তিরা দায়ী নয় বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফল। তিনি কর্তৃপক্ষকে আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অন্তত উৎসবের সময়টুকু মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক রাখা উচিত।

সমালোচনার জবাবে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এ অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয় বরং এটি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।

ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলী বলেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। উৎসবের সময় হলেও এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকা বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অভিযান পরিচালিত হয় কেবল আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে।

তার ভাষায়, যেখানেই থাকুন, সেখানকার আইন মেনে চলতে হবে- এই নীতি সবার জন্যই প্রযোজ্য।

উৎসবের সময় অভিযান চালানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখালে অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সময় বা পরিস্থিতি নির্বিশেষে নিয়মিত অভিযান চালানো অপরিহার্য।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, পেটালিং জেলার কয়েকটি ‘হটস্পট’ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ১৩৭ জনকে যাচাই করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযান পরিচালিত হয় শাহ আলমের তামান শ্রী মুদা বাজার, দাতারান অটোমোবিল এবং টার্মিনাল ১৭-সহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে।

এ ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে অনেকেই মনে করছেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন অভিযান প্রয়োজন। অন্যদিকে, অনেকে এটিকে উৎসবের সময় মানবিক সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে দেখছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তাইওয়ানে টাইফুন চাম্পির তাণ্ডব: নিহত ১, বিদ্যুৎহীন হাজারো ঘরবাড়ি

আইন বনাম মানবিকতা, মালয়েশিয়ায় ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্ক

আপডেট সময় ১১:১৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বিদেশিদের ওপর পরিচালিত ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে দেশটিতে জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা কতটা সংবেদনশীল- তা নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী জায়েদ ইব্রাহিমের মতে, উৎসবমুখর পরিবেশে কঠোর আইন প্রয়োগ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিক নয়। অনেক বিদেশি কেবল বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে হারি রায়া উদযাপন করতে চান। এ সময় তাদের ওপর অভিযান চালানো অমানবিক মনে হতে পারে।

‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে বাস টার্মিনাল, শপিংমল এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এর লক্ষ্য- বিদেশিদের কাগজপত্র যাচাই করে তাদের অবস্থানের বৈধতা নিশ্চিত করা। তবে একযোগে শতশত মানুষের ওপর এমন যাচাই-বাছাই পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে যখন পুরো দেশ উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

জায়েদ ইব্রাহিম আরও উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতির জন্য কেবল ব্যক্তিরা দায়ী নয় বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফল। তিনি কর্তৃপক্ষকে আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অন্তত উৎসবের সময়টুকু মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক রাখা উচিত।

সমালোচনার জবাবে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এ অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয় বরং এটি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।

ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলী বলেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। উৎসবের সময় হলেও এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকা বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অভিযান পরিচালিত হয় কেবল আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে।

তার ভাষায়, যেখানেই থাকুন, সেখানকার আইন মেনে চলতে হবে- এই নীতি সবার জন্যই প্রযোজ্য।

উৎসবের সময় অভিযান চালানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখালে অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সময় বা পরিস্থিতি নির্বিশেষে নিয়মিত অভিযান চালানো অপরিহার্য।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, পেটালিং জেলার কয়েকটি ‘হটস্পট’ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ১৩৭ জনকে যাচাই করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযান পরিচালিত হয় শাহ আলমের তামান শ্রী মুদা বাজার, দাতারান অটোমোবিল এবং টার্মিনাল ১৭-সহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে।

এ ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে অনেকেই মনে করছেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন অভিযান প্রয়োজন। অন্যদিকে, অনেকে এটিকে উৎসবের সময় মানবিক সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে দেখছেন।