ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব ইরানের ৪২ যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে দিল্লি: প্রণয় ভার্মা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলেই আক্রমণ, প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি ইরানের শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে: জোনায়েদ সাকি কুমিল্লায় মন্দিরে দুর্বৃত্তের রেখে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ, পুরোহিতসহ আহত ৪ আবেগি পোস্ট দিয়ে দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত নেতা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান: ব্লুমবার্গ চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মুখে আজকের মুসলিম বিশ্ব: মামুনুল হক

সদ্যপ্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধে আলভীর অভিযোগ

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান আফরা ইভনাথ খান ইকরা, যিনি ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী। প্রথমে শোক আর আবেগের কথা বললেও অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে গেছে তার বক্তব্যের সুর। এবার প্রয়াত স্ত্রী ইকরার বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি উল্টো প্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ তোলেন। সেই পোস্টে আলভী দাবি করেন, তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।

তার দাবি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দিন ইকরা বাসায় বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিলেন এবং সেখানে মদ্যপানও হয়েছিল। এমনকি ঘটনার আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আলভী আরও বলেন, ঘটনার আগের রাতে যদি মদ্যপান বা মাদক সেবন হয়ে থাকে, তাহলে তা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উঠে আসার কথা। তাই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যেন কোনোভাবেই পরিবর্তন না করা হয়—এ বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া আলভী দাবি করেন, তাদের বাসার ড্রইং-কাম-ডাইনিং এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যার এক্সেস তাঁর কাছে ছিল না এবং সেটি ইকরার ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে ইকরার ফোন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, ওই সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগের কয়েক দিনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। তাই ওই তিন দিনের ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে না যায়—এ বিষয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

দীর্ঘ ওই পোস্টে দাম্পত্যজীবন ও অতীত নিয়ে আলভী বলেন, ২০১০ সালে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে দুই পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে একসময় ইকরাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। আলভীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ইকরা সেই সম্পর্ক থেকে ফিরে এসে আবার তার সঙ্গে সংসার শুরু করেন এবং তিনি তাকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেন।

পোস্টের শেষ দিকে আলভী আরও দাবি করেন, বিভিন্ন মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধ পরায়ণতা ও কর্মক্ষেত্রের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি বিপদে পড়তে পারেন। এমনকি তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথমে আবেগঘন বক্তব্য ও কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ—এই বিপরীতমুখী অবস্থান ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, একটি সংবেদনশীল ঘটনার পর এ ধরনের প্রকাশ্য অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং প্রয়াত একজন মানুষের সম্মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন বলে জানান। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সেদিন নিজের ফেসবুক পোস্টে আলভী লেখেন, ‘আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না, আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব

সদ্যপ্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধে আলভীর অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান আফরা ইভনাথ খান ইকরা, যিনি ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী। প্রথমে শোক আর আবেগের কথা বললেও অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে গেছে তার বক্তব্যের সুর। এবার প্রয়াত স্ত্রী ইকরার বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি উল্টো প্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ তোলেন। সেই পোস্টে আলভী দাবি করেন, তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।

তার দাবি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দিন ইকরা বাসায় বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিলেন এবং সেখানে মদ্যপানও হয়েছিল। এমনকি ঘটনার আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আলভী আরও বলেন, ঘটনার আগের রাতে যদি মদ্যপান বা মাদক সেবন হয়ে থাকে, তাহলে তা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উঠে আসার কথা। তাই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যেন কোনোভাবেই পরিবর্তন না করা হয়—এ বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া আলভী দাবি করেন, তাদের বাসার ড্রইং-কাম-ডাইনিং এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যার এক্সেস তাঁর কাছে ছিল না এবং সেটি ইকরার ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে ইকরার ফোন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, ওই সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগের কয়েক দিনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। তাই ওই তিন দিনের ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে না যায়—এ বিষয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

দীর্ঘ ওই পোস্টে দাম্পত্যজীবন ও অতীত নিয়ে আলভী বলেন, ২০১০ সালে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে দুই পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে একসময় ইকরাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। আলভীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ইকরা সেই সম্পর্ক থেকে ফিরে এসে আবার তার সঙ্গে সংসার শুরু করেন এবং তিনি তাকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেন।

পোস্টের শেষ দিকে আলভী আরও দাবি করেন, বিভিন্ন মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধ পরায়ণতা ও কর্মক্ষেত্রের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি বিপদে পড়তে পারেন। এমনকি তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথমে আবেগঘন বক্তব্য ও কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রয়াত স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ—এই বিপরীতমুখী অবস্থান ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, একটি সংবেদনশীল ঘটনার পর এ ধরনের প্রকাশ্য অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং প্রয়াত একজন মানুষের সম্মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন বলে জানান। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সেদিন নিজের ফেসবুক পোস্টে আলভী লেখেন, ‘আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না, আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।’